Перейти к содержимому

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজো | 25th October 2026

D Bhattacharjee

0:00 / 0:00

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজো | 25th October 2026

55 просмотров · 13 дн. назад
D Bhattacharjee
19 подписчиков
55 просмотров · 13 дн. назад
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা: ভক্তি, বিশ্বাস, সমৃদ্ধি ও গৃহশান্তির এক পবিত্র উৎসব আজ আমার ঘরে অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। এই পূজা কেবলমাত্র দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা নয়; এটি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ জীবন গড়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস। সংসারের প্রতিটি কোণে শান্তি, শৃঙ্খলা, ভালোবাসা ও মঙ্গল প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন সঙ্গী, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা সেই আকাঙ্ক্ষাকেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রূপ দেয়। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যীর গৃহে আজকের এই পূজার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেই চিরন্তন বিশ্বাস—সংসারের প্রকৃত সমৃদ্ধি কেবল অর্থসম্পদে নয়, বরং ভক্তি, সততা, পরিশ্রম, পারিবারিক ঐক্য এবং ঈশ্বরের প্রতি গভীর আস্থার মধ্যেও নিহিত। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা কী? কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হিন্দু ধর্মের একটি বিশেষ পূজা, যা সাধারণত আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে, অর্থাৎ শারদপূর্ণিমার রাতে পালিত হয়। বাংলায় এই পূজা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা নামে পরিচিত। দুর্গাপূজার আনন্দের পর বাঙালি পরিবারে এই পূজা নিয়ে আসে এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও পবিত্র আবহ। 'কোজাগরী' শব্দটির সঙ্গে প্রচলিত সংস্কৃত প্রশ্ন 'কো জাগর্তি?'—অর্থাৎ 'কে জেগে আছে?'—এর সম্পর্ক রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুসারে, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী জগতে পরিভ্রমণ করেন এবং জাগ্রত, সচেতন ও তাঁর আরাধনায় নিয়োজিত ভক্তদের কৃপা করেন। এই বিশ্বাসের তাৎপর্য শুধু সারারাত জেগে থাকা নয়; বরং নিজের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, অলসতা পরিহার করা এবং জীবনের কল্যাণকর কাজগুলির প্রতি সজাগ থাকা। এই রাতের পূর্ণিমার আলো প্রকৃতি ও মানুষের মনে এক বিশেষ পবিত্রতার অনুভূতি জাগায়। সেই পরিবেশে লক্ষ্মীর আরাধনা হয়ে ওঠে সৌন্দর্য, শান্তি ও মঙ্গলের এক অনন্য প্রকাশ। কেন দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়? হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী লক্ষ্মী হলেন ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি, সৌন্দর্য ও মঙ্গলের দেবী। সাধারণভাবে আমরা সম্পদ বলতে অর্থ, সোনা, জমি কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সম্পত্তিকে বুঝি। কিন্তু লক্ষ্মীতত্ত্বের অর্থ আরও ব্যাপক। একটি সংসারে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও যদি শান্তি না থাকে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা না থাকে, স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে কিংবা উপার্জনের পথে সততা বজায় না থাকে, তবে সেই সংসারকে প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ বলা যায় না। অন্যদিকে, যে পরিবারে পরিশ্রমের মর্যাদা আছে, অর্থের সৎ ব্যবহার হয়, বড়দের সম্মান করা হয়, ছোটদের স্নেহ করা হয় এবং বিপদের সময় সবাই পরস্পরের পাশে দাঁড়ায়, সেখানে প্রকৃত লক্ষ্মীর প্রকাশ ঘটে। এই অর্থে দেবী লক্ষ্মী কেবল ধনসম্পদের প্রতীক নন; তিনি সুশৃঙ্খল, সংযত ও কল্যাণময় জীবনযাপনেরও প্রতীক। তাঁকে পূজা করার মাধ্যমে মানুষ নিজের জীবনে প্রাচুর্যের পাশাপাশি সেই প্রাচুর্যকে সঠিকভাবে ধারণ ও ব্যবহারের শক্তিও কামনা করে। ৩. ঘরে ঘরে কেন লক্ষ্মীপূজা করা হয়? বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা পালনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং কৃষিনির্ভর সমাজের ইতিহাস। প্রাচীন বাংলার মানুষের জীবন অনেকাংশে কৃষি, ফসল এবং প্রকৃতির অনুকূল অবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। ভালো ফসল মানে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা, আর্থিক স্বস্তি এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চয়তা। তাই দেবী লক্ষ্মীর কাছে শস্য, খাদ্য, সম্পদ ও গৃহের মঙ্গল কামনা করা ছিল স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কৃষিভিত্তিক বিশ্বাস বৃহত্তর পারিবারিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। আজও বহু বাঙালি পরিবারে লক্ষ্মীপূজার দিন ঘর পরিষ্কার করা হয়, আলপনা দেওয়া হয়, প্রদীপ জ্বালানো হয়, ফলমূল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয় এবং দেবীর সামনে পরিবারের মঙ্গল কামনা করা হয়। লক্ষ্মীর পায়ের আলপনা দিয়ে তাঁকে ঘরে আহ্বান করার প্রথার মধ্যে রয়েছে একটি সুন্দর প্রতীকী ভাবনা—আমাদের গৃহে যেন শুভশক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধির আগমন ঘটে। তবে এই পূজার একটি গভীর শিক্ষাও রয়েছে। যে ঘর পরিচ্ছন্ন, যে সংসারে অপচয় কম, যে পরিবারে উপার্জন ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য আছে এবং যে গৃহে পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় থাকে, সেই গৃহেই সমৃদ্ধিকে দীর্ঘস্থায়ী করার বাস্তব ভিত্তি তৈরি হয়। অতএব, লক্ষ্মীপূজা একদিকে যেমন দেবীর প্রতি ভক্তি নিবেদনের অনুষ্ঠান, অন্যদিকে তেমনই একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সংসার গড়ে তোলার মানসিক অঙ্গীকার। ৪. দীপঙ্কর ভট্টাচার্যীর ভক্তিপূর্ণ লক্ষ্মীপূজা আজ দীপঙ্কর ভট্টাচার্যীর গৃহে অনুষ্ঠিত কোজাগরী লক্ষ্মীপূজাকে এই বিশ্বাস ও অনুভূতিরই একটি আন্তরিক প্রকাশ হিসেবে দেখা যায়। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বাঙালির ধর্মীয় জীবন ও পারিবারিক সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি দেবী লক্ষ্মীর প্রতি ভক্তি নিবেদনের পাশাপাশি আমাদের শেখায় কৃতজ্ঞতা, পরিচ্ছন্নতা, সংযম, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং পারিবারিক ঐক্যের মূল্য। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যীর গৃহে আজকের এই পূজা তাই কেবল একটি দিনের ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্যে রয়েছে একটি সুন্দর সংসারের জন্য প্রার্থনা, জীবনের প্রাপ্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আগামী দিনগুলিকে আরও কল্যাণময় করে তোলার প্রত্যাশা। দেবী লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা—এই গৃহে যেন সর্বদা শান্তি, সুস্বাস্থ্য, সদ্ভাব ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে। পরিবারের সকল সদস্য যেন সৎ পথে চলার শক্তি পান, তাঁদের কর্মে সাফল্য আসে এবং উপার্জিত সম্পদ যেন সঠিক কাজে ব্যবহৃত হয়। অভাবের দিনে যেন ধৈর্য থাকে, প্রাচুর্যের দিনে যেন বিনয় থাকে এবং প্রতিটি পরিস্থিতিতে যেন মানুষের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকে। শুভ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় দীপঙ্কর ভট্টাচার্যীর গৃহে যেন সুখ, শান্তি, সৌভাগ্য ও মঙ্গলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এই পূজার আলো শুধু ঠাকুরঘরে নয়, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মনেও জ্বলে উঠুক—ভক্তির আলো, বিবেকের আলো এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আলো।