মাওলানা মামুনুল হকের লিখনীতে আজ চরমোনাই ও কওমীরা মিথ্যুক প্রমাণিত হলো। মুফতী নুরুজ্জামান নোমানী
MNN ISLAMIC TV
0:00 / 0:00
মাওলানা মামুনুল হকের লিখনীতে আজ চরমোনাই ও কওমীরা মিথ্যুক প্রমাণিত হলো। মুফতী নুরুজ্জামান নোমানী
269 просмотров · 2 часа назад
MNN ISLAMIC TV
201 тыс. подписчиков
269 просмотров · 2 часа назад
আকাবিরের আদর্শ ও আমাদের রাজনীতির পর্যালোচনা
মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্যের আলোকে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
১. শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-এর বিরুদ্ধে অপবাদের অভিযোগ
মাওলানা মামুনুল হক তাঁর লেখায় একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় খণ্ডকালীন বুখারী শরীফের দরস দেওয়ার সময় তিনি জানতে পারেন, হযরত আরশাদ মাদানী হাফিজাহুল্লাহর সাহেবজাদার কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-এর পিতা হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-কে গালাগালি ও তাকফীর করতেন।
লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহতামিম মাওলানা মুনির কাসেমী ও মুহাদ্দিস মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী এই অভিযোগ শুনে বিস্মিত হন এবং অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁরা জানান, শায়খুল হাদীস রহ. ও তাঁর পিতা হযরত মাদানী রহ.-এর বিরুদ্ধে এমন কটু কথা বলেছেন বলে তাঁরা জানেন না।
পরবর্তী সময়ে হযরত আরশাদ মাদানী রহ. সেই অভিযোগ উপেক্ষা করে খতমে বুখারীর দাওয়াত গ্রহণ করেন।
মামুনুল হকের মতে, ঘটনাটি শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অপবাদ প্রচারের একটি দৃষ্টান্ত।
২. চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য
মামুনুল হকের লেখায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রধানত কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে।
ক. দেওবন্দি ধারার ঐক্য
লেখকের দাবি, জুলাই বিপ্লবের পর হেফাজতে ইসলাম দেওবন্দি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিলেও নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই উদ্যোগে যথাযথ সাড়া দেয়নি।
খ. জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা
লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, বিএনপির প্রতি ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতাপূর্ণ অবস্থানের কারণে দলটি ধীরে ধীরে জামায়াতে ইসলামীর কাছাকাছি চলে যায়। চরমোনাইয়ে জামায়াতের আমিরের সফর, ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে জামায়াতের অংশগ্রহণ এবং দুই দলের কর্মীদের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতাকে তিনি এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গ. আসন বণ্টনে সমঝোতার ব্যর্থতা
লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচনী আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ৫০ নাকি ১০০ আসন—এ ধরনের দরকষাকষিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনাকে জটিল করে তোলে।
ঘ. ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে সরে আসা
লেখকের দাবি, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইসলামী আন্দোলন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে সরে দাঁড়ায়। তাঁর মূল্যায়নে, এই সিদ্ধান্তে দলটির দীর্ঘদিনের অর্জিত রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঙ. রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে সমালোচনা
লেখক মনে করেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগ, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কিংবা কোনো একটি দলের প্রতি অনমনীয় মনোভাবের পরিবর্তে বাস্তবতা, দূরদর্শিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
৩. জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সম্পর্কে বক্তব্য
মামুনুল হকের লেখায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক—দুই ধরনের আলোচনা রয়েছে।
ক. রাজনৈতিক অবস্থান
লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, নির্বাচনী ঐক্যের আলোচনায় জমিয়ত জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার পরিকল্পনা থাকলে তারা তাতে অংশ নেবে না; বরং বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে আগ্রহী।
ঘ. রাজনৈতিক কৌশলের পার্থক্য
জমিয়ত যেখানে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বলে লেখক উল্লেখ করেছেন, সেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বৃহত্তর ইসলামপন্থী নির্বাচনী ঐক্যে অংশ নেওয়াকে অধিকতর কল্যাণকর মনে করেছিল।
৪. মাওলানা মামুনুল হক নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন
ক. রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
তিনি বলেছেন, প্রায় তিন যুগ ধরে কমবেশি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন।
তিনি তাঁর পিতা শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-কে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনীতির ক্ষেত্রে শায়খুল হিন্দ রহ.-এর আদর্শ অনুসরণের কথাও বলেছেন।
খ. মাওলানা ফজলুর রহমানের রাজনীতি থেকে শিক্ষা
তিনি পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানকে নিজের অনুসরণীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন বলেছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশল এবং জোটনীতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
গ. সমালোচনা গ্রহণের মনোভাব
তিনি বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভুল হলে তথ্য, যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হোক। ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা প্রভাব খাটানোর পরিবর্তে যুক্তিনির্ভর সমালোচনা তিনি প্রত্যাশা করেন।
৫. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য
ক. সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া
মামুনুল হকের দাবি, দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া হয়নি। নির্বাহী পরিষদ, মজলিসে শূরা ও সাধারণ পরিষদে আলোচনা এবং পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদে প্রায় দেড় হাজার দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন।
খ. বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্য
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামপন্থী দলগুলোর বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্যে অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নিজেদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর মনে করেছিল।
ঙ. জোটনীতি
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলটি আদর্শে দৃঢ় থেকে রাজনৈতিক কৌশলে নমনীয় থাকতে চায়। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সব পরিস্থিতিতে জোট করা কিংবা কোনো দলকে সব সময়ের জন্য প্রত্যাখ্যান করার নীতি তারা গ্রহণ করতে চায় না।
চ. সমালোচনার আহ্বান
তিনি বলেছেন, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করা যাবে। তবে সেই সমালোচনা তথ্য, যুক্তি ও বিশ্লেষণনির্ভর হওয়া উচিত।