Перейти к содержимому

সহজে নিতে না-পারা সত্যটা I Suman De I Papia Singha Debnath

Suman De

0:00 / 0:00

সহজে নিতে না-পারা সত্যটা I Suman De I Papia Singha Debnath

26 859 просмотров · 7 ч назад
Suman De
80,6 тыс. подписчиков
26 859 просмотров · 7 ч назад
সুমন দে এত পেশা থাকতে সাংবাদিকতাকে আমরা যারা পেশা হিসেবে বেছে নিই, তারা আসলে চ্যালেঞ্জ খুঁজি। আজ পাপিয়ার স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, পাপিয়া নেই - এটা মেনে নিয়ে কথা বলাটা আমার জীবনের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ। পাপিয়াকে নিয়ে কথা হলেই ডঃ অভিজিৎ চৌধুরী বলতেন, মেয়েটার মধ্যে এত জীবন - এত জীবন্ত মেয়েটা- আমরা ডাক্তাররাও দেখে অবাক হয়ে যাই। আর ঠিক সেই কারণেই আজ আমি এখানে, ঠিক উল্টো কথাটাই বলব। পাপিয়ার জীবন, মোটেই শেষ হয়ে যায়নি। কেন এ কথা বলছি, তার প্রধান কারণ অবশ্যই এটা যে পাপিয়ার কর্নিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টিহীন একজন মানুষ হয়তো এই মুহূর্তে আমাদের এই রঙিন পৃথিবীটাকে দেখছে। পাপিয়ার নিজের প্রবল ইচ্ছেতে, অনিমেষবাবুর উদ্যোগে, পাপিয়ার চোখ-- ও দান করে গেছিল। তবে জীবনের মধ্যে না থেকেও , পাপিয়া সবার জন্য যা রেখে গেল সেটা হচ্ছে - জীবনবোধ। দৃশ্যটা শুধু একবার কল্পনা করুন । মুম্বাইয়ের হাসপাতালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে আগে ডক্টর দীপ্তেন্দ্র সরকার টেলিফোনে পাপিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরলেই তুমি মনে-মনে একটা কবিতা বলো । অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই অপারেশনে গোটা পাকস্থলী বাদ চলে যাওয়ার পর, জ্ঞান ফেরার পর ধীরে ধীরে চোখ খুলে পাপিয়া অস্ফুটস্বরে কী বলেছিল জানেন? যা বলেছিল, সেইটাই হচ্ছে জীবনবোধ । আজ জীবনে না থেকেও, ওর সেই জীবনবোধটা থেকে যাবে। হয়তো নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে-করতেই পাপিয়া বলেছিল, রবীন্দ্রনাথের ‘বোঝাপড়া‘-র সেই অমোঘ লাইনগুলো -- "মনেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।" মারণরোগ ক্যান্সারের অমোঘ সত্যটাকে পাপিয়া মেনে নিতে পেরেছিল, মানতে পারিনি আমরাই। আজ বলতে দ্বিধা নেই, পরে অনিমেষবাবুর কাছ থেকে জানতে পেরেছি, পাপিয়ার স্টমাক ক্যানসার যখন ধরা পড়ে, তখন সেটা ফোর্থ স্টেজে পৌঁছে গেছে -- এই ভয়ংকর সত্যটা অনিমেষবাবু, আমি আর ডাক্তারবাবুরা ছাড়া কেউ জানতেন না। আমরা ওকে জানাইনি -- যদি ওর মনোবল ভেঙে যায়! কিন্তু ওই যে বললাম, জীবন, জীবনীশক্তি আর জীবনবোধ। ও তো গোটা জীবনে কোনও লড়াই-এ কারও কাছে হার মানেনি, ও এই ক্যান্সারের কাছে হার মানবে কেন? রোগটা জানার পরে প্রথম দিন শুধু অভিজিৎদাকে জিজ্ঞেস করেছিল, "অভিজিৎদা সত্যি করে বলুন, বেরিয়ে আসব তো?" অভিজিৎদা জোর দিয়ে বলেছিলেন - "অবশ্যই।" ব্যাস, আর গোটা লড়াইটাতে ও আর কখনও পিছনে ফিরে তাকায়নি। কাজ ওর কাছে কাজ ছিল না, কাজ ছিল আনন্দের জায়গা। আর আনন্দ ছিল কবিতায়।যন্ত্রণার সময়ও কবিতার কাছে বারবার আশ্রয় খুঁজেছে। আর আমি, যেখানে যা যেখানে যা বিরল ভিডিও পেতাম, যেমন কবিদের স্বকণ্ঠে কবিতা পাঠ, সব ওকে পাঠাতাম, যদি রোগশয্যায় একটু ভালো লাগে ওর। কেমো শুরু হওয়ার পর ২৩শে মে পাঠিয়েছিলাম, সুনীলদার, মানে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি‘-র আবৃত্তি, সুনীলদারই গলাতে। উত্তরে পাপিয়া লিখল - "আবার শুনলাম। বড় ভালো লাগলো। জানো, ‘কেউ কথা রাখেনি‘ - এই কবিতাটা আবৃত্তি করে প্রথম হয়েছিলাম,রাজ্য যুব সারা বাংলা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায়। তখন আমি দশম শ্রেণী ।"( sms-এর ভাষাটা লক্ষ্য করুন, এখানেও জয় গোস্বামী - "তখন আমি নবম শ্রেণী, তখন আমি শাড়ি")পাপিয়া লিখেছে, "ভুলেই গিয়েছিলাম, মনে করিয়ে কী আনন্দ যে দিলে প্রাণে। thank you সুমনদা । " যখন মুম্বাইতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে, আমি ওকে দুটো বই উপহার দিয়েছিলাম - সোমা মুখোপাধ্যায়ের ‘ক্যান্সার-যাপন‘ আর ইন্দ্রনীল সান্যাল-এর মেডিক্যাল থ্রিলার। বলেছিলাম, দ্বিতীয় বইটার হিরোইন অটোপ্সি সার্জেন দীপশিখা মুখার্জির মতো ক্যান্সারকে জয় করে ফিরে আসতে হবে তোকে। হ্যাঁ, পাপিয়া ক্যান্সারের কাছে হেরে গেছে, কিন্তু ক্যান্সারও হেরে গেছে পাপিয়ার জীবনবোধের কাছে। সেই শাশ্বত জীবনবোধ-- "মনেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।" দেখুন আমরা পাপিয়াকে কি দিতে পেরেছি জানি না, কিন্তু ও আমাদের সবাইকে দুহাত ভরে দিয়েছে। কে বলে, পেশাদারী জগতে নাকি কেউ কারও বন্ধু হয় না? বন্ধুও হয়, বোনও হয় । ওর শেষ এসএমএস লিখেছিল - "আমার এই খবরটা শোনার পর থেকে শুধু বস্ হিসেবে নয়, একজন বন্ধুর মত যেভাবে আমায় সাহস যুগিয়ে চলেছ , পাশে রয়েছ -- তাতে ভরসা আরো বেড়ে গেছে।" দেখুন যেতে তো আমাদের সবাইকেই হবে। দুদিন আগে কিংবা দুদিন পরে। কিন্তু অকালে-অসময়ে চলে গিয়েও পাপিয়া আমাদের সবাইকে অনেকটা জীবনবোধ শিখিয়ে দিয়ে গেল। হ্যাঁ এটা ঠিক যে বিহানের, অনিমেষবাবুর বা এবিপি আনন্দের পরিবারের যে ক্ষতিটা হলো সেটা অপূরণীয়। যদি on air প্রচন্ড কাশির দমক কখনও বোঝা গিয়ে থাকে, আর কেউ শো-এর পর যষ্টিমধুর ছোট্ট একটা শিশি হাতে দিয়ে বলবে না-"সুমনদা শো-এর সময় এটা মুখে রেখো,কাশি কম হবে" ... এটা ঠিক। কিন্তু পাশাপাশি এটাও তো ঠিক যে ওই যে ইউনিক স্ক্যানিংটা--"আপনারা দেখছেন এবিপি আনন্দ আর আপনাদের সঙ্গে... আমি পাপিয়া"-- ওই "আমি" তার মধ্যে যে জীবনবোধটা ছিল, আমাদের সবার সঙ্গে আজীবন সেটা থেকে যাবে । সেই জন্যেই আগে যা বলেছিলাম, আবার সেটাই বলব-- পাপিয়ার প্রতিভা, পাপিয়ার কাজ থেকে যাবে। পাপিয়ারা চলে যেতে আসে না। থাকতে আসে। পাপিয়া থাকবে আমাদের সবার মধ্যে ... #papiasinghadebnath #papiaabpananda