Перейти к содержимому

সুভা ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৷

KnowledgeVerse

0:00 / 0:00

সুভা ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৷

790 просмотров · 2 мес. назад
KnowledgeVerse
91 подписчик
790 просмотров · 2 мес. назад
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত *‘গল্পগুচ্ছ’* থেকে সংকলিত *‘সুভা’* একটি হৃদয়স্পর্শী গল্প [১০২]। এতে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর নীরব মনোজগৎ, প্রকৃতির সাথে তার গভীর সখ্য এবং সমাজের কাছে তার অবহেলার করুণ কাহিনী চিত্রিত হয়েছে [১০২]। *গল্পের মূল বিষয়বস্তু ও বর্ণনা:* *পরিচয় ও নামকরণ:* গল্পের মূল চরিত্র বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী সুভা, যার আসল নাম *সুভাষিণী* [৯৮]। তার বড় দুই বোনের নাম সুকেশিনী ও সুহাসিনী [৯৮]। নামের মিল রাখার জন্য ছোট মেয়েটির নাম রাখা হয়েছিল সুভাষিণী, কিন্তু সে বোবা হয়ে জন্মায় বলে সবাই তাকে সংক্ষেপে ‘সুভা’ বলে ডাকত [৯৮]। *পারিবারিক অবস্থান:* সুভার পিতা *বাণীকণ্ঠ* তাকে অন্য দুই মেয়ের তুলনায় একটু বেশি ভালোবাসতেন, কিন্তু তার মা সুভাকে নিজের বিধাতার অভিশাপ ও ‘গর্ভের কলঙ্ক’ মনে করে বিরক্ত হতেন [৯৮]। মানুষের অবহেলার কারণে সুভা নিজেকে সবসময় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করত [৯৮]। *সুভার নিজস্ব জগৎ ও প্রাণীপ্রীতি:* মানুষদের সমাজে কথা বলতে না পারলেও প্রকৃতির নিবিড় সঙ্গ এবং মানবেতর প্রাণীদের মাঝে সুভা তার আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল [৯৯], [১০০]। চণ্ডীপুর গ্রামের পাশের নদী এবং গোয়ালের দুটি গাভী—**সর্বশী ও পাঙ্গুলি** ছিল তার অন্তরঙ্গ বন্ধু [৯৯], [১০০]। গাভী দুটো সুভার নীরব ভাষা ও স্পর্শের আকুতি সহজেই বুঝতে পারত [১০০]। এছাড়া ছাগল ও বিড়ালছানাও ছিল তার বিশ্বস্ত সঙ্গী [১০০]। *প্রতাপের সঙ্গ:* গ্রামের গোঁসাইদের ছোট ছেলে *প্রতাপের* প্রধান শখ ছিল ছিপ ফেলে মাছ ধরা [১০০]। প্রতাপ সুভাকে ‘সু’ বলে ডাকত এবং সুভা তার জন্য প্রতিদিন পান সাজিয়ে আনত [১০০], [১০১]। মাছ ধরার নীরব মুহূর্তে একজন কথা না-বলা সঙ্গীর উপস্থিতি প্রতাপের কাছে সুবিধাজনক ছিল [১০০]। *সামাজিক চাপ ও করুণ পরিণতি:* সুভা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তার বিয়ে নিয়ে পিতামাতা দুশ্চিন্তায় পড়েন [১০১]। সমাজে একঘরে হওয়ার ভয়ে বাণীকণ্ঠ পরিবার নিয়ে শাঁস ও সমাজ রক্ষার তাগিদে কলকাতায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন [১০১]। নিজের চেনা গ্রাম, নদী ও বোবা পশু-পাখিদের ছেড়ে অচেনা শহরে যাওয়ার ভয়ে সুভার হৃদয় নীরব আকুলতায় ভেঙে পড়ে [১০১]। *গল্পের মূল বার্তা:* রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গল্পের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বাকপ্রতিবন্ধী) শিশুদের প্রতি সামাজিক অবহেলা ও তাদের মনের সুপ্ত বেদনা ফুটিয়ে তুলেছেন [১০২]। মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলেও প্রকৃতি ও প্রাণীদের ভালোবাসা এবং সমাজের সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তাদের জীবনে কতটা জরুরি, গল্পটি সেই মানবিক শিক্ষা দেয় [১০২]।