বিয়ের তিন বছর অতিবাহিত হলেও স্বামীর ঘর রেখে শাশুড়ির ঘরে রাত কাটাতে হয় প্রিয়তাকে।এটা নিয়ে শুরুতে,,,
গল্পের রংধনু
0:00 / 0:00
বিয়ের তিন বছর অতিবাহিত হলেও স্বামীর ঘর রেখে শাশুড়ির ঘরে রাত কাটাতে হয় প্রিয়তাকে।এটা নিয়ে শুরুতে,,,
1 523 просмотра · 11 часов назад
গল্পের রংধনু
28,8 тыс. подписчиков
1 523 просмотра · 11 часов назад
বিয়ের তিন বছর অতিবাহিত হলেও স্বামীর ঘর রেখে শাশুড়ির ঘরে রাত কাটাতে হয় প্রিয়তাকে।এটা নিয়ে শুরুতে তার আক্ষেপ না থাকলেও দীর্ঘদিন হলো স্বামীর সান্নিধ্য পেতে মন ছটফট করে।বিয়ের পর কোন নারীই বা স্বামী থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়!অথচ তার তাই করতে হচ্ছে।সে কেবলই নিশ্চুপ হয়ে দিন গুনতে থাকে কবে তার অপেক্ষার অবসান হবে।কবে তার স্বামীকে নিজের করে পাবে।এভাবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ তার সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে।তাই কয়েকটি শাড়ি নিয়ে রান্না ঘরে শাশুড়ীর কাছে যেতো নেয় পছন্দ করে দিতে।কিন্তু যাত্রাপথে দরজার বাহির থেকে একটি কথা শুনে থমকে গেলো সে।তার শাশুড়ী বিচলিত হয়ে বলছেন,"তায়্যেব তো বিদেশ থেকে চলে আসছে মেঝো বউ।বাড়িতেও পৌঁছে গেলো বলে।অথচ ছোট বউ মাকে ওর বলা কথাগুলো এখনো বুঝিয়ে বলতে পারলাম না।ও বাড়ি ফিরে আবার গণ্ডগোল পাকাবে না তো!"
শাশুড়ি মায়ের বিচলিত কথার জবাবে সুমি নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলে,"ঝামেলা তো করতে পারেই আম্মা।আপনার ছোট ছেলে যে গোঁয়ার।বাড়ি ভর্তি মানুষ জনও তো মানবে না।তারচেয়ে না হয় ছোট জা কে কথা গুলো বলে দেন।"জবাবে তিনি ইতস্তত করে বলেন,"কিন্তু বউমাকে এসব বলি কি করে, বল তো?তুমি একটু আমার হয়ে ওকে বলে দেবে?বুঝিয়ে বলো।ও যেনো ভেঙে না পড়ে।"দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে শাশুড়ির এমন কথা শুনে প্রিয়তার পিলে চমকে উঠলো। সন্দেহের উদ্রেগ হলো হৃদয়ে।তাকে কি জানাতে বলেছে তার স্বামী?যা বলতে তার শাশুড়ির এতো দ্বিধা!আর তা না জানালে হুট করে হট্টগোলের কথাই বা আসছে কেনো?বাই এনি চান্স কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি তো?সে শুনেছে বিদেশ গিয়ে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগে অনেককে বিয়ে করতে হয়।তায়্যেবও এমন কিছু করেনি তো?পরে সেই মেয়ে দেশে নিয়ে ফিরেছে।প্রশ্নটা মনে আসতেই নিজস্ব পৃথিবী চুরমার হয়ে গেলো তার।মাথা ভনভন করে ঘুরতে লাগলো।দম বন্ধ হয়ে আসতে চাইলো বিশ্রী ভাবে।এমন কিছু হলে সে সইবে কীভাবে?চোখ ছাপিয়ে কান্না এল তার।কিন্তু মনকে বুঝ দিলো এমন কিছু তো নাও হতে পারে।বিস্তারিত না জেনে কষ্ট পাওয়া বোকামি।সে কোনোমত নিজেকে সামলে নিয়ে কান সজাগ রেখে তাদের কথপোকথন শুনতে লাগলো।
কানে বাজলো সুমির আঁতকে ওঠা কণ্ঠের জবাব,
"না মা,আমি কিছুতেই এসব বলতে পারবো না।ছোট জা তার স্বামী আসবে বলে আজ সাত দিন হলো নিজের ঘর গোছাচ্ছে।পুরো ঘর গুছিয়ে নিজেও এখন সাজ গোছ করতে বসেছে।এই আনন্দিত মুখের উপর কি করে এসব বলবো আমি?ওই ছোট্ট মনকে ভাঙার সাধ্য আমার নেই।"
কথাটা বলে মন ভার করলো সুমি।"যা ভাঙার তা এমনি ভাঙবে সুমি।হয়তো আগে অথবা পরে।তায়্যেব এলে তখন তো প্রিয়তা ঠিকই সব জানবে।মাঝখান থেকে এখন বললে কোনো ঝামেলা হবে না।তাই এত ইতস্তত না করে সরাসরি তাকে গিয়ে বলে দাও, তায়্যেব তার সাথে সংসার করতে চায় না।সে যেন তার নিজের সীমা মেপে চলে।পারলে বাবার বাড়ি চলে যায়।ঝামেলা শেষ।"তরকারিতে লবন ছিটিয়ে পাশ থেকে হেয়ালি করে কথাটা বললো উপমা।সম্পর্কে প্রিয়তার বড় জা হয় সে।উপমার এমন হেয়ালী মিশ্রিত উত্তর শুনে তার দিকে কটমট করে তাকান জামেলা বানু।অভিব্যক্তিতে স্পষ্টতর ফুটে ওঠে তিনি বড় ছেলের বউয়ের কথায় সন্তুষ্ট নন।প্রতিউত্তরে তিনি বিরক্ত কণ্ঠে বলে ওঠেন,"কী বলছো তা বুঝে বলছো তো বড় বউ?কথাটা এভাবে বলা যত সহজ বউমাকে গিয়ে বলা অত সহজ নয়।মেয়েটা কতদিন হলো স্বামী ফিরবে বলে আনন্দে আছে।ঘর দোর সাজিয়ে নিজে সাজতে বসেছে।এখন এটা শুনলে তার কি হবে সেটা ভেবেছো?"শাশুড়ি মায়ের কথায় বিরক্ত হয় উপমা।'চ' সদৃশ্য শব্দ উচ্চারন করে বলে,"উফ আম্মা!যেখানে সে আর আমাদের কেউ হয়ে থাকছেই না, সেখানে তার চালচুলোর কথা ভাবার কোনো প্রয়োজন আছে বলেন?আপনার ছেলে দিয়ে ছেলের বউয়ের সাথে সম্পর্ক।আপনার ছেলেই তো তাকে মানছে না,তবে তাকে নিয়ে ভাবনা কিসের?"
জবাবে গম্ভীর কণ্ঠে জামেলা বানু বলেন,"ভাবনার বিষয় তো আছেই উপমা।তায়্যেব যদি সত্যি প্রিয়তাকে ছেড়ে দেয়, তবে ছাই পড়বে এই বংশের ইজ্জতে।আমাদের শশুরদের এই বংশে কোনো ছেলে দুই তিন বিয়ে করে সংসার করা স্বাভাবিক ঘটনা।কিন্তু কেবল মাত্র দ্বিতীয় বিয়ে করবে বলে আগের বউও তালাক দেওয়া কোনো সহজ ঘটনা না। এই বাড়ির নিয়মে তা নেই।এই ঘরে একবার যে মেয়ে পা রাখে সে সারাজীবনের জন্য রাখে।এখন চাইলেই কি সেই নিয়ম পাল্টানো যাবে?আমরা মুরুব্বী হয়ে এসব কিভাবে মেনে নিবো বলো?"শাশুড়ি মায়ের কথার প্রতিক্রিয়া স্বরুপ সায় মেলায় সুমি।অপরদিকে কোনো রুপ বিলম্ব না করে উপমা বলে ওঠে,"যুগ বদলাইছে আম্মা।আগের খেই ধরে থাকলে কি চলবে বলেন?তাছাড়া এসব নিয়ম আপনারা ধরে রাখতে চাইলেও আপনার ছেলে যে তা রাখবে না তা ভালো করেই জানেন।প্রিয়তাকে ডিভোর্স দেওয়া যেমন বাড়ির লোক মানবে না, তেমনি তাকে ডিভোর্স না দিলে আমার বোন নীলিও তায়্যেবকে বিয়ে করবে না। সে সাফ বলে দিয়েছে সতীনের ঘর করা তার পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার।তাই তায়্যেবকে প্রিয়তাকে ডিভোর্স দিতেই হবে।তাই দেরী না করে তাকে জানিয়ে দেন।দেবরজী এতদিন পর এসে ঝামেলা লাগাক তা ভালো দেখাবে না।"দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে এসব শুনে আকাশ থেকে পড়ার জোগাড় হলো প্রিয়তার।কোথাও যেনো বা'জ পড়লো মনে হলো।তার বর তবে দেশে ফিরে তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য কাওকে বিয়ে করার প্ল্যান করেছে?আর এসবকে নিরব সমর্থন করে চলেছে সবাই।সে আর সহ্য করতে পারল না।পা ফেলে এগিয়ে গেলো ঘরে।ওকে দেখে জামেলা বানু ও সুমি ভড়কে গেলো।তড়িৎ মুখ শুকনো করে ফেললেন জামেলা বানু।উপমার মাঝে কোনো হেলদোল দেখা গেলো না।বরং বিজয়ের হাসি হাসলো সে।প্রিয়তার হাতে তিনটি শাড়ি ঝুলছে।যা পছন্দ করে দেওয়ার জন্য সাথে এনেছিলো সে।শাড়িটা হাতে ধরে রেখে কাঁপা কাঁপা গলায় সে জিজ্ঞেস করলো,"মা, আপনারা যা বললেন তা কি সত্যি?উনি সত্যি আর আমার সাথে সংসার করবেন না বলেছেন?"
প্রিয়তার প্রশ্নে অসহায় চোখে তাকান জামেলা বানু।মুখ গলিয়ে কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে পারেন না সে।বিবেক টনটন করছে তার।মেয়েটার মনের উপর দিয়ে বইয়ে যাওয়া ঝড় যেনো নিজ চোখে দেখছেন তিনি।যার বিধ্বস্ততা তার চোখে মুখেও ফুটে উঠছে।