এক বুড়ার ১২ ছেলে, তবুও বৃদ্ধ বয়সে কেউ পাশে নেই! | হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া বাস্তব শিক্ষা
দিনশেষে0
0:00 / 0:00
এক বুড়ার ১২ ছেলে, তবুও বৃদ্ধ বয়সে কেউ পাশে নেই! | হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া বাস্তব শিক্ষা
65 просмотров · 11 дн. назад
দিনশেষে0
38 подписчиков
65 просмотров · 11 дн. назад
এক বুড়ার ১২ ছেলে, তবুও পাশে কেউ নেই!
এক বুড়ার বারোটা ছেলে! অথচ বৃদ্ধ বয়সে সেই বাবার পাশে দাঁড়ানোর মতো একজনও নেই!
যে বাবা নিজের পেটের ভাত তুলে দিয়ে বারোটা ছেলেকে মানুষ করেছেন, আজ সেই বাবার মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার মতোও কেউ নেই! কেন এমন হয়? গল্পটা শেষ পর্যন্ত শুনুন।
একটা গ্রামে বাস করতেন এক গরিব বাবা। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে তিনি বারোটা ছেলেকে বড় করেছেন। নিজে পুরোনো কাপড় পরেছেন, কখনো আধপেটা খেয়েছেন, তবুও ছেলেদের অভাব বুঝতে দেননি।
দিনরাত পরিশ্রম করে তিনি শুধু একটা স্বপ্ন দেখতেন—ছেলেরা বড় হলে বৃদ্ধ বয়সে তাঁর পাশে থাকবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে ছেলেরা বড় হলো, বিয়ে করল, নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আর বাবার চুল সাদা হলো, শরীর দুর্বল হলো, কাজ করার শক্তি হারিয়ে গেল।
একদিন বাবা বড় ছেলের কাছে গিয়ে বললেন, “বাবা, আমার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। কিছুদিন তোর কাছে থাকি?”
বড় ছেলে বলল, “বাবা, আমার সংসারে অনেক খরচ। তুমি বরং মেজো ভাইয়ের কাছে যাও।”
মেজো ছেলের কাছে গেলে সেও বলল, “বাবা, আমারও অনেক সমস্যা। তুমি ছোট ভাইয়ের কাছে যাও।”
এভাবে বারোটা ছেলের বাড়ি ঘুরেও বাবা নিজের জন্য একটু আশ্রয় পেলেন না।
এক সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে একা বসে বাবা আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“হায়রে জীবন! পাখিরাও সারাদিন উড়ে বেড়িয়ে দিন শেষে নিজের বাসায় ফিরে আসে। অথচ আমি বারোটা ছেলের বাবা হয়েও আজ নিজের ঘর খুঁজে পাই না!
যে হাতে তোদের মুখে ভাত তুলে দিয়েছি, সেই হাত আজ কাঁপে বলে তোরা আমার হাত ধরতে চাস না!
তোরা যখন ছোট ছিলি, তখন তোদের অসুখে রাত জেগেছি, তোরা কাঁদলে বুকে জড়িয়ে ধরেছি। আর আজ আমি বুড়ো হয়েছি বলে তোদের কাছে বোঝা হয়ে গেলাম?
আমি তোদের কাছে টাকা চাইনি, সম্পদ চাইনি। শুধু চেয়েছিলাম, জীবনের শেষ দিনগুলোতে তোদের একটু ভালোবাসা পাব!”
কথাগুলো বলতে বলতে বাবার চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। কিন্তু তাঁর পাশে বসে চোখের পানি মোছার মতো কেউ ছিল না।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই গল্প আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয়।
বাবা-মা সারাজীবন আমাদের জন্য কষ্ট করেন। অথচ তাঁরা বৃদ্ধ হলে আমরা অনেক সময় তাঁদের দায়িত্ব নিতে চাই না।
মনে রাখবেন, আপনি যখন ছোট ছিলেন, বাবা আপনার হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন। আজ তাঁর হাঁটতে কষ্ট হলে আপনিই তাঁর হাত ধরুন।
বারোটা সন্তান থাকলেই বাবা সুখী হন না। একজন সন্তান মন থেকে পাশে দাঁড়ালেও একজন বাবা অনেক শান্তি পান।
বাবা-মা বেঁচে থাকতে তাঁদের ভালোবাসুন, সম্মান করুন এবং যত্ন নিন। চলে যাওয়ার পর চোখের পানি ফেলে লাভ নেই, যদি জীবিত অবস্থায় তাঁদের কষ্ট বুঝতে না পারেন।
আপনার মতে, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব কি শুধু একজন সন্তানের, নাকি সব সন্তানের? কমেন্টে জানাবেন।
গল্পটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন, যেন আরও মানুষ এই শিক্ষা পায়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বাবা-মায়ের সেবা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
Music Credit: NCM – No Copyright Music (@CivilEngrBD). All rights belong to the original creator.