আত্মসাৎ কি ও কাকে বলে? হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজ | ATM Tajul Islam
TAHSIN
0:00 / 0:00
আত্মসাৎ কি ও কাকে বলে? হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজ | ATM Tajul Islam
65 просмотров · 2 нед. назад
TAHSIN
323 подписчика
65 просмотров · 2 нед. назад
আত্মসাৎ কি ও কাকে বলে? হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজ | ATM Tajul Islam
আলোচক: মাওলানা এ টি এম তাজুল ইসলাম
মানবজীবনে সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আমানতদারিতা ঈমানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। পক্ষান্তরে অপরের অধিকার বা সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা মারাত্মক অপরাধ। বর্তমান সমাজে আমানতের খেয়ানত ও আত্মসাৎ করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মসাৎ কি, এর রূপগুলো কেমন এবং এর আখিরাতের পরিণতি কতটা ভয়াবহ—এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা এ টি এম তাজুল ইসলাম।
১. আত্মসাৎ কি ও কাকে বলে?
সাধারণ কথায়, অপরের গচ্ছিত ধন-সম্পদ, আমানত বা কোনো অধিকার অন্যায়ভাবে নিজ দখলে নেওয়া বা নিজের স্বার্থে ব্যয় করাকে আত্মসাৎ বলা হয়।
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব বা সম্পদকে মালিকের অনুমতি ছাড়া নিজের স্বার্থে ভোগ করা বা গোপন করাকে আত্মসাৎ (الغلول - আল-গুলুল) বা আমানতের খেয়ানত বলে।
২. সমাজে আত্মসাতের বিভিন্ন রূপ
আত্মসাৎ কেবল কারো পকেট থেকে টাকা চুরি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজে এর বহুবিধ রূপ দেখা যায়:
যৌথ সম্পদ বা ওয়ারিশদের হক মারা: এতিম বা বোনদের প্রাপ্য সম্পত্তি ফাঁকি দিয়ে নিজ দখলে রাখা।
সরকারী বা জাতীয় সম্পদ হরণ: ঘুষ, দুর্নীতি, ইজারা বা সরকারি তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা।
দায়িত্ব ও সময়ের খেয়ানত: কর্মক্ষেত্রে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে পূর্ণ বেতন গ্রহণ করা।
ঋণ পরিশোধ না করা: দেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনাদারের টাকা আটকে রাখা বা ফাঁকি দেওয়া।
৩. পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে আত্মসাৎ
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদ ভোগ করা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন:
"তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না এবং জনগণের ধন-সম্পদের কিছু অংশ জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের কাছে উপস্থাপন করো না।" — (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৮)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমানতদারিতাকে ঈমানের পরিমাপক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন:
"যার মধ্যে আমানতদারিতা নেই, তার প্রকৃত ঈমান নেই; আর যার অঙ্গীকারের মর্যাদা নেই, তার ধর্ম নেই।" — (মুসনাদে আহমাদ)
৪. পরকালে আত্মসাতের পরিণাম
ইসলামে ‘বান্দার হক’ (হাক্কুল ইবাদ) অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের হক (যেমন: নামাজ, রোজা) ক্ষমা করলেও বান্দার হক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমা ছাড়া ক্ষমা করবেন না।
১. কেয়ামতের মাঠে জবাবদিহিতা: হাশরের ময়দানে আত্মসাৎকৃত বস্তু কাঁধে বহন করে অপরাধীকে উপস্থিত হতে হবে। ২. নেকি দিয়ে পাওনা পরিশোধ: পরকালে টাকা-পয়সা থাকবে না; ফলে পাওনাদারকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আত্মসাৎকারীর নিজের নেকি দিয়ে দিতে হবে। নেকি শেষ হয়ে গেলে পাওনাদারের গুনাহ আত্মসাৎকারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। ৩. জাহান্নামের শাস্তি: রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, হারাম ও আত্মসাতের মালে গড়ে ওঠা শরীর জাহান্নামের আগুনের জন্যই বেশি উপযুক্ত।
আমাদের করণীয়
১. তাওবা ও পাওনা ফেরত দেওয়া: অতীতে কারো সম্পদ বা হক নষ্ট করে থাকলে অবিলম্বে তা মালিক বা তার ওয়ারিশদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। ২. ক্ষমা চেয়ে নেওয়া: যদি নির্দিষ্ট মালিককে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না হয়, তবে তার নামে সদকা করে দিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ৩. সচেতনতা তৈরি: পরিবার ও সমাজে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আমানতের হেফাজত করা।
উপসংহার: পরকালের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচতে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের আত্মসাৎ ও দুর্নীতি থেকে আমাদের বেঁচে থাকা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং আমানতদার হিসেবে জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।