Перейти к содержимому

কাঠপুতলা/কলমে ও কণ্ঠে:জাকারিয়া আহমেদ -Zakaria Ahmed

জাকারিয়া আহমেদ-এর কবিতা

0:00 / 0:00

কাঠপুতলা/কলমে ও কণ্ঠে:জাকারিয়া আহমেদ -Zakaria Ahmed

31 просмотр · 2 недели назад
জাকারিয়া আহমেদ-এর কবিতা
162 подписчика
31 просмотр · 2 недели назад
কাঠপুতলা কলমে:জাকারিয়া আহমেদ শহরের সব আলো নিভে গেলে মঞ্চের ওপর একটি কাঠপুতলা জেগে থাকে। তার চোখে ঘুম নেই— শুধু ঝুলে থাকে কিছু আধার রঙের সুতো; উপরে কোথাও একটি অদৃশ্য হাত রাতভর তাদের নাড়ায়। দিন হলে সে খুব স্বাভাবিক মানুষ। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে হাঁটে, নির্দিষ্ট সময়ে হাসে, প্রয়োজনমতো মাথা নোয়ায়; যেখানে কাঁদা মানায় সেখানে কাঁদে, যেখানে চুপ থাকা ভালো সেখানে ঠোঁট সেলাই করে। শৈশবেই তাকে শেখানো হয়েছিল— এভাবে হাঁটো, এভাবে বসো, এভাবে ভালোবাসো; নিজের মতো করে কিছু করতে যেয়ো না। তাকে ভুতের ভয় দেখিয়ে রাক্ষসের গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়েছিল। সে ভুলে যায়— কখন তার হাতের কবজিতে প্রথম সুতোটি বাঁধা হয়েছিল। আরেকটি বাঁধা ছিল মানুষের চোখে। আরেকটি ঘরের দরজায়। আরেকটি অর্থের কাছে। আরেকটি সম্মানের নামে। সবশেষে একটি সুতো এসে জড়িয়েছিল তার জিহ্বায়— মানুষ কী বলবে! তারপর সে হাঁটতে থাকে। মঞ্চের চারদিকে অসংখ্য মুখ। তারা হাততালি দেয়। সে ভাবে— আমি স্বাধীন। কারণ তার সামনে আকাশ আছে, পায়ের নিচে রাস্তা আছে, চারদিকে হাজার দরজা। সে জানে না— সব দরজার চাবি অন্যের পকেটে। এক রাতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের মুখ দেখতে পেল না। দেখল— একটি পুত্র, একটি স্বামী, একটি পিতা, একটি পদবি, একটি সামাজিক পরিচয়। শুধু মানুষটি নেই। সে আয়নাকে জিজ্ঞেস করল— আমি কে? আয়না নীরব। দূরে কোথাও একটি নিশাচর পাখি ডাকল। তার কোনো পদবি নেই, কোনো সামাজিক সম্মান নেই, কেউ তাকে শেখায়নি কোন আকাশে উড়তে হয়। কাঠপুতলা অনেকক্ষণ সেই ডাক শুনল। তারপর প্রথমবার নিজের হাতের দিকে তাকাল। সুতোগুলো খুব পাতলা। তবু জমে আছে কত যুগের ভার! সে একটি ছিঁড়ে ফেলল। তারপর আরেকটি। ব্যথা হলো। রক্তও বেরোল। কারণ দীর্ঘদিনের শেকল একসময় শরীরেরই অংশ হয়ে যায়। ভোরের আগে শেষ সুতোটি ছিঁড়ে গেল। কেউ হাততালি দিল না। কেউ অভিনন্দন জানাল না। মঞ্চের আলো নিভে গেল। কাঠপুতলা ধীরে ধীরে মঞ্চ থেকে নেমে এল। সামনে কোনো পথ আঁকা নেই। কোনো নির্দেশ নেই। কোনো দর্শক নেই। শুধু অন্ধকারের ভেতর নিজের পায়ের শব্দ। সে হাঁটতে লাগল। পেছনে পড়ে রইল মঞ্চ, আলো, হাততালি আর অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা হাজার কাঠপুতলা। ভোর হলো। শহর আবার তার পরিচিত মুখোশ পরে নিল। কেউ জানল না— আজ রাতে একটি কাঠপুতলা মানুষ হয়েছে। শুধু মঞ্চের কোণে একটি ছেঁড়া সুতো নিঃশব্দে পড়ে রইল। আর- যে নিজের সুতো ছিঁড়ে ফেলে সভ্যতার চোখে সে আর মানুষ নয়; সে একটি সুতোহীন ছায়া, সে একটি আপদ অসংজ্ঞায়িত মহাবিপদ। এ বিপদের অবাধ বিচরে সঞ্চার করে ভয়; একটা একটা কাঠপুতলার মানুষ হবার ভীষণ ভয়।