বাড়ির উঠোনে পালং শাকের চাষ | Bangla village cartoon story | বাংলা কার্টুন | Bangla cartoon 2026
Sundorbon Cartoon Bangla
0:00 / 0:00
বাড়ির উঠোনে পালং শাকের চাষ | Bangla village cartoon story | বাংলা কার্টুন | Bangla cartoon 2026
3 092 просмотра · 2 дн. назад
Sundorbon Cartoon Bangla
6,16 тыс. подписчиков
3 092 просмотра · 2 дн. назад
বাড়ির উঠোনে পালং শাকের চাষ | Bangla village cartoon story | বাংলা কার্টুন | Bangla cartoon 2026
==========================
⚠️WARNING: THIS VIDEO IS NOT FOR KIDS⚠️
LEGAL DISCLAIMER: This channel is not intended for children. No minors are involved or depicted. The video is suitable for a mature audience (16+). All characters are fictional. Content does not endorse harm, violence, or unsafe acts. All animations and materials are original works of this channel.
==========================
®Reserved to Sundorbon Cartoon Bangla®
#cartoonbangla #banglacartoonstory #বাড়িরউঠোনেপালংশাকেরচাষ #বাংলাকার্টুন #বাংলাকার্টুনগল্প #banglacartoongolpo
script:-
ন্যারেটর:
একটি ছোট্ট গ্রামে হরিদাস নামে এক গরিব কৃষক তার স্ত্রী কমলাকে নিয়ে বাস করত। তাদের সম্পদ বলতে ছিল একটি ছোট মাটির বাড়ি আর এক টুকরো জমি। সেই জমিতে চাষ করেই তাদের সংসার চলত। কিন্তু এক বছর ফসল ভালো না হওয়ায় হরিদাস জমিদার মহেন্দ্র রায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিল। সময়মতো সেই টাকা ফেরত দিতে না পারায় তাদের জীবনে নেমে এল ভয়ংকর বিপদ।
জমিদার:
হরিদাস, তোমাকে আমি অনেক দিন সময় দিয়েছি। তুমি আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়ার সময় বলেছিলে, ফসল উঠলেই সমস্ত টাকা সুদসহ ফেরত দিয়ে দেবে। কিন্তু এখন তো দেখছি, টাকা ফেরত দেওয়ার নামই নেই! আমার টাকা কি গাছের পাতা যে ইচ্ছা করলেই তোমাকে দিয়ে দেব?
হরিদাস:
জমিদারমশাই, আপনার কাছে আমার হাতজোড় করে অনুরোধ, আমাকে আর কয়েকটা মাস সময় দিন। গত বছর বৃষ্টির অভাবে আমার ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যা কিছু ধান পেয়েছিলাম, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়েছি। আমার স্ত্রীও অনেক দিন ধরে অর্ধেক পেট খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমি কথা দিচ্ছি, এ বছর একটু ফসল পেলেই আপনার টাকা শোধ করে দেব।
জমিদার: এই একই কথা তুমি কতবার বলেছ, তার হিসাব আমার কাছে নেই! কখনো বৃষ্টি হয়নি, কখনো ফসল নষ্ট হয়েছে, কখনো সংসারে অভাব দেখা দিয়েছে। তোমার সমস্যা শুনতে শুনতে আমার কান পচে গেছে। আমি ব্যবসা করি, দানখয়রাত করি না!
হরিদাস: জমিদারমশাই, আমি আপনার টাকা অস্বীকার করছি না। আমি শুধু একটু সময় চাইছি। আমার ওই ছোট্ট জমিটুকুই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জমিটা চলে গেলে আমরা খাব কী? চাষ না করলে আমার মতো গরিব মানুষের আর কোনো উপায় নেই।
জমিদার: সেটা তোমার ভাবার কথা ছিল টাকা ধার নেওয়ার আগে! এখন শোনো, তোমার ঋণের কাগজে জমি বন্ধক রাখার কথা লেখা আছে। তুমি নির্দিষ্ট সময়ে টাকা দিতে পারোনি। তাই আজ থেকে জমিটা আমার দখলে থাকবে। তোমার আর কোনো কথা শুনতে চাই না।
হরিদাস: না, জমিদারমশাই! এমন করবেন না! ওই জমির মাটি আমার কাছে সোনার মতো। আমার বাবা ওই জমিতে চাষ করেছেন, আমিও ছোটবেলা থেকে ওই জমিতে কাজ করেছি। জমিটা হারালে আমি আমার সবকিছু হারাব। দয়া করে আমার জমিটুকু কেড়ে নেবেন না!
জমিদার: কান্নাকাটি করে কোনো লাভ হবে না। আমার লোকেরা জমির দখল নিয়ে নেবে। আর একটা কথা মনে রেখো, টাকা ধার নেওয়ার সময় মানুষ অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু কথা রাখতে না পারলে তার ফল ভোগ করতেই হয়। এবার যাও, আমাকে আর বিরক্ত কোরো না!
হরিদাস: আপনি আমার জমিটা নিয়ে নিলেন, জমিদারমশাই। কিন্তু আমার মতো গরিব মানুষ এখন কীভাবে বাঁচবে, একবারও কি সেটা ভাবলেন না? আমি আপনার সঙ্গে কোনো প্রতারণা করিনি। আমি শুধু সময়ের কাছে হেরে গেছি।
ন্যারেটর: জমিদারের উঠোন থেকে মাথা নিচু করে ফিরে এল হরিদাস। তার চোখের সামনে তখন ভেসে উঠছিল সেই জমির ছবি, যে জমিতে চাষ করে সে এত দিন নিজের সংসার চালিয়েছে।
হরিদাস: কমলা, আজ আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। যে জমিটুকুর ওপর ভরসা করে এত দিন বেঁচে ছিলাম, জমিদার সেটাও কেড়ে নিল। এখন আমার হাতে কাজ নেই, জমি নেই, টাকা নেই। তোমার মুখের দিকে তাকাতেও আমার লজ্জা করছে।
কমলা: তুমি এমন কথা বলছ কেন? জমি হারিয়েছ বলে কি তোমার হাত দুটোও হারিয়ে ফেলেছ? তোমার শরীরে শক্তি আছে, মাথায় বুদ্ধি আছে, আর সবচেয়ে বড় কথা, তুমি পরিশ্রম করতে জানো। আজ আমাদের খারাপ সময় এসেছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সারা জীবন আমাদের এমনভাবেই কাটাতে হবে।
হরিদাস: তোমার মুখে কথাগুলো শুনতে ভালো লাগছে, কমলা। কিন্তু শুধু সাহস দিয়ে তো পেট ভরবে না। ঘরে চাল প্রায় শেষ, হাঁড়িতে রান্না করার মতো কিছু নেই। কাল সকালে কী খাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। নিজের জমিতে কাজ করতাম, তবু অন্তত দুবেলা খাওয়ার মতো কিছু জুটত। এখন অন্যের জমিতে কাজ চাইতে গেলেও কে আমাকে কাজ দেবে, তার ঠিক নেই।
কমলা: আমি জানি, আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। তবু আমরা দুজন একসঙ্গে থাকলে একটা না একটা পথ নিশ্চয়ই বের করতে পারব। তুমি আজ একটু বিশ্রাম নাও। কাল সকালে গ্রামের লোকেদের কাছে যাও। হয়তো কেউ আমাদের কিছু কাজ দেবে, কিংবা কিছু টাকা ধার দেবে। সবাই তো আর এক রকম হয় না।
হরিদাস: ঠিক আছে, কমলা। কাল আমি সবার কাছে যাব। কারও কাছে কাজ চাইব, কারও কাছে কিছু চাল চাইব। নিজের কষ্টের কথা বলতে আমার লজ্জা লাগছে, কিন্তু তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে চেষ্টা করতেই হবে।