Перейти к содержимому

দুর্মতি / বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় / গল্প-পাঠ: নবনীতা #বাংলাছোটগল্প #bengaliaudiostory #বাংলাগল্প

Nabanitar Gaan Galpo

0:00 / 0:00

দুর্মতি / বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় / গল্প-পাঠ: নবনীতা #বাংলাছোটগল্প #bengaliaudiostory #বাংলাগল্প

218 просмотров · 6 месяцев назад
Nabanitar Gaan Galpo
1,85 тыс. подписчиков
218 просмотров · 6 месяцев назад
দুর্মতি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প-পাঠ: নবনীতা ভট্টাচার্য্য #বাংলাছোটগল্প #bengaliaudiostory #বাংলাগল্প #bengalishortstory #BengaliShortStory Transcript 00:00:01 আজ শোনাবো বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা একটি গল্প নাম দুর্মতি। নিশ্চিতপুর গ্রামের প্রান্তে হরিচরণ রায়ের ছোট একখানা কোঠাবাড়ি ছিল। সংসারে থাকিবার মধ্যে তাহার স্ত্রী আর এক ছেলে। হরিচরণ রায়ের বয়স বছর 30। স্ত্রীর বয়স 21 22। হরিচরণ রায়ের লেখাপড়া এমন বিশেষ কিছুই জানা ছিল না। তাহার উপর নিতান্তই পারা গেয়ে মানুষ। কাজেই কোথাও না যাইয়া তিনি বাড়ি বসিয়া পৈত্রিক আমলের একটু জমি জমার খাজনা আদায় করিতেন। কচু কুমড়া বেগুন আবাদ করিতেন। ঠিক বলা চলে না। পুতিতেন। ইহাতেই তিন প্রাণীর এক প্রকার কষ্টে কষ্টে সংসার চলিয়া যাইত। পৌষ মাস 00:00:51 খুব শীত। সন্ধ্যার সময় এক দূর প্রজাবাড়ি হইতে খাজনা আদায় করিয়া হরিচরণ বাড়ি ফিরিয়া আসিল। স্ত্রী বিনা পানি উঠানের তুলসীতলায় সন্ধ্যা দিতেছিল। স্বামীকে আসিতে দেখিয়া তাড়াতাড়ি তুলসীতলায় প্রণাম সারিয়া হাসি মুখে কাছে আসিয়া বলিল, তবে যে বলা হলো, ফিরতে অনেক রাত হবে। আমি এখনো তো ডালই বাটিনি। হরিচরণ হাতের পুটুলি নামাইতে নামাইতে বলিল, এলাম চলে। খাজনা তো এক পয়সাও দেবে না। মিথ্যে হয়রান হওয়া। বিনা পানি হাতের প্রদীপ নামাইয়া রাখিয়া বলিল, একটু দাড়াও। আমি কুয় থেকে টাটকা জল তুলে দিই। তবুও একটু গরম হবে। এবার যা শীত পড়ল 00:01:37 তাতে পুকুরের জলে আর কাজ চলবে না। 00:02:27 নিপু সে দোলাইখানা কোথায় গেল? বিনাপানি জলের বালতি নামাইয়া বলিল, সে বিকেলবেলা থেকে বলছে ছেলেকে। ও কি কারোর কথা শোনে? 00:03:14 পাশে বসিয়া তামাক টানিতেছে। ও স্ত্রীর সহিত খোষ গল্প করিয়া সমস্ত দিনের শ্রম নিবারণের চেষ্টা করিতেছে। 00:04:03 স্ত্রীর সহিত সম্ভাষণের রীতি এই রকমই। অবশ্য ছেলেপেলের সম্মুখে এবং বাহিরের লোকের কাছে সম্ভাষণের অন্য রীতি আছে। 00:08:22 সন্তর্পণে বাহির বাটির দরজার নিকট যাইতে যাইতে। হরিচরণ শুনিতে পাইল দরজার বাহির হইতে বাংলায় কে উচ্চেস্বরে বলিতেছে রায় মশায় বাড়ি আছেন ? 00:10:21 কৃষ্ণলাল বাবু বসিয়া দেখিলেন, দালানের দরজা জানালা একটাও ভালো অবস্থায় নাই। সবগুলির ফাঁক দিয়াই 00:11:16 হুহু করিয়া হিম আসিতেছে। বন্ধুরে কন্যাটি সকলের ছোট। তিনটি মেয়ের বিবাহ দিবার পর সর্বশান্ত হইয়া তাহার বিবাহ দেন। 00:14:45 বসুন জাঠামশাই । 00:17:15 বিনাপানি দালানে গিয়া দেখিল, কৃষ্ণলাল বাবু চামড়ার ব্যাগ খুলিয়া কিসব জিনিসপত্র বাহির করিতেছেন। তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, মা বিনু শোনো এদিকে এদিকে এসো আমার একটা স্বাদ তোকে পুড়তে হবে মা 00:18:08 আমদ অনুভব হইল সঙ্গে সঙ্গে মনে হইল বাপ জাঠা ভিন্ন কি কেউ মেয়ের কষ্ট বোঝে । বিনাপানি ব্রেসলেট দেখিয়া শুধু আশ্চর্য নয় মুগ্ধ হইয়া গেল। সে এরূপ জিনিস কখনো দেখে নাই। ওগুলি কি জলিতেছে। পাথর। পাথর ওইরকম 00:21:33 জ্বলে নাকি? ও মা বিশ্বয় তাহার মুখ দিয়া কথা সরিলো না। কৃষ্ণলাল বাবু বলিলেন, দেখি মা তোর হাত। বিনা পানির হাতের সবুজ ও লাল রঙের জার্মানি কাচের চুরি গুলোকে বিদ্রুপ করিয়া ব্রেসলেটের দামি চুনি, পান্না, হীরা, জহরত গুলি যেন খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। প্রদীপের আলোকে শতভাগে ভাগ করিয়া ব্রেসলেট জোড়া বিনা পানির হাতে যেন লাল সবুজ নীল আগুনের ফুলকি উড়াইয়া জ্বলিতে লাগিল। বিনাপানি নিজের হাতের দিকে চাহিয়া অনেকক্ষণ চোখ ফিরাইতে পারিল না। গহনা আবার এরকমও হয়। কৃষ্ণলাল বাবু বিনা পানির ভাব দেখিয়া বুঝিলেন যে গহনাটি তাহার 00:22:23 পক্ষে অপ্রত্যাশিতভাবে সুন্দর হইয়াছে। এহাতে তিনি মনে মনে অত্যন্ত খুশি হইলেন। কোথাও ব্রেসলেটের কেস খুঁজিয়া পাইল না। বিনাপানি ভয়ে আরষ্ট হইয়া উঠিল। তাহা হইলে অন্য কেহ কি ঘরে ঢুকিয়া চুরি করিল? সে কথা ভাবিতেও পারিতে ছিল না। ভাবিতেই তাহার বুক কেমন আরষ্ট হইয়া যাইতে লাগিল। 00:38:05 ঘরের মধ্যে গিয়া দেখিল বিনা পানি তখনো বিছানায় শুইয়া। স্ত্রীকে গায়ে হাত দিয়া ডাকিতে গিয়া দেখিল তাহার গা জ্বরে পুড়িয়া যাইতেছে। সংজ্ঞা নাই। জ্বরের ঘোরে অঘোর অচৈতন্য। হঠাৎ অনুতাপের দংশনে হরিচরণের মন তীব্র বেদনায় ভরিয়া উঠিল। সেদিন সেই গহনা চুরি করিয়াছিল। নানাদিকে দেনা ও পাওনাদারদের জ্বালায় বিব্রত হইয়া। তাহার পূর্বে কয়েকদিন হইতেই তাহার স্ত্রীর ব্রেসলেট জোড়াটার উপর তাহার লোভ ছিল। সেদিন সন্ধ্যাবেলা ঘরে ঢুকিয়াই দেখিল দালানের উপর ব্রেসলেটের বাক্স। লোভ সামলাইতে না পারিয়া সেই ব্রেসলেট চুরি করিয়া রামনারায়ণপুরে এক মারোয়ারির দোকানে 00:38:51 গিয়া বিক্রয় করিল মোট 700 টাকায়।