আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সবুজ হক
SABUJ HAQUE সবুজ হক
0:00 / 0:00
আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সবুজ হক
206 просмотров · 3 нед. назад
SABUJ HAQUE সবুজ হক
6,19 тыс. подписчиков
206 просмотров · 3 нед. назад
১৯৬০-এর দশকের বাংলা আধুনিক কবিতায় ব্যক্তিমানুষের সংকট, নাগরিক জীবনের টানাপোড়েন, আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব, যৌনতা, সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্ন এবং প্রচলিত কাব্যভাষা ভেঙে নতুন অভিব্যক্তির সন্ধান, সব মিলিয়ে এক ভিন্নতর সাহিত্যিক পরিমণ্ডল তৈরি হয়েছিল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর সমকালীন কবিদের কবিতায় সেই সময়ের নানা অনুরণন খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এই কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা কিংবা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখার চেয়ে, এর অন্তর্নিহিত বোধ ও বহুমাত্রিক অভিব্যক্তির দিকে তাকানোই আমার কাছে বেশি জরুরি মনে হয়েছে। একান্তই আমার নিজস্ব পাঠ ও ভাবনায়, এই কবিতাকে তিনটি স্তরে অনুভব করি। প্রথমত, ব্যক্তিগত স্তরে, একজন মানুষের হতাশা, নিঃসঙ্গতা, অপরাধবোধ এবং নিজের জীবনকে ঘিরে জমে থাকা অসংখ্য প্রশ্ন! দ্বিতীয়ত, সামাজিক স্তরে, মানুষের ভেতরের নিষ্ঠুরতা, ভণ্ডামি, শ্রেণিগত দূরত্ব আর সভ্যতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অচেনা মানুষটিকে দেখার আকুলতা! তৃতীয়ত, অস্তিত্বের স্তরে, এত দ্বন্দ্ব, এত অপ্রাপ্তি আর এত প্রশ্নের পরও মানুষ কেন বেঁচে থাকে, কোন মায়া তাকে বেঁধে রাখে, আর অন্যের জীবন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কি সত্যিই নিজের ভেতরের সংকট থেকে মুক্তি দিতে পারে! @followers
কবিতাটির প্রকাশকাল আনুমানিক ১৯৬৫-১৯৬৬ সালের পরিসরে বলে জানা যায়, যদিও এর নির্দিষ্ট রচনাকাল নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সুনীলের কবিতায় ‘নীরা’ যেমন বারবার প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার এক স্বতন্ত্র অবয়ব নিয়ে ফিরে এসেছে, তেমনি ‘নিখিলেশ’ও তাঁর একাধিক কবিতায় উপস্থিত। আমার মনে হয়েছে, নিখিলেশ যেন জীবনের সেই আয়না, যেখানে দাঁড়িয়ে কবি নিজেরই আরেকটি রূপকে দেখতে পান, তার সঙ্গে কথা বলেন, কখনো প্রশ্ন করেন, কখনো নিজের কাছেই নিজের জবাবদিহি করেন! এই কবিতায় যেন সেই আত্মজিজ্ঞাসাই বারবার ফিরে আসে। অন্যের জীবনকে বাইরে থেকে দেখে তার সুখ-দুঃখ বোঝা যায় না, তার জন্য কখনো কখনো সেই জীবনকে যাপন করতে হয়, তার অন্তর্গত যন্ত্রণা, ক্ষত, হতাশা আর অপ্রাপ্তির মুখোমুখি হতে হয়। অথচ জীবন বদলের কল্পনার শেষেও মানুষ আবিষ্কার করে, নিজের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া বোধহয় এত সহজ নয়! প্রায় এক দশকেরও আগে কবিতাটি রেকর্ড করেছিলাম। তখনকার সীমিত প্রযুক্তি, সাউন্ড রেকর্ডিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে আমার অল্পবিস্তর জ্ঞান নিয়েই চেষ্টা করেছিলাম কবিতাটির অনুভবকে কণ্ঠে ধারণ করতে। তারপর কেটে গেছে অনেকটা সময়। বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম, আবার রেকর্ড করব। কিন্তু নানা ব্যস্ততায় হয়ে উঠছিল না। অবশেষে, সেই অপেক্ষার অবসান হলো! কবিতার কিছু কিছু উচ্চারণ, কিছু অনুভব, কিছু বোধ বোধহয় সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়। একই কবিতার কাছে ফিরে এলে নিজের মধ্যেও নতুন বোধ আবিষ্কার করা যায়। তাই এই পুনরায় রেকর্ড করা আমার কাছে কেবল একটি পুরোনো আবৃত্তিকে নতুন করে ধারণ করা নয়, বরং সময়ের ব্যবধানে নিজেরই আরো কিছু বোধ উপলব্ধির মুখোমুখি হওয়া!
শুনবেন, অনুভব করবেন, আর জানাবেন আপনাদের ভাবনার কথাও। কারণ কবিতা শুধু আবৃত্তিকারীর কণ্ঠে শেষ হয়ে যায় না, শ্রোতার অনুভবে গিয়েও তার নতুন করে জন্ম হয়!
আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আবৃত্তিঃ সবুজ হক
আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ
এই কি মানুষজন্ম?
নাকি শেষ পুরোহিত কঙ্কালের পাশা খেলা!
প্রতি সন্ধেবেলা আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে,
হৃদয়কে অবহেলা করে রক্ত;
আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হ’য়ে ব’সে থাকি-
তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো ব’লে।
আমি আক্রোশে হেসে উঠি না,
আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হ’য়ে হাঁটি,
মশা হ’য়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে;
খাঁটি অন্ধকারে স্ত্রীলোকের খুব মধ্যে ডুব দিয়ে দেখেছি
দেশলাই জ্বেলে-(ও-গাঁয়ে আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই)!
আমি স্বপ্নের মধ্যে বাবুদের বাড়ির ছেলে সেজে গেছি রঙ্গালয়ে,
পরাগের মতো ফুঁ দিয়ে উড়িয়েছি দৃশ্যলোক
ঘামে ছিল না এমন গন্ধক যাতে ক্রোধে জ্বলে উঠতে পারি।
নিখিলেশ, তুই একে কী বলবি?
আমি শোবার ঘরে নিজের দুই হাত পেরেকে বিঁধে
দেখতে চেয়েছিলাম যীশুর কষ্ট খুব বেশি ছিল কি না;
আমি ফুলের পাশে ফুল হ’য়ে ফুটে দেখেছি,
তাকে ভালোবাসতে পারি না।
আমি কপাল থেকে ঘামের মতন
মুছে নিয়েছি পিতামহের নাম,
আমি শ্মশানে গিয়ে ম’রে যাবার বদলে,
মাইরি... ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
নিখিলেশ, আমি এই-রকমভাবে বেঁচে আছি,
তোর সঙ্গে জীবন বদল ক’রে
কোনো লাভ হ’লো না আমার-
একি নদীর তরঙ্গে ছেলেবেলার মতো
ডুব সাঁতার?-অথবা চশমা বদলের মতো
কয়েক মিনিট আলোড়ন? অথবা গভীর রাত্রে
সঙ্গমনিরত দম্পতির পাশে শুয়ে পুনরায় জন্ম ভিক্ষা?
কেননা সময় নেই,
আমার ঘরের দেয়ালের চুন-ভাঙা দাগটিও বড় প্রিয়।
মৃত গাছটির পাশে উত্তরের হাওয়ার
কিছুটা মায়া লেগে আছে।
ভুল নাম, ভুল স্বপ্ন থেকে বাইরে এসে দেখি
উইপোকায় খেয়ে গেছে চিঠির বান্ডিল,
তবুও অক্লেশে হলুদকে হলুদ ব’লে ডাকতে পারি।
আমি সর্বস্ব বন্ধক দিয়ে একবার একটি মুহূর্ত চেয়েছিলাম,
একটি… ব্যক্তিগত জিরো আওয়ার;
ইচ্ছে ছিলো না জানাবার এই বিশেষ কথাটা তোকে।
তবু ক্রমশই বেশি ক’রে শীত রাত্রে
এ রকম জলতেষ্টা আর কখনও পেতো না,
রোজ অন্ধকার হাতড়ে টের পাই তিনটি ইঁদুর।
ইঁদুর না মুষিক?
তা হলে কি প্রতীক্ষায় আছে অদূরেই সংস্কৃত শ্লোক?
পাপ ও দুঃখের কথা ছাড়া আর
এ অবেলায় কিছুই মনে পড়ে না।
আমার পূজা ও নারী হত্যার ভেতরে বেজে ওঠে সাইরেন।
নিজের দু’হাত যখন নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করে
তখন মনে হয় ওরা সত্যিকারের।
আজকাল আমার নিজের চোখ দুটোও
মনে হয় একপলক সত্যি চোখ।
এরকম সত্য পৃথিবীতে খুব বেশি নেই আর
TAG SEARCH:
#kobita
#bangla_kobita
#kobita_abritti
#biroher_kobita
#koster_kobita
#sad_kobita
#valobasar_kobita
#poem
#poem_recitation
#sad_poem
#bangla_poem
#poetry
#sad_poetry
#poetry_recitation
#bangla_poetry
#viral_poem
#virul_poetry
#সবুজ
#সবুজহক
#sabujhaque
#কবিতা
#বাংলা_কবিতা
#কবিতা_আবৃত্তি
#বিরহের_কবিতা
#কষ্টের_কবিতা
#ভালোবাসার_কবিতা
#ভাইরাল_কবিতা