ফিরে এসো ❤️ | Emotional Bengali Love Song | Electronic DJ Beat | Heart Touching Song
Sohanur Hossain 7.0
0:00 / 0:00
ফিরে এসো ❤️ | Emotional Bengali Love Song | Electronic DJ Beat | Heart Touching Song
12 просмотров · 7 дней назад
Sohanur Hossain 7.0
7 подписчиков
12 просмотров · 7 дней назад
যেদিন তুমি ফিরে এলে
শহরের শেষ প্রান্তে একটা ছোট্ট নদী ছিল। নদীর পাশে পুরোনো একটা বেঞ্চ। প্রতিদিন বিকেল হলে সেখানে এসে বসত রায়হান।
কেন বসত, সেটা কেউ জানত না।
শুধু সে জানত, পাঁচ বছর আগে ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন মেয়ে তাকে বলেছিল,
—“আমি তোমার কাছে ফিরে আসব।”
মেয়েটার নাম ছিল মেহরিন।
পাঁচ বছর আগে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল বৃষ্টির দিনে। মেহরিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে ভাঙা ছাতা। রায়হান নিজের ছাতাটা তার মাথার ওপর ধরেছিল।
মেহরিন হেসে বলেছিল,
—“আপনি নিজে ভিজছেন কেন?”
রায়হান বলেছিল,
—“আপনি ভিজলে আমার ভালো লাগবে না।”
সেদিনের সেই ছোট্ট কথাটাই ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিণত হয়েছিল।
প্রতিদিন বিকেলে তারা নদীর পাশে বসত। মেহরিন গল্প করত, আর রায়হান চুপচাপ তার কথা শুনত।
একদিন মেহরিন জিজ্ঞেস করেছিল,
—“তুমি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে?”
রায়হান হেসে বলেছিল,
—“চেষ্টা করতে পারব, কিন্তু পারব না।”
মেহরিন তার হাত ধরে বলেছিল,
—“তাহলে আমাকে কোনোদিন ছেড়ে যেও না।”
রায়হান বলেছিল,
—“তুমি আগে ছেড়ে যেও না।”
কিন্তু মানুষ সবসময় নিজের কথা রাখতে পারে না।
একদিন মেহরিনের পরিবার তাকে নিয়ে অন্য শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
যাওয়ার আগে সে রায়হানকে নদীর পাশে ডেকে বলল,
—“আমাকে অপেক্ষা করতে বলো না।”
রায়হান অবাক হয়ে বলল,
—“কেন?”
মেহরিন চোখের পানি মুছে বলল,
—“কারণ আমি জানি না, কতদিন পর ফিরতে পারব।”
রায়হান তার হাত ধরে বলল,
—“তুমি যতদিন নেবে, আমি ততদিন অপেক্ষা করব।”
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল,
—“যদি আমি আর না ফিরি?”
রায়হান মৃদু হেসে বলেছিল,
—“তাহলে তোমার স্মৃতির সঙ্গে থাকব।”
সেদিন মেহরিন চলে গেল।
তারপর পাঁচ বছর কেটে গেল।
রায়হান অনেকবার তাকে খুঁজেছে। ফোন নম্বর বন্ধ। পুরোনো ঠিকানা বদলে গেছে। কোনো খবর নেই।
তবুও প্রতিদিন বিকেলে সে নদীর পাশে এসে বসত।
তার বন্ধুরা বলত,
—“ওকে ভুলে যাও।”
রায়হান শুধু হাসত।
কারণ কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়া যায় না।
এক সন্ধ্যায় হঠাৎ রায়হানের ফোনে একটা মেসেজ এল।
“তুমি কি এখনও নদীর পাশে আসো?”
রায়হানের বুক কেঁপে উঠল।
সে লিখল,
“হ্যাঁ। তুমি?”
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল—
“আজ এসো।”
রায়হান দৌড়ে নদীর কাছে গেল।
দূরে একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
সাদা পোশাক।
চোখে পানি।
রায়হান থমকে দাঁড়াল।
মেহরিন।
পাঁচ বছর পর সে ফিরে এসেছে।
রায়হান ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে বলল,
—“তুমি সত্যিই ফিরে এসেছো?”
মেহরিন মাথা নাড়ল।
—“হ্যাঁ।”
—“এতদিন কোথায় ছিলে?”
মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—“বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলাম।”
রায়হান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
মেহরিন বলল,
—“আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাইনি। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে এমন একটা জীবনে নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো সুযোগ ছিল না।”
রায়হানের চোখে পানি চলে এল।
—“তাহলে আজ ফিরলে কেন?”
মেহরিন তার দিকে তাকিয়ে বলল,
—“কারণ আমি বুঝেছি, পৃথিবীতে অনেক মানুষ পাওয়া যায়, কিন্তু তোমার মতো একজনকে হারিয়ে ফেললে আর ফিরে পাওয়া যায় না।”
রায়হান কিছু বলল না।
শুধু তার হাতটা ধরে ফেলল।
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
—“তুমি কি এখনও আমাকে ভালোবাসো?”
রায়হান মৃদু হেসে বলল,
—“আমি তোমাকে ভালোবাসা কখনো বন্ধ করিনি।”
মেহরিন তার বুকে মাথা রেখে কাঁদতে লাগল।
সেদিন নদীর পানি খুব শান্ত ছিল।
আকাশে চাঁদ উঠেছিল।
পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর তারা আবার একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিল।
কিন্তু মেহরিন হঠাৎ বলল,
—“রায়হান, আমার তোমাকে আরেকটা কথা বলা দরকার।”
রায়হান তার মুখের দিকে তাকাল।
—“কী?”
মেহরিন চোখ নামিয়ে বলল,
—“আমি ফিরে এসেছি তোমার কাছে থাকতে নয়।”
রায়হানের মুখের হাসি থেমে গেল।
—“তাহলে?”
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
—“শুধু তোমাকে শেষবার দেখতে।”
রায়হানের বুকটা যেন ফাঁকা হয়ে গেল।
—“কেন?”
মেহরিন খুব আস্তে বলল,
—“আমি অনেকদিন ধরে অসুস্থ। ডাক্তার বলেছে, আমার সময় খুব কম।”
রায়হান কিছু বলতে পারল না।
মেহরিন বলল,
—“আমি চাইনি তুমি আবার আমাকে হারাও। তাই চলে গিয়েছিলাম।”
রায়হান তার হাত শক্ত করে ধরে বলল,
—“এইবার তোমাকে একা যেতে দেব না।”
মেহরিন চোখের পানি মুছে হাসল।
—“তাহলে শেষ সময়টুকু আমার সঙ্গে থাকবে?”
রায়হান বলল,
—“শেষ সময় নয়। যতক্ষণ তুমি থাকবে, ততক্ষণ আমি থাকব।”
কয়েক মাস তারা একসঙ্গে ছিল।
ছোট ছোট স্বপ্ন দেখেছিল।
নদীর পাশে বসেছিল।
বৃষ্টিতে ভিজেছিল।
একদিন মেহরিন রায়হানকে বলল,
—“তুমি জানো, আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় কোনটা?”
—“কোনটা?”
—“যখন তুমি প্রথমবার আমার মাথার ওপর ছাতা ধরেছিলে।”
রায়হান হেসে বলল,
—“আর আমার সবচেয়ে সুন্দর সময়?”
—“কোনটা?”
—“যখন তুমি আবার ফিরে এসেছিলে।”
মেহরিন চোখ বন্ধ করে হাসল।
কয়েকদিন পর সে চলে গেল।
চিরদিনের জন্য।
তারপরও রায়হান নদীর পাশে আসত।
কিন্তু এবার অপেক্ষা করার জন্য নয়।
মেহরিনের স্মৃতির পাশে বসার জন্য।
একদিন বিকেলে সে বেঞ্চটায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
—“তুমি বলেছিলে ফিরে আসবে। তুমি ফিরেছিলে। শুধু থাকতে পারোনি।”
হালকা বাতাস বয়ে গেল।
রায়হান চোখ বন্ধ করল।
তার মনে হলো, মেহরিন যেন পাশে বসে আছে।
খুব আস্তে বলছে,
—“আমি তো বলেছিলাম, ফিরে আসব।”
রায়হানের চোখ দিয়ে পানি পড়ল।
সে মুচকি হেসে বলল,
—“হ্যাঁ। তুমি কথা রেখেছো।”
তারপর সে উঠে দাঁড়াল।
নদীর দিকে শেষবার তাকিয়ে বলল,
“ভালোবাসা কখনো কখনো মানুষকে কাছে রাখে না। শুধু সারাজীবন মনে রাখার মতো একটা মানুষ দিয়ে যায়।”
সমাপ্ত। ❤️