ফিয়াতুল বাগী এরা এখন কোথায় ⁉️জান্নাতের সংবাদপ্রাপ্ত আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-কে শাহাদাত করেছিল‼️
Media
0:00 / 0:00
ফিয়াতুল বাগী এরা এখন কোথায় ⁉️জান্নাতের সংবাদপ্রাপ্ত আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-কে শাহাদাত করেছিল‼️
316 просмотров · 2 дня назад
Media
2,46 тыс. подписчиков
316 просмотров · 2 дня назад
হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম সাহাবী, যাকে দুনিয়াতেই রাসুল (সা.) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তিনি এবং তাঁর পরিবার ইসলামের ইতিহাসের প্রথম দিকে মক্কার কাফেরদের অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে ঈমানের ওপর অটল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
নিচে তাঁর জীবন, কুরবানি এবং ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অনন্য মর্যাদার একটি সংক্ষিপ্ত ও গোছানো বিবরণ তুলে ধরা হলো:
১. জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
• পিতা ও মাতা: তাঁর পিতা হযরত ইয়াসির (রা.) ছিলেন ইয়েমেনের অধিবাসী, যিনি মক্কায় এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর মাতা ছিলেন হযরত সুমাইয়া (রা.)।
• প্রথম শহীদ পরিবার: ইসলামের সূচনা লগ্নেই পুরো ইয়াসির পরিবার গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেন। কুরাইশদের নির্মম নির্যাতনে হযরত সুমাইয়া (রা.) ইসলামে প্রথম নারী শহীদ হওয়ার গৌরব লাভ করেন এবং তাঁর পিতা ইয়াসিরও (রা.) নির্যাতনে শাহাদাত বরণ করেন।
২. জান্নাতের সুসংবাদ ও ঈমানী দৃঢ়তা
মক্কার উত্তপ্ত বালুর ওপর যখন বনু মাখজুম গোত্র এই অসহায় পরিবারের ওপর নির্যাতন চালাত, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন:
"হে ইয়াসিরের পরিবার, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো! তোমাদের জন্য নির্ধারিত স্থান হলো জান্নাত।" (ইবনে মাজা, হাকেম)
একবার কাফেরদের অসহ্য নির্যাতনে বাধ্য হয়ে তিনি মুখে কুফরি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর অন্তর ছিল ঈমানে ভরপুর। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাহলের ১০৬ নম্বর আয়াত নাজিল করে তাঁর ঈমানের সাক্ষ্য দেন। রাসূল (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, "আম্মার মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঈমানে পরিপূর্ণ।"
৩. ইসলামের সেবায় ঐতিহাসিক অবদান
• প্রথম মসজিদ নির্মাতা: মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ (কুবা মসজিদ) নির্মাণের উদ্যোগ ও পাথর সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিলেন হযরত আম্মার (রা.)।
• দ্বিগুণ পরিশ্রম: মসজিদে নববী নির্মাণের সময় সাধারণ সাহাবীরা যেখানে একটি করে পাথর বহন করছিলেন, আম্মার (রা.) তখন একা দুটি করে পাথর বহন করে অনন্য শ্রম দিয়েছিলেন।
• বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ: তিনি বদর, ওহুদ ও খন্দকসহ রাসূল (সা.)-এর আমলের সকল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর আমলে ইয়ামামার যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করার সময় তাঁর একটি কান কাটা যায়।
• কুফার গভর্নর: খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলে তাঁর যোগ্যতা ও সততার কারণে তাঁকে কুফার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
৪. শাহাদাত ও রাসুল (সা.)-এর ভবিষ্যৎবাণী
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনদ্দশাতেই আম্মার (রা.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে একটি বিখ্যাত ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন:
"আফসোস আম্মারের জন্য! তাকে একটি বিদ্রোহী অত্যাচারী দল হত্যা করবে। আম্মার তাদেরকে জান্নাতের দিকে ডাকবে, আর তারা তাকে জাহান্নামের দিকে ডাকবে।" (সহীহ বুখারী)
পরবর্তীতে ইসলামের ইতিহাসে সৃষ্ট প্রথম ফিতনার সময় তিনি চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষে অবস্থান নেন। ৩৭ হিজরীতে ঐতিহাসিক সিফফিনের যুদ্ধে মুয়াবিয়া (রা.)-এর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় প্রায় ৯০ বছরেরও বেশি বয়সে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই শাহাদাতের মাধ্যমে তৎকালীন সাহাবীদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষই হকের ওপর ছিল।