পাঁচ বছর সৌদি আরবে কাটানোর পর হঠাৎ করেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম। কাউকে কিছু জানাইনি। না মা-কে,
Bengali audio story
0:00 / 0:00
পাঁচ বছর সৌদি আরবে কাটানোর পর হঠাৎ করেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম। কাউকে কিছু জানাইনি। না মা-কে,
3 830 просмотров · 7 ч назад
Bengali audio story
4,38 тыс. подписчиков
3 830 просмотров · 7 ч назад
পাঁচ বছর সৌদি আরবে কাটানোর পর হঠাৎ করেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম। কাউকে কিছু জানাইনি। না মা-কে, না ছোট বোন প্রীতিকে, এমনকি আমার স্ত্রী সাথীকেও না। ভাবলাম, এতদিন পর হঠাৎ সামনে দাঁড়ালে ওদের মুখের হাসিটা দেখব।এই পাঁচ বছরে জীবনটা সহজ ছিল না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্মাণ সাইটে কাজ করেছি। মাথার উপর আগুনের মতো রোদ, শরীরজুড়ে ধুলো আর ঘাম। আট-দশজন মানুষের সাথে ছোট একটা রুমে থেকেছি। কখনো ঠিকমতো ঘুম হয়নি, কখনো সময়মতো খাওয়াও হয়নি। শুধু একটা চিন্তাই মাথায় ছিল—আমার স্ত্রী আর ছেলেটা যেন ভালো থাকে।প্রতি মাসে আমি এক লাখ টাকার বেশি প্রত্যেক মাসে বাড়িতে পাঠাতাম। টাকা প্রথমে মা-র অ্যাকাউন্টেই যেত, কারণ তখন সাথীর নিজের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। আমি সবসময় মা-কে বলতাম,“সাথীর যা লাগে কিনে দিও। রিয়াদের যেন কোনো কষ্ট না হয়।”মা প্রতিবারই একই ধরনের কথা বলতেন।“ওরা ভালোই আছে।”“আজ সাথী মার্কেটে গেছে।”“রিয়াদ স্কুলে।”“এখন কথা বলতে পারবে না।”আমি বিশ্বাস করতাম। নিজের মা বলে কথা। তবে মাঝে মাঝে ফোনে সাথীর সাথে কথা বলতাম । কেমন জানি ভয়ে ভয়ে কথা বলতো ওর নিজের ফোন নাই মা এর ফোনে কয়েক মিনিট কথা বলতাম। তখন একটু খারাপ লাগত, কিন্তু কাজের চাপে বেশি ভাবার সময় পেতাম না।কাজ শেষ হওয়ার আগেই ছুটি পেয়ে গেলাম। তাই ঠিক করলাম কাউকে না জানিয়ে সরাসরি বাড়ি চলে যাব। এয়ারপোর্ট থেকে সাথীর জন্য একটা ব্রেসলেট আর ছেলের জন্য রিমোট কার কিনলাম। পুরো রাস্তা শুধু ভাবছিলাম, রিয়াদ দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরবে।রাতে বাড়িতে পৌঁছে প্রথমেই একটু অদ্ভুত লাগল। বাড়ির ভেতরে জোরে গান বাজছে। অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে। ড্রয়িংরুম আলোয় ভরা। মনে হচ্ছিল কোনো অনুষ্ঠান চলছে।গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখলাম। মা আর প্রীতি সাজগোজ করে অতিথিদের নিয়ে ব্যস্ত। দামি খাবার, হাসাহাসি, ছবি তোলা—সবকিছু দেখে মনে হচ্ছিল বাড়িটা যেন হোটেল হয়ে গেছে।আমি চুপচাপ বাড়ির পেছনের দিকে গেলাম। রান্নাঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটা বাচ্চার কণ্ঠ শুনলাম।“মা… আমার খুব খিদে পেয়েছে…”আমি থেমে গেলাম।তারপর সাথীর গলা শুনলাম, খুব আস্তে।“আস্তে কথা বলো বাবা… কেউ শুনে ফেললে আবার রাগ করবে। এটা খেয়ে নাও।”দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।ছোট্ট, অন্ধকার একটা স্টোররুমে সাথী মেঝেতে বসে আছে। ওকে খুব শুকনো লাগছিল। গায়ের জামাটা পুরনো, চুল এলোমেলো। সামনে একটা অ্যালুমিনিয়ামের প্লেটে বাসি ভাত আর ডাল।আমার ছেলে রিয়াদ সেই খাবার চুপচাপ খাচ্ছিল।রুমের এক কোণায় ওদের সব জিনিসপত্র গুছানো—দুটো ব্যাগ, কয়েকটা কাপড় আর একটা পাতলা কম্বল।আমি কয়েক সেকেন্ড কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।যে বাড়ির জন্য আমি পাঁচ বছর বিদেশে কষ্ট করেছি, সেই বাড়িতেই আমার স্ত্রী আর সন্তানকে আলাদা করে পেছনের ঘরে রাখা হয়েছে।ঠিক তখন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল আমার বোন প্রীতি। হাতে অতিথিদের জন্য রান্না করা মুরগির ট্রে।সে বিরক্ত গলায় বলল,“এই খাবারে হাত দিও না। এগুলো অতিথিদের জন্য। পরে যা বাঁচবে, তখন খেয়ো।”সাথী মাথা নিচু করে রইল।আমার ছেলে প্লেটটা শক্ত করে ধরে বসে থাকল।আমার মাথা গরম হয়ে উঠল।আমি হাতে থাকা ব্যাগটা মেঝেতে ছুড়ে মারলাম। শব্দ শুনে সবাই ঘুরে তাকাল।প্রীতি আমাকে দেখে একদম থমকে গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মা-ও সেখানে এসে দাঁড়ালেন।মা প্রথমে আমার দিকে তাকালেন, তারপর সাথী আর রিয়াদের দিকে। তাঁর মুখের ভাব এক মুহূর্তে বদলে গেল।পুরো রান্নাঘর একদম চুপ হয়ে গেল।প্রীতির হাত থেকে মুরগির ট্রেটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। মা হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।আমি ধীরে ধীরে সাথীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।ও এখনো মাথা নিচু করে বসে আছে। মনে হচ্ছিল, আমাকে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছে না।আমি কাঁপা গলায় বললাম,“এগুলো কী সাথী…? তোমরা এখানে কেন?”সাথী ঠোঁট কামড়ে চোখের পানি আটকানোর চেষ্টা করল।কিন্তু কিছু বলল না।আমার ছেলে রিয়াদ আস্তে করে উঠে দাঁড়াল। কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ বলল,“তুমি… আমার আব্বু?”আমার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।পাঁচ বছর ধরে যার জন্য এত কষ্ট করেছি, সেই ছেলে আমাকে চিনতেই পারছে না।আমি হাঁটু গেড়ে বসে ওকে জড়িয়ে ধরলাম।রিয়াদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর ছোট্ট করে বলল,“আব্বু… তুমি সত্যি এসেছ?”আমার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল।ঠিক তখন মা কড়া গলায় বললেন,“এভাবে না বুঝে রাগ করছিস কেন? ওরা নিজেরাই এখানে থাকতে চেয়েছে।”আমি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম।“স্টোররুমে থাকতে চেয়েছে?”মা এবার একটু থেমে বললেন,“বাড়িতে এত অতিথি… সাময়িকভাবে রেখেছি।”আমি চারপাশে তাকালাম।সাথীর পুরনো কাপড়, ভাঙা বালতি, মেঝেতে পাতলা কম্বল—সবকিছু যেন আমার বুকের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিচ্ছিল।প্রীতি বিরক্ত মুখে বলল,“ভাইয়া, এত ড্রামা করার কী আছে? ভাবি তো ভালোই আছে।”আমি রাগে চিৎকার করে উঠলাম,“এটাকে তোর কাছে ভালো থাকা মনে হচ্ছে?”ড্রয়িংরুম থেকে অতিথিদের কথাবার্তা থেমে গেছে। সবাই হয়তো বুঝতে পারছিল, বাড়ির ভেতরে বড় কিছু হচ্ছে।সাথী হঠাৎ খুব আস্তে বলল,“আপনি রাগ করবেন না প্লিজ…”আমি ওর দিকে তাকালাম।ওর চোখে ভয় স্পষ্ট।“তুমি আমাকে কিছু বলোনি কেন?”সাথী উত্তর দেওয়ার আগেই মা বলে উঠলেন,“তুই বিদেশে ছিলি। তোর কাজের চাপ ছিল। এসব ছোটখাটো বিষয় বলে তোকে চিন্তায় ফেলতে চাইনি।”আমি হেসে ফেললাম।কিন্তু সেই হাসির মধ্যে কোনো আনন্দ ছিল না।“ছোটখাটো বিষয়?”আমি রিয়াদের দিকে তাকালাম।“আমার ছেলে বাসি ভাত খাচ্ছে… আর বাইরে পার্টি হচ্ছে!”মা এবার চুপ হয়ে গেলেন।ঠিক তখন বাইরে থেকে একজন অতিথি এসে বলল,“খালা, কেক কাটার সময় হয়ে গেছে।”আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,“কিসের কেক?”প্রীতি একটু ইতস্তত করে বলল,“আমার এনগেজমেন্ট…”আমি স্থির হয়ে গেলাম।তার মানে, আমি যে টাকা পাঠিয়েছি…সেই টাকা দিয়ে আজ বাড়িতে এত আয়োজন চলছে।আর আমার স্ত্রী আর সন্তান…স্টোররুমে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।আমি ধীরে ধীরে সাথীর দিকে তাকালাম।ও চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,“আমি অনেকবার আপনাকে বলতে