ঔষধি উদ্ভিদের বাগান তৈরির নিয়ম WHO নির্দেশিকা ও নিরাপদ পদ্ধতি
Vanguard Education
0:00 / 0:00
ঔষধি উদ্ভিদের বাগান তৈরির নিয়ম WHO নির্দেশিকা ও নিরাপদ পদ্ধতি
9 просмотров · 13 дн. назад
Vanguard Education
36 подписчиков
9 просмотров · 13 дн. назад
আমাদের উঠোনে আমলকী, রান্নাঘরে হলুদ আর লবঙ্গ; দাদি-নানির হাতে এগুলোই ছিল প্রথম ওষুধ। বিশ্বে সত্তর হাজারের বেশি উদ্ভিদকে ঔষধি মনে করা হয়। আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দলিল আর গবেষণা থেকে জানব, কোন উদ্ভিদে কতটা প্রমাণ, কোথায় বিপদ, আর কীভাবে এই সম্পদ বাঁচাব।
অনেক আধুনিক ওষুধের জন্ম উদ্ভিদ থেকে। হৃদ্রোগের ডিগক্সিন, ব্যথার মরফিন, গেঁটেবাতের কলচিসিন আর ম্যালেরিয়ার আর্টেমিসিনিন। তবে লক্ষ করুন, এগুলো বিশুদ্ধ, মাত্রা-নির্দিষ্ট ওষুধ; গোটা গাছের গুঁড়া নয়। আর ভারতের গ্রামের প্রায় আশি শতাংশ মানুষ এখনো প্রাথমিক চিকিৎসায় ভেষজের ওপর নির্ভর করেন।
প্রথম সমস্যা নাম। একটি গাছের বহু সংস্কৃত নাম, আবার একই স্থানীয় নাম ভিন্ন ভিন্ন গাছে। আয়ুর্বেদে এদের বলে সন্দিগ্ধ দ্রব্য। আসল গাছ না পেলে বিকল্প বা ভেজাল চলে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি ভেষজকে লাতিন নাম, পরিবার আর ব্যবহৃত অংশ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য আটাশটি প্রস্তুতি বেছে নিয়েছে। অম্লতায় আমলকী চূর্ণ, কোষ্ঠকাঠিন্যে হরীতকী, সর্দিতে ত্রিকটু, বমিতে এলাচ, দাঁতব্যথায় লবঙ্গ তেল, ক্ষতে হলুদ। প্রতিটির সঙ্গে মাত্রা, মান আর সতর্কতাও দেওয়া।
ঘরে ভেষজ তৈরি করলে পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে জরুরি। ক্বাথ প্রতিদিন তাজা বানান, পরিষ্কার পাত্রে ঢেকে রাখুন, আঙুল ডুবিয়ে গরম কিনা দেখবেন না। চোখ ওঠায় ত্রিফলা বা দারুহরিদ্রার ক্বাথ জীবাণুমুক্ত না হলে সংক্রমণ আরও ছড়ায়। চোখে ব্যথা বা দৃষ্টি কমলে দেরি না করে চক্ষু-বিশেষজ্ঞ।
তবে ম্যানুয়ালটি নিজেই সতর্ক করে: আগে রোগের কারণ খুঁজুন। এক সপ্তাহের বেশি ক্লান্তি, জন্ডিস বা উচ্চ জ্বর হলে চিকিৎসকের কাছে যান। ম্যালেরিয়া, হেপাটাইটিস বা পানিশূন্যতা ভেষজ-চূর্ণে সারানোর বিষয় নয়। ডায়রিয়ায় সবার আগে খাবার স্যালাইন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মনোগ্রাফ প্রমাণকে তিন স্তরে ভাগ করে। সবচেয়ে উঁচু স্তর, অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল তথ্যে সমর্থিত: উইলোর ছাল জ্বর ও ব্যথায়, বসওয়েলিয়া আর্থ্রাইটিসে, পেয়ারা পাতা তীব্র ডায়রিয়ায়। কিন্তু হরীতকীর জন্য বলা হয়েছে, ক্লিনিক্যাল সমর্থিত ব্যবহার নেই, শুধু ঐতিহ্যে প্রতিষ্ঠিত।
এবার সাবধানের উদ্ভিদ। অনেকে ডায়াবেটিসে করলার রস খান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে, এর ক্লিনিক্যাল সমর্থন নেই। উল্টো শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা মারাত্মকভাবে নেমে কোমা আর খিঁচুনির প্রতিবেদন আছে। আর করলার বীজ গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
ধুতুরা উকুন মারতে বাহ্যিক প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এটি বিষাক্ত; খেলে প্রাণঘাতী। অশ্বগন্ধা চাপ কমাতে জনপ্রিয়, কিন্তু গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানে নিষেধ, আর ঘুমের ওষুধের প্রভাব বাড়াতে পারে। চিরতা ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে মিলে শর্করা বেশি নামাতে পারে।
ভেষজ আর ওষুধ একসঙ্গে খেলে বিপদ হতে পারে। কিছু ভেষজ যকৃতের এনজাইম বাড়িয়ে ওষুধের কাজ কমায়, কিছু ওষুধের প্রভাব বাড়ায়। হৃদ্রোগ বা ডায়াবেটিস থাকলে এটা আরও জরুরি। তাই চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে সব ভেষজ, চা আর সাপ্লিমেন্টের তালিকা দেখান।
প্রকৃতি-চিকিৎসার একটি হ্যান্ডবুক দাবি করে, সব রোগের একটিই কারণ, দেহে বর্জ্য জমা; আর উপবাসই প্রধান প্রতিকার। আধুনিক বিজ্ঞান বলে, রোগের কারণ বহু, আর খাবার দিয়ে রক্তের অম্ল-ক্ষার বদলানো যায় না। তবে সুষম খাদ্য, ঘুম আর ব্যায়ামের পরামর্শটুকু সত্যিই কাজের।
শেষ চ্যালেঞ্জ সংরক্ষণ। বেশিরভাগ ঔষধি গাছ এখনো বন থেকে তোলা হয়, আর মূল বা ছাল তুললে গাছ মরে যায়। আবাস ধ্বংস আর অতিসংগ্রহে অনেক প্রজাতি বিপন্ন। সমাধান দুই পথে: বনে টেকসই সংগ্রহ, আর বোটানিক গার্ডেন ও বীজব্যাংকে সংরক্ষণ।
শেষ কথা: ঔষধি উদ্ভিদ আমাদের ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু প্রাকৃতিক মানেই নিরাপদ নয়। সঠিক উদ্ভিদ, সঠিক অংশ, সঠিক মাত্রা আর সঠিক মানুষ, এই চারটি মেনে চলুন। শিকড়ে ঐতিহ্য, পাতায় প্রমাণ। ধন্যবাদ।