Перейти к содержимому

বিশ্ব নবী ও হজরত আলী আসরের কাযা নামাজের ঘটনা┇মাওলানা শাহানুর আলমের ওয়াজ┇maulana sahanur alam waz

Nobi Amar Neta

0:00 / 0:00

বিশ্ব নবী ও হজরত আলী আসরের কাযা নামাজের ঘটনা┇মাওলানা শাহানুর আলমের ওয়াজ┇maulana sahanur alam waz

3 126 просмотров · 1 мес. назад
Nobi Amar Neta
1,5 тыс. подписчиков
3 126 просмотров · 1 мес. назад
বিশ্ব নবী ও হজরত আলী খন্দকের যুদ্ধের সময় আসরের কাযা নামাজের ঘটনা┇মাওলানা শাহানুর আলমের ওয়াজ┇maulana sahanur alam new waz গাজওয়ায়ে খন্দকের সেই কঠিন দিন। চারদিক থেকে শত্রুরা মদিনাকে ঘিরে ফেলেছিল। মুসলমানদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটময়। যুদ্ধের প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে আসরের নামাজ সময়মতো আদায় করা সম্ভব হয়নি। হযরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ সেদিন বলেছিলেন—শত্রুরা আমাদের মধ্যবর্তী নামাজ, অর্থাৎ আসরের নামাজ থেকে ব্যস্ত করে রেখেছে, যতক্ষণ না সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। এরপর যুদ্ধের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবাদের নিয়ে ওযু করলেন। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর তিনি আসরের নামাজ আদায় করলেন, এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় করলেন। এই ঘটনাটি সহিহ মুসলিমে হযরত জাবির (রা.)-এর বর্ণনাতেও এসেছে। এই ঘটনা আমাদের শেখায়—নামাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিপদের মধ্যেও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আমল থেকে স্পষ্ট। বিশেষ করে আসরের নামাজের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত; হাদিসে আসরকে ‘মধ্যবর্তী নামাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি কথা: “সূর্য ফিরে এসেছিল এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ ও হযরত আলী (রা.) আবার আসরের নামাজ আদায় করেছিলেন”—এই প্রচলিত কাহিনিটি আলাদা একটি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়; এর সনদ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই ভিডিও বা ওয়াজে সহিহভাবে বলতে চাইলে গাজওয়ায়ে খন্দকের আসরের নামাজের ঘটনাটিই ব্যবহার করা নিরাপদ। মদিনায় ইসলামের শক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এতে শত্রুরা অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন গোত্র একত্রিত হয়ে মদিনায় আক্রমণ করার জন্য বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে। এই কারণে এই যুদ্ধকে গযওয়ায়ে আহযাব বা সম্মিলিত বাহিনীর যুদ্ধও বলা হয়। শত্রু বাহিনীর আগমনের সংবাদ পেয়ে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তখন হযরত সালমান ফারসি (রা.) মদিনার চারপাশে পরিখা বা খন্দক খননের পরামর্শ দেন। বিশ্বনবী ﷺ সাহাবাদের পরামর্শ গ্রহণ করলেন এরপর শুরু হলো কঠিন পরিশ্রম। প্রচণ্ড শীত, ক্ষুধা ও কষ্টের মধ্যেও রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজে সাহাবাদের সঙ্গে খন্দক খননে অংশগ্রহণ করলেন। সাহাবারা মাটি কাটছিলেন, পাথর সরাচ্ছিলেন এবং কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। তাঁদের মধ্যে কোনো অলসতা ছিল না; সবাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে মদিনাকে রক্ষা করার কাজে এগিয়ে গেলেন। অবশেষে বিশাল শত্রু বাহিনী মদিনার কাছে এসে পৌঁছাল। কিন্তু তারা যখন মদিনার চারপাশে খনন করা গভীর পরিখা দেখতে পেল, তখন তারা বিস্মিত হয়ে গেল। তাদের ঘোড়সওয়ার বাহিনী সহজে মদিনায় প্রবেশ করতে পারল না। অন্যদিকে মুসলমানদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠিন। খাদ্যের সংকট, প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং দীর্ঘ অবরোধ—সবকিছু মিলিয়ে সাহাবারা কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁদের সাহস দিলেন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে বললেন। এই সময় মদিনার মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের রক্ষা করতে থাকলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবাদের সঙ্গে থেকে নেতৃত্ব দিলেন এবং প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন। দীর্ঘ অবরোধের পর আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের সাহায্য করলেন। প্রবল বাতাস ও প্রচণ্ড ঝড় শত্রুদের শিবিরে বিপর্যয় সৃষ্টি করল। তাদের তাঁবু ও আগুনের ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেল এবং তারা ভীত হয়ে পড়ল। শেষ পর্যন্ত সম্মিলিত শত্রু বাহিনী মদিনা থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হলো। খন্দকের যুদ্ধ আমাদের শেখায়—ঈমান, পরামর্শ, ঐক্য, পরিশ্রম, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা থাকলে কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর সাহায্য আসতে পারে। বিশ্বনবী ﷺ শুধু নেতা হিসেবে নির্দেশ দেননি; বরং সাহাবাদের সঙ্গে নিজেও কষ্ট ও পরিশ্রম ভাগ করে নিয়েছিলেন। এটাই ছিল তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম মহান শিক্ষা।