হরিদ্বারে একদিন। গঙ্গা আরতি, মনসা মন্দির, হর-কি-পৌরী ঘাট। Valley of Flowers, Uttarakhand। পর্ব- 2
BHON KATTA ।। ভোঁ কাট্টা
0:00 / 0:00
হরিদ্বারে একদিন। গঙ্গা আরতি, মনসা মন্দির, হর-কি-পৌরী ঘাট। Valley of Flowers, Uttarakhand। পর্ব- 2
53 182 просмотра · 2 года назад
BHON KATTA ।। ভোঁ কাট্টা
1,87 тыс. подписчиков
53 182 просмотра · 2 года назад
#haridwar
#explore
#landofgods
#uttarakhand
#valleyofflowers
#gangaaarti
প্রাচীন কাল থেকেই হরিদ্বারের নাম শুনলেই একটা কথাই প্রথমে মনে আসে "দেব ভূমি"। মনসা মন্দির, চন্ডী মন্দির সহ আরো অনেক মন্দির, ধর্মশালা, আশ্রম সবকিছু একত্রিত করে গড়ে উঠেছে এই হরিদ্বার। যুগ যুগ ধরে বহন করে আসা বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই হরিদ্বার। এই হরিদ্বার এর বুকের উপর দিয়েই বয়ে গেছে "মা গঙ্গা"। গোমুখ থেকে উৎপত্তি হয়ে পাহাড়ি পথ বেয়ে ২৫৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এই হরিদ্বারে সমতলে নেমেছে "মা গঙ্গা"। কথিত আছে মা গঙ্গা নাকি ভগবান শিবের জটা থেকে এই হরিদ্বারেই মুক্তি পেয়েছে। প্রত্যেক বছর অগণিত ভক্তগণ আসেন এই হরিদ্বারে। আমাদের যে চারধাম অর্থাৎ কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী যেতে হয় তা এই হরিদ্বারের পথ পেরিয়ে যেতে হয়, তাই হরিদ্বারকে চারধাম এর প্রবেশপথও বলা হয়। শুধু কি তাই, এর সাথে হিমালয় পর্বতমালার বরফে মোরা পর্বত শৃঙ্গ দেখতে গেলেও আসতে হবে এই হরিদ্বার। এই হরিদ্বার কে "হরিদ্বার" বা "হরদ্বার" দুই নামেই ডাকা যায়। যেহেতু আমাদের চার ধামের মধ্যে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ রয়েছে, আর এই দুই ধাম যাবার জন্য হরিদ্বারই প্রবেশ পথ তাই যাঁরা শৈব আছেন, (অর্থাৎ যাঁরা শিবের ভক্ত) তাঁরা এই হরিদ্বারকে 'হরদ্বার' বলে আখ্যা দেন, যেহেতু ভগবান শিব কে 'হর' বলা হয়। আবার যাঁরা বৈষ্ণব আছেন (অর্থাৎ যাঁরা ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত) তারা এই হরিদ্বার কে হরিদ্বারই বলেন। যেহেতু বদ্রিনাথে আছেন ভগবান বিষ্ণু, আর ভগবান বিষ্ণুকে আমরা 'হরি' বলে জানি।
এখানে রয়েছে ইতিহাস থেকে বহন করে আসা ঐতিহ্য পূর্ণ "হর-কি-পৌরি" ঘাট।
খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে রাজা বিক্রমাদিত্য এই ঘাট নির্মাণ করেন, কথিত আছে তাঁর ভাই ভরতহরি এই স্থানে এসে তপস্যা শুরু করেছিলেন, তাই তিনি এই ঘাটটি নির্মাণ করেন। সেই পুরনো দিন থেকে আজও এই ঘাটে বয়ে চলা "মা গঙ্গা" কে স্মরণ করে সন্ধ্যা আরতি হয়।
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থন এর পর ভগবান বিষ্ণুর বাহন গরুড় দেব আকাশপথে যখন অমৃত কলসী নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়, অমৃত কলসী থেকে চার ফোঁটা অমৃত বিন্দু চারটি স্থানে পড়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম এই হরিদ্বার। এছাড়া আরও তিন ফোঁটা অমৃত বিন্দু পড়েছিল উজ্জয়নী, নাসিক ও প্রয়াগরাজ -এ। আর সেই কারণেই এই চার জায়গায় পালা করে আজও কুম্ভ মেলা হয়। হরিদ্বারে যে অমৃত বিন্দু টি পড়েছিল সেটি হর-কি-পৌরি ঘাটে পড়েছিল। আর যে জায়গাটিতে পড়েছিল সেটি হল 'ব্রহ্মকুণ্ড'।
হরিদ্বার আসার জন্য তিনটি ট্রেন আছে আমাদের হাওড়া স্টেশন থেকে। একটি হলো দুন এক্সপ্রেস (১৩০০৯), এই ট্রেনটি প্রতিদিন রাত আটটা বেজে ২৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ে। দ্বিতীয়ত হল কুম্ভ এক্সপ্রেস (১২৩৬৯), এই ট্রেনটি মঙ্গলবার ও শুক্রবার বাদ দিয়ে প্রতিদিন দুপুর একটার সময় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ে। আরেকটি ট্রেন উপাসনা এক্সপ্রেস (১২৩২৭), এই ট্রেনটি মঙ্গলবার এবং শুক্রবার হাওড়া থেকে উপর একটার সময় ছাড়ে। দুন এক্সপ্রেস যায় হাওড়া থেকে যোগ নগরী ঋষিকেশ পর্যন্ত। অপরদিকে কুম্ভ এক্সপ্রেস এবং উপাসনা এক্সপ্রেস যায় হাওড়া থেকে দেরাদুন পর্যন্ত। এই তিনটে ট্রেনেই আপনি হরিদ্বার পৌঁছে যাবেন।
থাকার ব্যবস্থাপনা :
এখানে অনেক ধর্মশালা আছে বা আশ্রম আছে সেখানে আপনি থাকতে পারেন। যদি হোটেল করতে চান, আমরা যে হোটেলে ছিলাম তার ফোন নাম্বার দিয়ে দিলাম -
Hotel Vasu Guest House:
9990624631 / 9818351509
ঘুরে দেখার ব্যবস্থাপনা :
এখানে অধিকাংশ মন্দির, গঙ্গাঘাট পায়ে হেঁটে ঘুরে নিতে পারেন, (কেবল চন্ডী মন্দির ছাড়া, এটা একটু দূর)। যদি হাতে সময় না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে ব্যাটারি চালিত ই রিক্সা করে নিতে পারেন। যদি সারাদিনে হরিদ্বার ঘুরে দেখতে চান তাহলে সে ক্ষেত্রে রিজার্ভ করলে খরচ পড়বে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। যদি রিজার্ভ না করেন তাহলে সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৩০ থেকে ৪০ টাকা (একটা পয়েন্ট থেকে আর একটা পয়েন্ট।)
খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাপনা :
বিষ্ণু ঘাটে যাবার রাস্তায় প্রচুর হোটেল আছে, এছাড়া মেন রাস্তায় অনেক হোটেল আছে, এখানে বাঙালি খাবার পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। খাবারের দামও খুব একটা বেশি নয়। ১৫০/- টাকায় পেট ভরে খাবার খেতে পারবেন।
হরিদ্বার থেকে কোথাও যাবার জন্য গাড়ি বুকিং :
Sangam Travels: 7838146928
B Tour & Travels: 8650191999 / 9639012123
Shri Rudra Tour & Travels:
9045278000 / 8439997977 / 9720006292
Guru Kripa Tour & Travels:
9997331129 / 7895321560