সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী | জিয়া বাবার জীবন কাহিনী | হক | চট্টগ্রাম টিভি MST
চট্টগ্রাম টিভি(MST)
0:00 / 0:00
সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী | জিয়া বাবার জীবন কাহিনী | হক | চট্টগ্রাম টিভি MST
19 498 просмотров · 3 года назад
চট্টগ্রাম টিভি(MST)
1,09 тыс. подписчиков
19 498 просмотров · 3 года назад
বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)'র সংক্ষিপ্ত জীবনী
তিনি মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক। তিনি বিশ্বঅলি, শাহানশাহ, জিয়া বাবা এবং শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) নামে বহুল পরিচিত।
◑ জন্ম
তিনি ১০ পৌষ ১৩৩৫ বঙ্গাব্ধ, ২৫ ডিসেম্বর ১৯২৮ খৃষ্টাব্ধ, ১২ রজব ১৩৪৭ হিজরী চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত ফটিকছড়ি থানাধীন মাইজভাণ্ডার (শরীফ) গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের সাত দিনের মাথায় তার নাম সৈয়দ বদিউর রহমান রাখা হলেও তাঁর পিতা সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) স্বপ্ন যোগে হুজুর গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)'র আদেশ প্রাপ্ত হয়ে পুনঃ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাম রাখেন সৈয়দ জিয়াউল হক। তাঁর মাতা সৈয়দা সাজেদা খাতুন ছিলেন হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী (কঃ)'র দ্বিতীয়া কন্যা।
◑ শিক্ষা জীবন
তিনি প্রথমদিকে গৃহ শিক্ষক মৌলভী মোজাম্মেল হকের নিকট আরবি বর্ণমালা ও কলমা শিক্ষা লাভ করেন। এরপর মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি পড়াশুনা করেন নানুপুর আবু সোবহান হাই স্কুলে। তৎপরবর্তীতে নবম ও দশম শ্রেণীর পাঠ শেষে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল হতে এ্যান্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ ডিগ্রী কলেজে বি.এ. সমাপনী পরীক্ষার তৃতীয় দিনে হঠাৎ তার স্বাভাবিক ভাবের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। অবশেষে সাদা খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিত্যাগ করে সরাসরি মাইজভাণ্ডার শরীপ প্রত্যাগমন করেন। এ ছিল তাঁর জীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শেষ প্রহর।
◑ সুফি মতাদর্শ
একথা সর্বজন বিদিত যে, উপরিউক্ত ঘটনার পর তিনি বোয়ালখালী হতে মাইজভাণ্ডার শরীফ ফিরে এসে একাগ্রচিত্তে আধ্যত্ম সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর জীবন আধ্যাত্মিক রহস্যমন্ডিত সূফিত্বে বিকশিত হয়। প্রকাশনাদি হতে জানা যায়, সূফিতাত্ত্বিক সাধনাকালে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে তিনি দিনের পর দিন অনাহারে, নির্ঘুম অবস্থায় কাটিয়ে দিতেন। কখনো তীব্র শীতে পুকুরের কনকনে ঠান্ডা জলে দিন-রাত একাধারে ডুবে থাকতেন। আবার কখনো সকল প্রকার জৈবনিক ক্রিয়া কলাপ মুক্ত থেকে ঘরের দরজা বন্ধ অবস্থায় আপাদমস্তক চাদর মুড়ি দিয়ে কাটিয়ে দিতেন দিনের পর দিন। সন্তানের এমতাবস্থায় তাঁর পিতা যখন খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তখন তাঁকে স্বপ্নযোগে হুজুর গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) আদেশ করেন, ‘কেন তুমি এত উদ্বিগ্ন? যাও আমার লম্বা সবুজ জুব্বাটি (আলখেল্লা) তাকে পরিয়ে দাও’। তিনি সহসা গিয়ে সন্তানকে জুব্বাটি পরিয়ে দেন। এ ঘটনার পর হতে ধীর-স্থির হয়ে যাওয়ার মত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)'র প্রাত্যহিক আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাঁর জীবনী লেখকগণ তাকে মজ্জুবে ছালেক দরবেশ ( ﺍﻟﺼّﻮﻓﻲ ﺍﻟﻤﺠﺬﻭﺏ ﺍﻟﺴﺎﻟﻚ ) বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি কখনো সমূদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে, গহীন জঙ্গলে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফরে বের হতেন। তাঁর বহুল আলোচিত রহস্যময় অলৌকিক ঘটনাবহুল জীবন চিরস্মরণীয়। তিনি ত্বরীকার ধারাবাহিকতায় স্বীয় পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর পীরগত শাজরা ছোট মৌলানা সৈয়দ আমিনুল হক ওয়াছেল মাইজভাণ্ডারী হয়ে হুজুর গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী(কঃ)'র সাথে মিলিত হয়ে হুজুর আযম শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী ও হযরত আলী (রাঃ) মারফত বিশ্ব নবী হযরত
মোহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত ব্যাপৃত।
◑ উপনাম
প্রকাশিত তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্তগণের নিকট তিনি বেশ কিছু উপনামে বহুল পরিচিতি লাভ করেন। তন্মধ্যে দুইটি বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। ‘বিশ্ব অলি’ তার মূল প্রসিদ্ধ উপাধি হলেও তিনি সাধনা কাল হতেই ‘শাহানশাহ বাবাজান’ বা 'জিয়া বাবা' নামে সমাজে পরিচিত।
◑ বংশধারা
তিনি ফটিকছড়ির প্রখ্যাত জমিদার বদরুজ্জামান চৌধুরীর (বদন সিকদার) ছোট কন্যা সৈয়দা মনোয়ারা বেগমের সাথে ১৯৫৫ সালের ২৮ জানুয়ারি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর সূফিতাত্ত্বিক পীর এবং পিতা, লেখক ও সূফি সাধক অসিয়ে গাউসুল আযম সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ১৯৮২ সালের ১৮ জানুয়ারি ওফাত বরণ করেন। সাজরা মোতাবেক তিনি বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সঃ)'র বংশধর। এ ধারা হুজুর আযম শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী এবং ফাতেমা তুজ জাহারা হয়ে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)'-এর সাথে যুক্ত হয়।
◑ উত্তরাধিকার
তিনি ছিলেন পাঁচ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর একমাত্র পুত্র হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মঃ) ইংরেজী বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভের পর তাঁর সুফিধারা উত্তরাধিকার বা সাজ্জাদানশীন হিসাবে স্থলাভিষিক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি "শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট" নামীয় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ট্রাস্টি-র দায়িত্ব পালন করছেন। এই ট্রাস্ট বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও সর্বজীবের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমাজের দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও নিঃস্বদের সাহায্য এবং সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনকল্যাণমূলক কাজ করার জন্য নিবেদিত একটি অরাজনৈতিক, বিজ্ঞানমনস্ক দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বমানের সুবিধা সম্বলিত উন্নত দেশ গঠনে (১) শিক্ষা (২) দারিদ্র বিমোচন (৩) গবেষণা ও প্রকাশনা (৪) স্বাস্থ্যসেবা (৫) সাংস্কৃতিক ও (৬) জনসেবামূলক কাজে অবদান রেখে চলেছে।
◑ওফাত
তিনি ২৬ আশ্বিন ১৩৯৫ বঙ্গাব্ধ, ১৩ অক্টোবর ১৯৮৮ খৃষ্টাব্দ, হিজরী সনের পহেলা রবিউল আউয়াল রাত ১২টা ২৭ মিনিটে ওফাত বরণ করেন।
◑ রওজা-এ-পাক
তাঁর সমাধির উপর স্থপতি আলমগীর কবিরের নকশায় শাপলা ফুলের আঙ্গীকে একটি রওজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা স্থাপত্য শৈলীর আঙ্গীকে একটি আধুনিক স্থাপনা হিসাবে নানা প্রকাশনায় প্রশংসিত হতে দেখা যায়।
#চট্টগ্রাম_টিভি_mst
#সৈয়দ_জিয়াউল_হক_মাইজভাণ্ডারীর_সংক্ষিপ্ত_জীবনী
#মহান_১০_পৌষ