Перейти к содержимому

দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড় I DAKSHINESWAR O BELUR

The Greenery Album

0:00 / 0:00

দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড় I DAKSHINESWAR O BELUR

239 просмотров · 9 дней назад
The Greenery Album
228 подписчиков
239 просмотров · 9 дней назад
দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার উত্তর উপকণ্ঠে গঙ্গার (হুগলি নদী) পূর্ব তীরে অবস্থিত একটি বিখ্যাত হিন্দু মন্দির। এটি বাংলার আধ্যাত্মিক এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠাতা: কলকাতার বিখ্যাত জনবাজারের জমিদার, প্রখ্যাত জনহিতৈষী ও ভক্তিমতী রানি রাসমণি ১৮৪৭ সালে এই জমি কেনেন এবং ১৮৫৫ সালে মন্দিরটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। উদ্বোধন: ১৮৫৫ সালের ৩১শে মে (১৮ জ্যৈষ্ঠ ১২৬২ বঙ্গাব্দ) স্নানযাত্রার পবিত্র তিথিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধান মন্দিরে দেবী প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মন্দিরের মূল অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন ভবতারিণী (মা কালী)। দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির ইতিহাসের সঙ্গে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং সারদা দেবীর নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। রানি রাসমণির আমন্ত্রণে রামকৃষ্ণের দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায় এই মন্দিরের প্রথম প্রধান পুরোহিত হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে শ্রী রামকৃষ্ণদেব এই মন্দিরের প্রধান পূজারি ও সাধক হিসেবে দীর্ঘ সময় কাটান। মন্দিরের উত্তর-পশ্চিম কোণের যে কামরায় তিনি জীবনের শেষ ১৪ বছর কাটিয়েছিলেন, সেটি আজ ভক্তদের দর্শনের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া মন্দির চত্বরের পঞ্চবটি ও বকুলতলা অঞ্চলে বসে তিনি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক সাধনা সম্পন্ন করেছিলেন। বেলুড় মঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলায় হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিশ্বমুখ্য কার্যালয়। স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৭ সালে এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯০২ সালে এর বর্তমান রূপদান ও স্থায়ী ক্যাম্পাস গঙ্গার তীরে স্থানান্তরিত হয়। অনন্য নকশা: বেলুড় মঠের মূল মন্দিরটি স্বামী বিবেকানন্দের নিজস্ব ভাবনায় এবং স্থপতি স্বামী বিজ্ঞানানন্দের নকশায় নির্মিত হয়। এই স্থাপত্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একই সঙ্গে হিন্দু মন্দির, গির্জা এবং ইসলামিক মসজিদের স্থাপত্যরীতি ফুটিয়ে তোলে—যা সব ধর্মের ঐক্যের প্রতীক। উপাদান ও আকৃতি: ১৯৩৮ সালে নির্মিত মূল মন্দিরটি ধূসর রঙের পাথরে তৈরি। দূর থেকে দেখলে এটিকে একটি সুবিশাল বৌদ্ধ স্তূপ বা গির্জার মতো মনে হয়, যা সমস্ত প্রধান ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দির: মূল মন্দিরে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পবিত্র অস্থিভস্মের ওপর নির্মিত গর্ভগৃহ রয়েছে, যেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয়। স্বামী বিবেকানন্দের কক্ষ: মূল মন্দিরের পাশেই দুই তলায় যে ঘরটিতে স্বামীজি তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলি কাটিয়েছিলেন, সেটি আজ সংরক্ষিত রয়েছে এবং ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত। মন্দির চত্বর: বিশাল ও পরিপাটি বাগান ঘেরা এই চত্বরে স্বামী ব্রহ্মানন্দ, স্বামী স্বামী বিবেকানন্দ ও পবিত্র মা সারদা দেবীর স্মরণে পৃথক মন্দির রয়েছে। এছাড়া এখানে রামকৃষ্ণ সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম রয়েছে, যেখানে মঠের ইতিহাস ও গুরুদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র প্রদর্শিত হয়। বেলুড় মঠ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মানবসেবা, শিক্ষা বিস্তার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক বিশ্বজনীন কেন্দ্র। গঙ্গার শান্ত পরিবেশ ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের জন্য প্রতিদিন এখানে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ও পুণ্যার্থী আসেন।