বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যান সংস্থা, বরিশাল ll Old Rehabilitation Welfare Association, Barisal
Economic News24
0:00 / 0:00
বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যান সংস্থা, বরিশাল ll Old Rehabilitation Welfare Association, Barisal
1 614 просмотров · 4 года назад
Economic News24
577 подписчиков
1 614 просмотров · 4 года назад
Old Rehabilitation Welfare Association, Barisal ll বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যান সংস্থা, বরিশাল
in this video I show বৃদ্ধাশ্রম, বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যান সংস্থা,
গনপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান - reg. no: 1815,
ঠিকানাঃ বাড়ি নং - ১৫৫৩, কাউনিয়া হাউজিং ( ইসলামী ব্যাংকের নিচতলা ) বরিশাল।
সেবার লক্ষ্য : উন্নয়ন ( পল্লি দরিদ্র, প্রতিবন্ধি, বিধবা, ছিন্নমূল শিশু ) ও বৃদ্ধাশ্রম,
ওয়েবসাইট : www.orwabd.org
টাকার অভাবে বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকার পর ২০২০ সালে আবার চালু হয় এই বৃদ্ধাশ্রম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৫-৩৬ জন বৃদ্ধ বাবা-মা এসেছেন।
মাতৃজঠর থেকে শুরু; এরপর মুখে ভাষা-দেখার আলো, জীবন-যাপনের আর্ট সবই তো মায়ের কাছেই শেখা। নাড়িছেঁড়া ধন সন্তানকে মা আগলে রাখেন, সকল চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে মায়ের এই অভিপ্রায় পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধতাকে হার মানায়। মায়ের এই চিরায়ত ভালোবাসার প্রতিদানে কোনো কোনো সন্তানের আছে ভালোবাসাকে ধারণ করতে না পারার অবাধ্যতা।সেখান থেকেই জন্ম বৃদ্ধাশ্রমের। মা কী করে বৃদ্ধা হয়ে যান? সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা যদি বয়সি বৃক্ষের মতো নুয়ে না পড়ে তবে, কেন সন্তানের ভালোবাসা এভাবে হারিয়ে যায়। যে মা অক্লান্ত পরিশ্রমে, নির্ঘুম রাত কাটিয়ে হাজারো ব্যস্ততায় আগলে রেখেছেন সন্তানদের, সেই সন্তানদেরই এখন সময় নেই মাকে যত্ন করার কিংবা হাসিমুখে একটু কথা বলার। বরং মাকে ফেলে গেছেন রাস্তায়। কিন্তু মা তো সেটা বিশ্বাস করতে চায় না, বরবার পরিবারের গল্পেই মেতে থাকেন তিনি। মা নামের এই ভালোবাসাগুলো বুঝি সারাদিন এই জানালা দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আর ভাবে এই বুঝি তার কেউ এলো, তাকে বুকে জড়িয়ে বলল, ‘মা নিয়ে যেতে এসেছি তোমায়, চলো তুমি আমার সঙ্গে আমার ঠিকানায়।’ ততক্ষণে হারিয়ে যাই এক ভাবনার জগতে সন্তানরা হয় কেউ বড় ডাক্তার, কিন্তু মাকে রেখে গেছেন এই কুঠুরিতে। মাকে দেখার সময় তাদের হয় না। যন্ত্রণা আর অবহেলায় তিক্ত হয়ে অনেকেই নিজ ইচ্ছায় ঠাঁই নিয়েছেন এই বৃদ্ধাশ্রমে। আবার কাউকে স্নেহের সন্তানেরা বোঝা মনে করে সযত্নে রেখে গেছেন। অনেক সন্তানের অর্থসম্পদের অভাব নেই, কিন্তু পিতা-মাতাকে নিজের কাছে রাখার প্রয়োজন বোধ না করে নিজেই পাঠিয়ে দিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। কোনো মা যেন কষ্টে হয়ে উঠেছেন পাথর। ভেতরটা সন্তানের জন্য মুচড়ে উঠলেও মুখ দিয়ে তাদের আসে না কথা। শুধু একটাই বাক্য, কারো দরকার নেই! জীবনের পড়ন্ত বিকেল বা গোধূলিতে এক কাপ চায়ে পরিবারের সঙ্গে আড্ডা, এ কথাগুলো যেমন তাদের জীবনে অবাস্তব তেমন বাস্তব করাটাও অসাধ্য নয়। পৃথিবীর প্রত্যেকটি সন্তান যদি চায় নিজেদের বাবা-মাকে তারা আগলে রাখবে ঠিক শিশুর মত, তাহলেই হয়তো এসব বৃদ্ধাশ্রমও একদিন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকবে। বরিশালে বৃদ্ধাশ্রম চাইনা। তারপরও একটি বৃদ্ধাশ্রম জরুরী প্রয়োজন বলে দাবী করেন সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের অনেকেই। বিশেষ করে কিছুদিন আগে একজন প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে ডিসি পুকুরের পারে ফেলে যাওয়ার ঘটনাটিতে এ প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সাংস্কৃতিকজন ও অধ্যাপক তপংকর চক্রবর্তী এবং সামাজিক আন্দোলনের নেতা কাজী মিজানুর রহমান। এমনকি বরিশাল সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নাজমুল হোসেন আকাশও বললেন, ইসলামে বৃদ্ধাশ্রমের কোনো স্থান নেই। কারণ, সৃষ্টিকর্তার পরেই যেখানে মা ও বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। কিন্তু কিছু সন্তানের কারণে এটা এখন জরুরী দরকার হয়ে পরেছে বলেন তারা। ডিসি পুকুর পাড়ে পরে থাকা প্রতিবন্ধী ঐ বৃদ্ধার আশ্রয় হয়েছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম)। তিনি কেমন আছেন, কি অবস্থা তা জানা হয়নি আর। দুদিনআগে হঠাৎ সামাজিক আন্দোলনের নেতা ও বরিশাল অর্থনীতি সমিতির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান ফোন করে জানালেন, কাউনিয়ায় একটি বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। তবে তাদের আয়োজন খুব সীমিত। আপনি ঘুরে দেখে ওদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন করতে পারেন। অসহায় বয়স্ক নারী ও পুরুষদের জন্য এই বৃদ্ধাশ্রম চোখে জল যেমন এনেছে, তেমনি মনের ভিতর প্রশাসনের উপর ক্ষোভও তৈরি করেছে। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে বণ্টন হয়। নগরীর প্রাণকেন্দ্র কাউনিয়ায় এই বৃদ্ধাশ্রমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তার পদচিহ্ন পড়েনি। এখানে যারা আছেন কারো সন্তান নেই। পুত্রবধূ ও নাতনিদের নির্যাতন সহ্য করার পরও ফেলে দেয়া হয়েছে রাস্তায়। কেউ আবার জন্ম থেকেই এতিম। কোথাও নেই আপনজন। এমন প্রতিবন্ধীও আছেন কয়েকজন। ছেলে মেয়ে তাড়ানো, নিঃসন্তান ও এতিম ১০ জন অসহায় ষাটোর্ধ বৃদ্ধাকে নিয়ে একটি বৃদ্ধাশ্রম বরিশালে চলছে। চলছে না বলে বলা যায়, চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই বরিশালে যার খবর কেউ কখনো রাখেনি। ২০১৫ সালে শাখাওয়াত হোসেন নামে এক যুবক নিজেরই বাবা-মাকে সাথে নিয়ে প্রথম বরিশালের বাকেরগঞ্জে এই বৃদ্ধাশ্রমটি তৈরি করেন। বাবা-মাসহ আরো তিনজন অসহায় বৃদ্ধাকে নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে টানছিলেন এই বৃদ্ধাশ্রমটি। ২০১৭ সালে সরকার এটিকে অনুমোদন দিলেও আজ পর্যন্ত সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান শাখাওয়াত হোসেন। প্রতিকূল পরিবেশ, লোকবল ও টাকার অভাবে কিছুদিন বন্ধও ছিলো প্রতিষ্ঠানটি। পরে ২০২০ সালে শাখাওয়াত হোসেন এটিকে কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় পুনরায় চালু করেন। এখানে একটি দোতলা ভবনের নীচতলায় দুটি ইউনিট ভাড়া নিয়ে বৃদ্ধাশ্রমটিকে বাকেরগঞ্জ থেকে বরিশাল সদরে স্থানান্তর করেছেন তিনি। সরেজমিনে বুধবার দুপুরে কাউনিয়া হাউজিং এলাকার বৃদ্ধাশ্রমটিতে আচমকা উপস্থিত হলে দেখা যায়, দুপুরের খাবার খাচ্ছেন এখানে আশ্রিত এক বাবা ইস্কান্দার আলী খলিফা। একসময় ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের বাসিন্দা সরলা গাইন, ময়মনসিংহের মৃত মোসলেম ম-লের মেয়ে কমলা বেগম, শরিয়তপুরের মৃত আইয়ুব আলী মাঝির মেয়ে আয়েশা বেগম, কাঁঠালিয়ার ফেরেজ হাওলাদারের প্রতিবন্ধী মেয়ে আম্বিয়া খাতুন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে আসা শতবর্ষী শাহেরা খাতুনসহ আরো তিনজন প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা এখানে রয়েছেন।
#economicnews24 #বৃদ্ধাশ্রম #banglanews