হিরনবালা - হেলাল হাফিজ । পাঠ- আওসাফ রাহমান
Ausaf Rahman recitations
0:00 / 0:00
হিরনবালা - হেলাল হাফিজ । পাঠ- আওসাফ রাহমান
140 просмотров · 2 нед. назад
Ausaf Rahman recitations
533 подписчика
140 просмотров · 2 нед. назад
কবি হেলাল হাফিজ—তাঁকে চিনতে হলে শুধু তাঁর কবিতার কাছে গেলেই হয় না; যেতে হয় তাঁর নীরবতা, দীর্ঘ বিরতি, নিঃসঙ্গতা, তুমুল যৌবন, আড্ডা, অভিমান, প্রেম, আত্মপীড়ন এবং জীবনের প্রতি অদ্ভুত নির্মোহ দৃষ্টির কাছেও। কারণ, জীবন মন্থন করে যে বিষে তিনি হয়েছিলেন নীলকণ্ঠ; সেই জীবনের পরিশ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও নান্দনিক প্রকাশই তাঁর কবিতা। যাকে বলতে পারি জীবনের দহন থেকে উঠে আসা প্রদীপ্ত শব্দমালা।
বাংলা কবিতায় জনপ্রিয়তা অনেক কবিরই আছে। কিন্তু খুব অল্প কয়েকজন কবিই এমন জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে কবিতার পঙ্ক্তি বইয়ের পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিরহ, রাজনৈতিক চেতনা ও প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। হেলাল হাফিজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতা কেউ বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়েছে, কেউ মিছিলে উচ্চারণ করেছে, কেউ বিচ্ছেদের রাতে প্রিয়জনকে পাঠিয়েছে, আবার কেউ নিজের অপ্রাপ্তির মুখ খুঁজে পেয়েছে তাঁর কোনো একটি পঙ্ক্তিতে। কবিতার এই জনজীবনে প্রবেশই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।
হেলাল হাফিজের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ মাত্র দুটি—‘যে জলে আগুন জ্বলে’ এবং ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। প্রথমটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে; দ্বিতীয়টি আসে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বিরতির পর—২০১৯ সালে। এত দীর্ঘ কাব্যজীবনে মাত্র দুটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেও যে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করা সম্ভব, হেলাল হাফিজ তার এক বিরল দৃষ্টান্ত। দ্বিতীয় বই প্রকাশের আগে প্রায় দুই শ কবিতা থেকে মাত্র ৩৪টি কবিতা বেছে নেওয়ার কথাও তিনি নিজেই বলেছিলেন।
তবে সংখ্যার বিচারে হেলাল হাফিজকে বোঝা যাবে না। তাঁকে বুঝতে হবে তাঁর কবিতার অভিঘাতের বিচারে। ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশের পর বাংলা কবিতার পাঠক খুঁজে পায় একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। সেখানে প্রেম আছে, কিন্তু তা নিছক রোমান্টিক প্রেম নয়; দ্রোহ আছে, তা–ও কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; ব্যক্তিগত বেদনা আছে, যা ব্যক্তিগত ঘেরাটোপে আটকে থাকে না। তাঁর কবিতায় প্রেম ও দ্রোহ পরস্পরের বিপরীত নয়, বরং একই মানবিক বোধের দুই প্রকাশ। কবি নিজেও পরে বলেছেন—তাঁর কাছে দ্রোহ ও প্রেম একই মালার দুটি ফুল। প্রেমিক না হলে বিপ্লবী হওয়া যায় না, আবার প্রকৃত বিপ্লবীর ভেতরেও প্রেমিক সত্তা জেগে থাকে। হেলাল হাফিজের কাব্যসত্তার এই জায়গাটিই বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি রাজপথের উত্তাপ আর হৃদয়ের গোপন কাঁপনকে একই কবিতার শরীরে ধারণ করতে পেরেছেন।
‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’-এর সেই উচ্চারণ ‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’—শুধু একটি রাজনৈতিক সময়ের আহ্বান হয়ে থাকেনি; তা হয়ে উঠেছিল একটি প্রজন্মের আত্মপরিচয়ের অংশ। উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানের উত্তাল বাস্তবতা থেকে জন্ম নেওয়া এই কবিতা পরবর্তী সময়ে স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ হয়ে আমাদের যেকোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম ও তারুণ্যের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।