Перейти к содержимому

সেদিন দলে দলে লোকজন আমাদের ঘরে ঢুকছিলো। কেউ দেখছিলো আম্মাকে। কেউ আব্বাকে। অথচ সবার দেখার কথা ছিলো,,,

Bengali audio story

0:00 / 0:00

সেদিন দলে দলে লোকজন আমাদের ঘরে ঢুকছিলো। কেউ দেখছিলো আম্মাকে। কেউ আব্বাকে। অথচ সবার দেখার কথা ছিলো,,,

1 256 просмотров · 12 ч назад
Bengali audio story
4,26 тыс. подписчиков
1 256 просмотров · 12 ч назад
সেদিন দলে দলে লোকজন আমাদের ঘরে ঢুকছিলো। কেউ দেখছিলো আম্মাকে। কেউ আব্বাকে। অথচ সবার দেখার কথা ছিলো আমার বড় আপাকে। সময়টা ছিল হেমন্তের এক সোনাঝরা মিষ্টি দুপুর সারাবাড়িজুড়ে থইথই আনন্দ।আমাদের পরিবারের প্রথম বিয়ে বলে কথা। অবনী আপার বিয়েটা তখন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে কায়সার ভাইয়ের সাথে। কায়সার ভাই হলো আমার বড় চাচার মেজো ছেলে। দাদী আব্বাকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন ছোট ছেলে বলে। আবার সেই ছোট ছেলের ঘরের প্রথম সন্তান আমার অবনী আপা। দাদীর পরান ছিলো আমার অবনী আপা। দাদী খুউব চেয়েছেন নিজেই পাত্র ঠিক করবেন তার অবনীর জন্য। হলোও তাই। আব্বাও জীবন সায়াহ্নে চরণ ফেলা মায়ের আবদার ফেলতে পারেননি। একবাক্যে রাজী হয়ে গেলেন। আপার সাথে কায়সার ভাইয়ের বিয়ের কথা যখন দুই পরিবারের মাঝে পাকা হয়। তখন আপা ক্লাস এইটে পড়ে। বয়স চৌদ্দ৷ আর কায়সার ভাই তখন কলেজে পড়ে হোস্টেলে থেকে। আপা কলেজ পাশ করলেই বিয়ে হবে। গুরুগম্ভীর কায়সার ভাইয়ের দিক থেকেও কোন আপত্তি ছিলনা। আপার সাথে অতিরিক্ত কথাও বলতেন না তিনি। আপাও লজ্জায় লুকিয়ে লুকিয়ে থাকতো কায়সার ভাই বাড়ি এলেই। আব্বা তারপর বিদেশে চলে যায়। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে।এদিকে যখন আপা কিশোরী বয়স পেরিয়ে চঞ্চল তারুণ্যে পা রাখলো। দুই পরিবারের অপেক্ষার অবসান হলো। বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসছে। আম্মা আব্বাকে চিঠি লিখলেন আপার বিয়ের বিষয়ে। তখন চিঠির স্বর্ণালী যুগ ছিলো। চিঠির উত্তর আসতে তিনমাস লেগে যেতো। বসে থাকার সময় নেই। আম্মা আমাকে সাথে করে বড় বাজারে গেলেন। আব্বার কাছে টেলিগ্রাম করলেন। কিভাবে কি করবেন বিয়ের বিষয়ে? তখন টেলিগ্রাম ছিলো দেশের বাইরে বার্তা আদান প্রদানের সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম। আব্বার থেকে জবাব এলো,আমি অবনির বিয়ের আগেই বাড়িতে পৌঁছে যাবো। তুমি সব প্রস্তুত করতে থাকো। তারপর আব্বা অনেক টাকা পাঠিয়েছিলো বড় আপার বিয়ে উপলক্ষে। বিয়ের কার্ড ছাপানো শেষ। বিলি করাও শেষ। সমস্ত আয়োজন শেষ। আব্বার আসা হয়না। বিয়ের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আমার আম্মার মন খারাপ ততই গভীর হচ্ছে গিরিখাদের মতন।আপার গায়ে হলুদের দিন মেজো আপা মানে সজনী আপা চনচন গলায় আম্মাকে বলল, তোমার জামাই আসেনা ক্যান? আগের মতো চিঠিও লিখেনা আমাদের কোনো বোনের কাছে। দূরে গ্যালে বুঝি পুরুষ মানুষের মন পাথথর হইয়া যায়?তখন আম্মার হাতে নারকেল শলার চিকন বিছানার ঝাড়ু ছিলো। আম্মা চ্যাত করে উঠলেন গরম তেলে পানি পড়ার মতই। সেই ঝাড়ু দিয়ে সজনী আপার পিঠে এলোপাথাড়ি মারলেন।গজগজ করে বললেন, পড়াশোনা করে মুখের ভাষা এমন হলো কেনো তোর? পিতাকে নিয়ে কেউ এভাবে কথা বলে? জালিম কোথাকার? বাড়িতে এসে বসে থাকলে পেটে ভাত আসবে? আর বইয়ের ভাষায় কথা বলতে পারিসনা? তুই ধোপা বাড়ির মেয়েদের সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিস দিনে দিনে। পরিবারের কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানিসনা। তোর পড়াশোনা বন্ধ। কি লাভ হচ্ছে পড়াশোনা করে? কি শিখছিস স্কুলে গিয়ে? তোর আব্বা আসলেই তোকে বিয়ে দিয়ে দিবো কোন জেলে বা মাঝির কাছে। তখন এইভাবে কথা বলিস তুই। আমি, অবনি, রজনী কিভাবে।কথা বলি দেখিসনা? সজনী আপা তখন মিনমিনিয়ে বলল,তুমি হইলা মাষ্টারের মাইয়া। তুমিতো বইয়ের ভাষায় কথা কইবাই। কি লাভ গ্রামে থেইকা শুদ্ধ ভাষায় কথা বইলা। সেই লাড়কি ঠেলতে হইবো। যেই লাউ সেই কদু।আমি কিছু বলিনা। চুপচাপ বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকি। আম্মা কাজের ব্যস্ততায় ডুবে যায়। ঘরভর্তি অতিথি। আপার বিয়ে উপলক্ষে ঢাকা থেকে বড় মামারাও এসেছে গায়ে হলুদের দিন বিকেলেই। সবাই আব্বার কথা জানতে চাচ্ছে আম্মার কাছে। নানুও উৎকন্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কিরে জেসমিন কইলিনা জামাই আইবো অবনীর বিয়ার আগেই? আম্মার আগে দাদীই উত্তর দিলো।বেয়াইন আইবো আমার মন কইতাছে।দাদীর কথা ঠিক হয়েছে। আব্বা সত্যি সত্যি আপার বিয়ের দিন শেষ দুপুরে এসে পড়লো। কিন্তু চমকপ্রদ কাহিনী হলো আব্বার পায়ে পায়ে সঙ্গী হয়ে বিড়ালের ন্যায় এক বিদেশিনীও