জালাল গীতি | বাউল কবি জালাল উদ্দীনের ৫টি গান | Jalal Geeti | Alauddin Qawal | Folk songs | Folkgaan
Ganer Moja
0:00 / 0:00
জালাল গীতি | বাউল কবি জালাল উদ্দীনের ৫টি গান | Jalal Geeti | Alauddin Qawal | Folk songs | Folkgaan
26 749 просмотров · 1 месяц назад
Ganer Moja
952 подписчика
26 749 просмотров · 1 месяц назад
বাউল কবি জালাল উদ্দীনের
৫টি গান
১। জনমভরে আমার তরে
২। রোজা রাখি বারো মাসে
৩। দয়াল মুর্শিদের বাজারে
৪। আমি তোমার তুমি আমার
৫। কোন সাগরের মানিক তুমি
কন্ঠঃ আলাউদ্দীন কাওয়াল
মরমি কবি জালাল উদ্দীন খাঁ
বাংলায় ওই যুগের দু’খানি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী রচিত চৈতন্যজীবনী কাব্য ‘শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত’ এবং মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য। মুকুন্দরামের ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ আছে সে-যুগের বাংলার বাস্তববাদী জীবনচিত্র ও তার সঙ্গে মেশানো লোককথা ও অলৌকিক কল্পনা। পঞ্চদশ-ষোড়শ শতকে ‘ভক্তি’বাদ আরও বিকশিত হয়ে ওঠে বাংলার বৈষ্ণব গীতিকাব্যে – চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস ইত্যাদির পদচারণায় এবং সপ্তদশ শতকে জাতীয় সংগ্রামের আবেদনে পূর্ণ মারাঠা ও শিখদের গানে ও গাথাকাব্যে।
এই ভক্তিবাদী কাব্যধারার পথ ধরেই এসেছেন উনবিংশ ও বিংশ শতকের বাংলার মরমী লোককবিরা – অর্থাৎ লালন, হাসন, শরৎ, রাধারমণ, জালাল খাঁ প্রমুখ জননন্দিত সাধক-কবিরা। তাঁদের সবার কাব্যেই আন্তোনভা-উল্লিখিত সব বিশেষত্বই কমবেশি চোখে পড়ে। এই সাধক-কবিদেরই শেষ প্রজন্মের একজন, পূর্ব ময়মনসিংহের মরমী লোককবি জালাল উদ্দীন খাঁ।
জালাল উদ্দীন খাঁ জন্ম নিয়েছিলেন ১৮৯৪ সনের ২৫ এপ্রিল, তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা মহকুমার আসদহাটি গ্রামে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী আজ থেকে ২৮ বছর আগেই নিঃশব্দে পার হয়ে গেছে। তাঁর রচিত বেশকিছু জনপ্রিয় গান এখনো সবাইকে মুগ্ধ করলেও অনেকেই হয়তো এ-গানগুলোর রচয়িতা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানেন না। বিগত শতকের চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে আব্বাসউদ্দীন আহমেদ, আবদুল আলীম প্রমুখ জনপ্রিয় শিল্পী তাঁর কিছু গান রেকর্ড করেছিলেন – যার মধ্যে রয়েছে ‘ও আমার দরদী রে, আগে জানলে তোর ভাঙ্গা নৌকায় চড়তাম না’, ‘আরে ও ভাটিয়াল গাঙের নাইয়া’, ‘দয়াল মুর্শিদের বাজারে, কেহ করে বেচাকেনা’, ‘সে পাড়ে তোর বসত বাড়ি রে, এ পাড়ে তোর বাসা’ ইত্যাদি। দশকের পর দশক অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক জনসমাজে এ-গানগুলো এখনো শ্রোতৃবৃন্দের মনে আবেদন বজায় রেখেছে।
জালাল উদ্দীন খাঁর ৭০২টি গান নিয়ে অধ্যাপক যতীন সরকারের সম্পাদনায় নন্দিত প্রকাশনী থেকে জালালগীতিকা সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে (মার্চ) ২০০৫ সালে। মনস্বী বুদ্ধিজীবী যতীন সরকারের লেখা একটি দীর্ঘ ভূমিকা ‘বাংলা কবিতার মূলধারা ও জালাল উদ্দীন খাঁ’ গ্রন্থটিকে সমৃদ্ধ করেছে। জালালগীতিকার ফ্ল্যাপে বইটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিত দেওয়া হয়েছে।
‘দোহাকোষ ও চর্যাপদ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য, সহজিয়া সাহিত্য, গাথা ও গীতির পরম্পরায় বাংলাসাহিত্যের যে বেগবান ধারাটি দেশের অন্তরতম ঐতিহ্য এবং লোকজীবনের মর্ম-উৎসারী বহুমাত্রিক চর্চা ও সাধনার ধারক, জালাল উদ্দীন খাঁ সে-ধারারই একজন বিশিষ্ট প্রতিনিধি। তাঁর সৃষ্টিসম্ভার লৌকিক জীবনবোধের ফল্গুধারায় নিষিক্ত, দেশজ জ্ঞান ও ভাবের আলোকচ্ছটায় দীপ্ত গভীর জীবনজিজ্ঞাসা ও প্রখর যুক্তির উৎসারণে এক সহজ মানবিকতার অভিসারী। বিশ শতকের উন্মেষলগ্ন থেকে পরবর্তী কয়েক দশকের নিরবচ্ছিন্ন চর্চায় গানের যে বর্ণিল জগৎ তিনি গড়ে তুলেছেন, তা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
জালাল তাঁর গানে সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেছেন। বিশ্বাস থেকে লিখেছেন :
হিন্দু কিংবা মুসলমান, শাক্ত বৌদ্ধ
খ্রিশ্চিয়ান
বিধির কাছে সবাই সমান পাপ-
পুণ্যের বিচারে।
পাপীর দয়া পাওয়ার অধিকার রয়েছে মনে করেই ‘পূণ্যের ঘরে শূন্য দিয়া, জালাল উদ্দীন আছে বইয়া/ শূন্যে শূন্য মিশাইয়া দিতে পারলেই হয় যে তার’ – এই অমোঘ বাক্যটি বলে নিশ্চিন্ত রয়েছেন তাঁর অন্তিম দিনটির প্রতীক্ষায়। আর জালাল খাঁর এই নিশ্চিন্তির কারণ তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় – ‘কী ছুরত বানাইলে খোদা রূপ মিশায়ে আপনার/ এই ছুরত দোজখে যাবে, যে বলে সে গোনাগার। সমাজচিন্তা ও দেশকালের সমসাময়িকতা তাঁর অনেক গানেই দেখা যায় – জনসংখ্যা সমস্যা থেকে ম্যালেরিয়া কিংবা কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব নিয়েও তিনি গান লিখেছেন। এগুলো তাঁর বইয়ে লোকতত্ত্ব, দেশতত্ত্ব, সংসারতত্ত্ব ইত্যাদি সর্গে বিন্যস্ত হয়েছে। কিন্তু তাঁর রচনার মধ্যে বিশিষ্ট হলো আত্মতত্ত্ব, পরমতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, সাধনতত্ত্ব, মাতৃতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব ইত্যাদি সর্গে স্থান পাওয়া গভীর দার্শনিকতাপূর্ণ গানগুলো। এসব গানে ছড়িয়ে রয়েছে দেশকাল ছাড়িয়ে মহাকালের পরিসরে ব্যক্তির অবস্থান, সৃষ্টির দুর্জেয় রহস্য, স্রষ্টা ও সৃষ্টির আপাত-দুর্বোধ্য সম্পর্ক, পাপপুণ্য ইত্যাদি বিষয়। ইহজাগতিকতার বিপরীতে যাকে বলা হয়ে থাকে পরকাল বা পরজগৎ, সে-জগতের অস্তিত্ব ও স্বরূপ সম্পর্কে তাঁর সন্দেহবাদী মন ছিল সর্বদাই প্রশ্নকণ্টকিত। আর তাই বিধাতা নামক কঠোর এক নায়কের স্বেছাচারকে তিনি অবলীলায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন – ‘আমায় তুমি দোষী বল, তুমি কি আর বেশি গুণী?/ তুমি হয়তো আমায় চিন, আমিও তোমায় কিছু চিনি।’ অথবা ‘খোদা তুমি আছ আমার মনমন্দিরে বসিয়া/ তবে কেন মোর শক্তি সাহস দিন দিনে যায় খসিয়া?’ ‘উপাসনা করলে পরে স্বর্গ যদি ভাগ্যে ঘটে। সে কি হবে দয়া তোমার, মজুরীর ওই পাওনা বটে।’জন্ম দিয়াই সঙ্গে পাঠাও আজলের এই অভিশাপ/ খেয়ালের বশে জালাল শেষে করে যদি কোন পাপ/ তাও তুমি করবে না মাপ, বাপরে বাপ গোলকধাঁধায় পড়েছি। পাপে তোমার দুনিয়াই ঘেরা পাপছবি তাই এঁকেছি।‘পাপীর আছে তোমার কাছে দয়া পাইতে অধিকার/ পাপ করে না জন্মে যে জন ভাগী নয় সে করুণার।
আব্বাসউদ্দীন আহমেদ, বেদারউদ্দিন, সোহরাব হোসেন প্রমুখের সঙ্গে জালাল উদ্দীন খাঁ পঞ্চাশের দশকেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। এছাড়া ষাটের দশকে ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, অধ্যাপক মনসুরউদ্দিন প্রমুখের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছিল বলে শুনেছি। শিল্পী আব্বাসউদ্দীন চল্লিশের দশকে ও আবদুল আলীম পঞ্চাশের দশকে তাঁর গান রেকর্ড করেছিলেন,পরবর্তীকালে শিল্পী ফেরদৌসী রহমান, নীনা হামিদ, বিপুল ভট্টাচার্য, সুবীর নন্দী প্রমুখ শিল্পীও তাঁর বেশকিছু গান গেয়েছেন।
জালাল গীতি | বাউল কবি জালাল উদ্দীনের ৫টি গান | Jalal Geeti | Alauddin Qawal | Folk songs | Folkgaan