যাত্রা সম্রাজ্ঞী জ্যোৎস্না দত্ত র কঠিন জীবন সংগ্রামের কাহিনী | actress jotsna dutta | জীবনী | Jatra
Ami Avijit Bolchi
0:00 / 0:00
যাত্রা সম্রাজ্ঞী জ্যোৎস্না দত্ত র কঠিন জীবন সংগ্রামের কাহিনী | actress jotsna dutta | জীবনী | Jatra
48 558 просмотров · 3 г. назад
Ami Avijit Bolchi
197 тыс. подписчиков
48 558 просмотров · 3 г. назад
শিল্পীতীর্থের ‘বৈজু-বাওরা’ পালার গানের রিহার্সাল চলছে। সেই পালার সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন মান্না দে। তিনি গান তোলাচ্ছেন অভিনেত্রী জ্যোৎস্না দত্তকে। অসাধারণ গানের গলা ছিল জ্যোৎস্না দত্তের। তিনি সেই গানকে তুলে নিয়ে গেলেন অসাধারণ এক উচ্চতায়। হারমোনিয়াম ছেড়ে মান্না দে বসে বসে সেই গান শুনলেন। তারপরে বললেন, ‘জ্যোৎস্না তোমার গলা যে পর্দা ছুঁয়ে ফেলছে, আমার হারমোনিয়াম সেখানে রিড খুঁজে পাচ্ছে না। তুমি হারমোনিয়ামকেও হারিয়ে দিয়েছ।’
তিনি শুধু সঙ্গীতেই অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন না, ছিলেন অনেক বড় মাপের অভিনেত্রীও। একেবারে ফ্রক পরা বয়সে ঢুকেছিলেন যাত্রাদলে। স্বাধীনতার পরের বছরে বরিশালে জন্ম। তাঁকে যাত্রাদলে এনেছিলেন ঢোলবাদক যোগেশ নট্ট। অভিনয়ের আবহের মধ্যে মিশে তিনি বড় হয়েছেন। তাঁর শ্বাস প্রশ্বাসের মধ্যে মিশে গিয়েছিল অভিনয়, জীবনে জীবন যোগ করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন যাত্রাসম্রাজ্ঞী।
কিশোরী বয়সে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলেন। তাও এল এক আকস্মিক ঘটনার মধ্য দিয়ে। চণ্ডী অপেরা, জ্যোতিষ অপেরা, মুক্তকেশী অপেরা ঘুরে ততদিনে তিনি এসেছেন সত্যম্বর অপেরায়। প্রথম বড় দল। সেখানেও তিনি সখির দলে নাচ করতেন। সেদিন সিয়ারশোল রাজিবাড়িতে বসেছে গানের আসর। পালার অন্যতম নারী চরিত্রের অভিনেতা নন্দরানী (নন্দদুলাল অধিকারী) সেদিন সময়মতো আসরে এসে পৌঁছতে পারেননি। তিনি শেফালি চরিত্রে অভিনয় করতেন। দলমালিক বিপাকে পড়ে কিশোরী জ্যোৎস্নার হাতে চার আনা পয়সা দিয়ে বললেন, ‘শোন, আজকে তোকে শেফালি চরিত্রটি করতে হবে’। জ্যোৎস্না রোজ বসে বসে দেখতেন, কে কেমন অভিনয় করেন। সব সংলাপ তাঁর মুখস্থ। অবাক হয়ে দেখতেন, কী অসম্ভব দক্ষতায় ছেলেরা মঞ্চে গিয়ে মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন। মনে মনে ভাবতেন, সুযোগ পেলেও আমি হয়তো কখনও ওইরকম অভিনয় করতে পারব না। সেই সুযোগ এসে গেল। গুরুপদ ঘোষ ছিলেন তাঁর বিপরীতে। তিনি শুধু বললেন, ‘যা বলবি জোরে জোরে বলবি। সবাই যাতে শুনতে পায়।’ সবাই চেয়েছিলেন সেদিনের মতো যাতে কাজটুকু উৎরে যায়। কিন্তু মঞ্চে যখন জ্যোৎস্না অভিনয় করলেন, দলের সকলেই অবাক হয়ে গেলেন। তাঁর ভিতরের সুপ্ত প্রতিভাকে চিনতে পারলেন। নন্দরাণী ফিরে আসার পর এই খবর পেয়ে বললেন, ‘খুব ভালো। জ্যোৎস্না তুই অনেক বড় হবি।’ আর তিনি দলমালিককে বললেন, ‘আমাকে অন্য চরিত্র দিন। এই চরিত্রটা জ্যোৎস্নাই করুক।’ সকলের অজান্তেই শুরু হল এক নায়িকার পথচলা। পরের বছর নায়িকা চরিত্র পেলেন। নারীর ভূমিকায় নারী। যাত্রায় হয়তো এই প্রথম নয়। কিন্তু জ্যোৎস্নার পথের রেখা ধরে যাত্রাদলে খুলে গিয়েছিল, নারীর ভূমিকায় একজন নারীর অভিনয়ের পথ। সেও ছিল এক নিঃশব্দ বিপ্লব।
#viralvideo
#biography
#jotsnadutta
#jatrapala
#jatra
#bengaliactress