কাউকে সমস্যার কথা বলতে পারছেন না? চুপ থাকলে সমস্যাটা আরও বড় হয়
Ahammed Hasan Uncaged
0:00 / 0:00
কাউকে সমস্যার কথা বলতে পারছেন না? চুপ থাকলে সমস্যাটা আরও বড় হয়
315 просмотров · 2 нед. назад
Ahammed Hasan Uncaged
24 подписчика
315 просмотров · 2 нед. назад
কাউকে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারছেন না?
চাকরি চলে গেছে, কিন্তু পরিবারকে বলেননি?
ঋণ বাড়ছে, কিন্তু কাউকে জানাতে পারছেন না?
মানসিক কষ্ট বাড়ছে, শরীরে সমস্যা হচ্ছে, সংসারে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, তবুও ভাবছেন,
“আরেকটু দেখি।”
“নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।”
“লোকে কী বলবে?”
সমস্যা হলো, কিছু সত্য চেপে রাখলে সেগুলো হারিয়ে যায় না।
শুধু বলার দামটা আরও বাড়তে থাকে।
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের ৪ নম্বর চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে।
কাছের প্রিপিয়াত শহরের মানুষ তখনও তাদের স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলেন।
শহর খালি করা শুরু হয় দুর্ঘটনার ৩৬ ঘণ্টারও বেশি পরে।
প্রায় ১,২০০ বাস আনা হয়েছিল মানুষ সরিয়ে নেওয়ার জন্য।
মানুষকে বলা হয়েছিল কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিতে।
বেশিরভাগ মানুষ আর কখনো নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
চেরনোবিলের গল্পটা শুধু পারমাণবিক দুর্ঘটনার গল্প না।
আমার কাছে এটা দেরির গল্পও।
একটা সমস্যা ঘটে গেছে।
কিন্তু সত্যটা যতক্ষণ স্বীকার করা হচ্ছে না, ঘড়ি ততক্ষণ থেমে থাকে না।
আমাদের জীবনেও এমন “৪ নম্বর চুল্লি” থাকে।
চাকরি নেই।
কিন্তু প্রতিদিন সকালে এমনভাবে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন যেন অফিসে যাচ্ছেন।
ঋণ বাড়ছে।
ফোন বাজলেই বুক কাঁপে।
তবুও যাকে টাকা দিতে হবে তাকে সত্যিটা বলছেন না।
শরীরে অনেকদিন ধরে সমস্যা।
ডাক্তার দেখাতে ভয় করছেন।
কারণ মনে হচ্ছে,
টেস্ট করলে যদি খারাপ কিছু বের হয়?
সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে।
বাইরে হাসিমুখ।
ভেতরে দুজন মানুষ একে অপরের কাছ থেকে অনেক দূরে।
কিন্তু কাউকে বলছেন না।
কারণ,
লোকে কী বলবে?
আমি বলছি না জীবনের সব কথা সবাইকে বলতে হবে।
Privacy দরকার।
সব মানুষ আপনার সত্য জানার অধিকারও রাখে না।
আমি বলছি সেই সমস্যার কথা,
যেটা চুপচাপ বড় হচ্ছে।
আর আপনি জানেন এটা বড় হচ্ছে।
সত্যিটা হলো,
যে সমস্যা আজ নিজের মুখে বলা যায়, কাল সেটা অন্য কারও মুখে আরও খারাপভাবে বের হতে পারে।
তখন সমস্যার সাথে অপমানও যোগ হয়।
তাই তিনটা কাজ করুন।
১. নিজের কাছে সত্যিটা স্বীকার করুন
একটা কাগজ নিন।
লিখুন,
“আমি লুকিয়ে রেখেছি...”
তারপর বাক্যটা শেষ করুন।
কী লুকিয়ে রেখেছেন?
কতদিন ধরে?
কারও জন্য না।
নিজের জন্য লিখুন।
২. প্রথম ঘোষণাটা নিজের মুখে দিন
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত একজন বিশ্বাসযোগ্য মানুষকে বলুন।
ঋণ হলে, যার সাথে কথা বলা দরকার তার সাথে সত্যি কথা বলুন এবং বাস্তব একটা পরিকল্পনা দিন।
চাকরি চলে গেলে পরিবারের উপযুক্ত মানুষকে জানান।
শারীরিক সমস্যা হলে ডাক্তার দেখান।
সম্পর্কের সমস্যা হলে সঙ্গীর সাথে কথা বলুন। দরকার হলে counsellor বা উপযুক্ত পেশাদারের সাহায্য নিন।
সবাইকে বলতে হবে না।
কিন্তু একা বহন করতেই হবে, এমনও না।
৩. পুরো জীবন একদিনে ঠিক করতে যাবেন না
আগামী সাত দিনের সবচেয়ে জরুরি তিনটা সমস্যা বেছে নিন।
বাড়ি ভাড়া?
বাচ্চার স্কুলের ফি?
ওষুধ?
ঋণের জরুরি অংশ?
সম্পর্কের একটা জরুরি কথোপকথন?
আগে সবচেয়ে কাছের আগুনটা সামলান।
সবকিছু একসাথে বাঁচাতে গেলে অনেক সময় কিছুই বাঁচানো যায় না।
আর যদি আপনার ভেতরের কষ্ট এতটাই ভারী হয়ে যায় যে বেঁচে থাকার ইচ্ছা কমে আসে, তখন সাত দিন অপেক্ষা করবেন না।
আজই বিশ্বাসযোগ্য মানুষ, পরিবারের কাউকে বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে বলুন।
আপনার জীবন সমস্যাটার চেয়ে বড়।
চেরনোবিলের সেই ৩৬ ঘণ্টা আর ফেরানো যাবে না।
কিন্তু আপনার ঘড়ি এখনো চলছে।
আজ যে সত্যটা বলতে পারেন, কাল সেটা আরও ভারী হয়ে যেতে পারে।
তাই আজ রাতে নিজেকে শুধু একটা প্রশ্ন করুন,
আমার জীবনের ৪ নম্বর চুল্লিটা কোনটা?
আমি কোন সমস্যাটা জানি,
কিন্তু স্বীকার করছি না?
তারপর প্রথম ঘোষণাটা দিন।
কারণ সত্য লুকিয়ে রাখা যায়।
কিন্তু সবসময় না।
অনেক সময় শুধু দেরি করা যায়।
আর দেরির একটা দাম আছে।
এই চ্যানেলটি subscribe করার আগে খুব ভেবে চিন্তে করবেন, কারণ সমাজের সিংহভাগ মানুষের কাছে এই চ্যানেলটি স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক।