এই ভিডিওতে কারেন্ট পোকা পরিচিতি, আক্রমনের লক্ষণ এবং দমন কৌশল A to Z দেখানো হয়েছে
কৃষিতে DKSR
0:00 / 0:00
এই ভিডিওতে কারেন্ট পোকা পরিচিতি, আক্রমনের লক্ষণ এবং দমন কৌশল A to Z দেখানো হয়েছে
2 218 просмотров · 1 год назад
কৃষিতে DKSR
2,51 тыс. подписчиков
2 218 просмотров · 1 год назад
#ফসলের_ডাক্তারি "অক্টোবর মাস কারেন্ট পোকার বাস"
বাদামি গাছ ফড়িং(Brown Plant Hopper)
#স্থানীয়_নাম: “গুনগুনি পোকা" বা "কারেন্ট পোকা"
বর্গ: হেমিপটেরা
পাখা: হেমিলাইট্রা(১ম জোড়া পাখার গোড়া শক্ত আগা পাতলা ঝিল্লি সাদৃশ)
#পোকার_পরিচিতি:
এই পোকার জীবনচক্রে তিনটি ধাপ থাকে।
i) ডিম অবস্থায়- ৪ থেকে ৫ দিন
ii) নিম্ফ/বাচ্চা- ১৪ থেকে ২৬ দিন এবং ৫ বার ইনস্টার প্রাপ্ত হয়(৫ বার খোলস বদলায়)
iii) পূর্ণাঙ্গ পোকা- ১০-২১ দিন
স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার চেয়ে আকারে বড়। পুরুষ পোকার পেট ছোট কিন্তু স্ত্রী পোকার পেট বেশ বড়। পুরুষ ও স্ত্রী পোকা মিলিত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই স্ত্রি পোকা ৩০০-৩৫০টি ডিম পাড়তে পারে। স্ত্রী পোকা গাছের গোড়ার দিকে থাকে এবং বাচ্চা গুলো উপরের দিকে থাকে। এরা ধানের পাতার খোলে বা মধ্যে শিরায় ডিম পাড়ে। বাচ্চা অবস্থা এরা ৫ বার খোলস বদলায়। বাচ্চাগুলো রং প্রথমে সাদাটে পরবর্তীতে এরা বাদামী রং ধারণ করে। পূর্ণবয়স্ক পোকার পাখা আছে এবং উড়তে পারে।
#BPH_কীভাবে_ক্ষতি_করে:
এই পোকা বাচ্চা ও পূর্ণাঙ্গ দুই অবস্থায় ধান গাছের গোড়ায় বসে রস চুষে খেয়ে ক্ষতি করে।
এই বাদামী গাছফড়িং গ্রাসি স্টান্ট, র্যাগেট স্টান্ট ও উইল্টেড স্টান্ট নামক ভাইরাস ছড়ায়।
এই পোকার আক্রমণে সমস্ত জমির ধান পুড়ে খরের মতো হয়ে যায় যে খড় গরু খায় না।
#BPH_বৃদ্ধির_কারণ/অনুকূল_পরিবেশ:
বাদামি গাছফড়িং আলো-বাতাস পছন্দ করে না। এদের বংশ বৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকার জন্য আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত স্থান খুবই পছন্দ। ঘন করে গাছ লাগালে, জমিতে অধিক নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করলে, জমিতে পর্যাপ্ত আগাছা থাকলে এবং সব সময় জমিতে পানি জমে থাকলে এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।
#HPH_আক্রমনের_লক্ষণ:
এই পোকার আক্রমণে হপার বার্ণ বা বাজ পোড়া লক্ষণ প্রকাশ পায়।
#BPH_এর_প্রাকৃতিক_শত্রু_পোকা_সমূহ:
মাকড়সা, মিরিডবাগ, লেডিবার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, ড্যামসেল ফ্লাইয়ের বাচ্চা, মাইক্রোভেলিয়া, মেসোভেলিয়া এগুলো বাদামী গাছ ফড়িং এবং এদের ডিম খেয়ে আমাদের উপকার করে।
#প্রতিরোধমূলক_ব্যবস্থা:
১) সঠিক বয়সের ধানের চারা, সঠিক দূরত্বে রোপণ করুন।
২) অপ্রয়োজনে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করবেন না
৩) জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখুন
৪) জমিতে একটানা পানি রাখবেন না, পানি পর্যায়ক্রমে শুকিয়ে আবার পানি দিবেন।
৫) উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণ করুন।
৬) নিয়মিত জমি পরিদর্শন করুন।
৭) পোকার উপস্থিতি দেখা মাত্রই ৪-৫ হাত পরপর ধানের জমিতে বিলি/ফাঁক করে দিন যেন আলো বাতাস চলাচলের সুযোগ হয়।
৮) জমি থেকে একটু দূরে আলোক ফাঁদ স্থাপন করে পূর্ণাঙ্গ পোকা মেরে ফেলুন।
৯) প্রতি ১০ শতকে ৪ টি হলুদ আঠালো ফাঁদ স্থাপন করুন।
১০) অর্থনৈতিক ক্ষতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে কীটনাশক প্রয়োগ করুন।
#বিপিএইচ_অর্থনৈতিক_ক্ষতির_দ্বারপ্রান্ত:
জমির অধিকাংশ গাছে যদি ৩-৪টি পেট মোটা ডিমওয়ালা পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং বা ৮-১০টি নিম্ফ অথবা উভয়ই দেখতে পাওয়া যায় তাহলে নিচের যেকোন একটি অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
#অনুমোদিত_কীটনাশক_সমূহের_নাম_ও_সঠিক_মাত্রা:
১) “বুপ্রোফেজিন” গ্রুপের কীটনাশক
যেমন- এওয়ার্ড40sc-
(10 লিটার পানিতে 5 মিলি মিশিয়ে 5 শতক জমিতে স্প্রে করুন।)
২) “এমআইপিসি” গ্রুপের কীটনাশক
যেমন- “সপসিন75wp”
(10 লিটার পানিতে 26 গ্রাম মিশিয়ে 5 শতক জমিতে স্প্রে করুন।)
৩) “আইসোপ্রোকার্ব” গ্রুপের কীটনাশক
যেমন- “মিপসিন৭৫wp”
(10 লিটার পানিতে ২৭ গ্রাম মিশিয়ে 5 শতক জমিতে স্প্রে করুন।)
৪) “পাইমেট্রোজিন+নাইটেনপাইরাম” গ্রুপের কীটনাশক
যেমন- “পাইরাজিন70wdg”
(10 লিটার পানিতে 4 গ্রাম মিশিয়ে 5 শতক জমিতে স্প্রে করুন।)
৫) “পাইমেট্রোজিন+নিতেনপাইরাম” গ্রুপের কীটনাশক
যেমন- “নেবুমেট্রোজিন80wdg” অথবা “স্পেলেনডর80wdg”
(10 লিটার পানিতে 25 গ্রাম মিশিয়ে 5 শতক জমিতে স্প্রে করুন।)
৬) “পাইমেট্রোজিন” গ্রুপের কীটনাশক যেমন-”পাইটাফwdg”-
(10 লিটার পানিতে 6গ্রাম মিশিয়ে 5 শতক জমিতে স্প্রে করুন।)
বিঃদ্রঃ কীটনাশক অবশ্যই গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।
সোহেল রানা
উপসহকারী কৃষি অফিসার
সদর, ময়মনসিংহ।
#pestcontrol #pesticides #pestcontrolservice #agriculture #BPH #Bangladesh @highlight