Перейти к содержимому

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেষ মুহূর্তগুলো

সেরা বাণী

0:00 / 0:00

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেষ মুহূর্তগুলো

95 просмотров · 2 недели назад
সেরা বাণী
455 подписчиков
95 просмотров · 2 недели назад
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেষ মুহূর্তগুলো — একত্রিত হাদীস সংকলন নবী করীম ﷺ-এর জীবনের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ও শিক্ষণীয় অধ্যায় হলো তাঁর শেষ দিনগুলো। নিচে সংশ্লিষ্ট হাদীসগুলো একত্রিত করে সময়ক্রম অনুযায়ী উপস্থাপন করা হলো। ১. অসুস্থতার সূচনা ও আবু বকর (রাঃ)-কে ইমামতির নির্দেশ রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কঠিন অসুস্থতায় শয্যাশায়ী হলেন, তখন তিনি নিজে সালাতে ইমামতি করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: *অর্থ:* নবী করীম ﷺ অসুস্থ অবস্থায় বললেন: "আবু বকরকে বলো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।" আয়েশা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু বকর তো অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ, আপনার স্থানে দাঁড়ালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়বেন, লোকদের শোনাতে পারবেন না—আপনি অন্য কাউকে নির্দেশ দিন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ পুনরায় একই নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: "তোমরা তো ইউসুফ (আঃ)-এর সাথীদের মতো (নাছোড়বান্দা)। আবু বকরকে বলো, তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করুন।" *সূত্র:* সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৮৭; সহীহ মুসলিম এভাবে হযরত আবু বকর (রাঃ) নবীজির জীবদ্দশাতেই তাঁর অনুপস্থিতিতে ইমামতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন—যা পরবর্তীতে তাঁর খিলাফতের ইঙ্গিতও বহন করে বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। ২. সোমবারের সেই স্মরণীয় দৃশ্য আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত সেই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা—যা আপনি উল্লেখ করেছেন: *অর্থ:* রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যুরোগে শয্যাশায়ী থাকাকালীন আবু বকর (রাঃ) সালাতে ইমামতি করছিলেন। সোমবার দিন যখন সাহাবীগণ সারিবদ্ধ হয়ে সালাত আদায় করছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের কক্ষের পর্দা তুলে দাঁড়ানো অবস্থায় তাঁদের দিকে তাকালেন। তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডল যেন স্বর্ণপাতার মতো জ্বলজ্বল করছিল, এবং তিনি আনন্দে মুচকি হাসলেন। সাহাবীগণ তাঁকে দেখে সালাতের মধ্যেই উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। আবু বকর (রাঃ) মনে করলেন তিনি সালাতে আসছেন, তাই পেছনে সরে যেতে চাইলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ ইশারায় বললেন: "তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করো।" অতঃপর তিনি কক্ষে প্রবেশ করে পর্দা ফেলে দিলেন এবং সেদিনই ইন্তেকাল করেন। *সূত্র:* সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৮০, ৪৪৪৮ এই দৃশ্যটি ছিল সাহাবীদের জন্য নবীজির শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং তাঁর মুখের সেই হাসি ছিল তাঁর জীবনের শেষ প্রকাশ্য মুহূর্তের স্মৃতি। ৩. দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে পছন্দের সুযোগ সেদিনই খুতবায় রাসূলুল্লাহ ﷺ ইঙ্গিতপূর্ণ একটি কথা বলেছিলেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত: *অর্থ:* রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: "আল্লাহ তাআলা এক বান্দাকে দুনিয়া ও তাঁর নিকট যা আছে তার মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, আর সে বান্দা আল্লাহর নিকট যা আছে তা-ই বেছে নিয়েছে।" একথা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: "আমরা আমাদের পিতামাতাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করছি (ইয়া রাসূলাল্লাহ)!" সাহাবীগণ অবাক হলেন যে আবু বকর কেন কাঁদছেন, কিন্তু পরে বোঝা গেল যে সেই "বান্দা" ছিলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ, এবং আবু বকর (রাঃ) তা বুঝে ফেলেছিলেন। *সূত্র:* সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪৬৬, ৩৯০৪ ৪. উম্মতের জন্য শেষ উপদেশ রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর শেষ মুহূর্তগুলোতে উম্মতকে বারবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। উম্মে সালামা (রাঃ) ও অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত: *অর্থ:* রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেষ কথাগুলোর মধ্যে ছিল: "সালাত! সালাত! এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসদাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো"—এই কথাগুলো তিনি বারবার বলছিলেন, এমনকি যখন তাঁর জিহ্বা প্রায় স্তব্ধ হয়ে আসছিল তখনও। *সূত্র:* সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৫১৫৬; মুসনাদে আহমাদ এছাড়াও তিনি ইহুদি-খ্রিস্টানদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করার প্রথার নিন্দা করে বলেছিলেন, যেন তাঁর উম্মত তাঁর কবরকে সেভাবে ইবাদতের স্থানে পরিণত না করে (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪৩৫)। ৫. হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কোলে শেষ নিঃশ্বাস আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ইন্তেকালের দৃশ্য এভাবে বর্ণিত হয়েছে: *অর্থ:* রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট একটি পানির পাত্র ছিল, তিনি তাতে হাত ভিজিয়ে মুখমণ্ডল মুছছিলেন এবং বলছিলেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নিশ্চয় মৃত্যুর কষ্ট আছে।" অতঃপর তিনি হাত উঁচু করে বলতে থাকলেন: "সর্বোচ্চ বন্ধুদের সাথে (আর-রফীকুল আ'লা)"—এই বলতে বলতেই তাঁর হাত ঝুলে পড়ল এবং তিনি ইন্তেকাল করলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমারই ঘরে, আমারই পালার দিনে, আমারই বুকের সাথে হেলান দেওয়া অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এভাবে আল্লাহ আমার লালা ও তাঁর লালাকে একত্রিত করে দিলেন (মিসওয়াক ব্যবহারের প্রসঙ্গে)। *সূত্র:* সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪৪৪৯, ৫৬৭৪ ৬. সাহাবীদের প্রতিক্রিয়া ও আবু বকর (রাঃ)-এর ঐতিহাসিক ভাষণ নবীজির ইন্তেকালের সংবাদে সাহাবীগণ হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। এমনকি হযরত উমর (রাঃ) তা মানতে অস্বীকার করেন। তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) মসজিদে এসে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন: *অর্থ:* "যে ব্যক্তি মুহাম্মদ ﷺ-এর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক, মুহাম্মদ ﷺ ইন্তেকাল করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তাঁর কখনো মৃত্যু নেই।" অতঃপর তিনি কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করলেন: "মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র, তাঁর পূর্বেও বহু রাসূল গত হয়েছেন। তিনি যদি মারা যান বা নিহত হন, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে?" (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪) *সূত্র:* সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩৬৬৭, ৪৪৫৪