Перейти к содержимому

বাংলাদেশে জমি কেনাবেচার নিয়ম ও আইন | জমি ক্রয়ের সময় ১০টি জরুরি বিষয় | আইন পাঠ পর্ব-২০

Hannan Miar Aain Paath (হান্নান মিয়ার আইন পাঠ)

0:00 / 0:00

বাংলাদেশে জমি কেনাবেচার নিয়ম ও আইন | জমি ক্রয়ের সময় ১০টি জরুরি বিষয় | আইন পাঠ পর্ব-২০

7 188 просмотров · 1 г. назад
Hannan Miar Aain Paath (হান্নান মিয়ার আইন পাঠ)
4,25 тыс. подписчиков
7 188 просмотров · 1 г. назад
বাংলাদেশে জমি কেনাবেচার নিয়ম ও আইন | জমি ক্রয়ের সময় ১০টি জরুরি বিষয় | আইন পাঠ পর্ব-২০ জমি ক্রয়কালের সতর্কতা – পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ বাংলাদেশে জমি ক্রয় একটি জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়। জমি কেনাবেচার সময় অনেকেই যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেন না, ফলে পরবর্তীতে জটিল মামলা-মোকদ্দমা, প্রতারণা বা জমি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এজন্য জমি ক্রয়ের আগে সচেতন থাকা, প্রযোজ্য আইন জানা এবং সব ধরনের কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। ১. মালিকানার অনুকূলে দলিল থাকার আইনী বাধ্যবাধকতা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ৫–১৪ ও ৫২–৫৭ ধারা অনুযায়ী মালিক তার মালিকানাধীন জমি নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিক্রি করতে পারেন। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ৮৮ ও ৮৯ ধারা একইভাবে মালিকানার অধিকার ও হস্তান্তরের বিষয়টি নির্ধারণ করেছে। সব দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী রেজিস্ট্রি হতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড বন্টননামা দলিল থাকা আবশ্যক। যদি বন্টন সম্ভব না হয়, আদালতের নির্দেশে বন্টন করতে হবে। ওয়ারিশদের মধ্যে কেউ বাদ পড়েছে কিনা খতিয়ে দেখা জরুরি। বাদ পড়া ওয়ারিশ পরে মামলা করলে ক্রেতা বিপদে পড়তে পারেন। আসল মালিক এবং দলিল যাচাই ছাড়া জমি ক্রয়ের প্রাথমিক ধাপ এগোনো যাবে না। ২. মিউটেশন করার আইনী বাধ্যবাধকতা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী হালনাগাদকৃত খতিয়ান ছাড়া জমি বিক্রয়, হেবা বা দলিল রেজিস্ট্রি করা যাবে না। জমি ক্রয়ের আগে নিশ্চিত হতে হবে, সর্বশেষ মিউটেশন আপডেট আছে কিনা। ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের প্রমাণক অবশ্যই থাকতে হবে। মিউটেশন ছাড়া জমি ক্রয় মানে মালিকানার বৈধতা অনিশ্চিত রাখা। ৩. ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা জমির মালিকানা প্রমাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দাখিলা বা খাজনা রশিদ। এটি মালিকানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে। যদি কোনো বছরের খাজনা না দেওয়া থাকে, তাহলে ঐ সময়কার মালিকানা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। প্রতিটি মালিকের উচিত নিজের নামে মিউটেশন করে নিয়মিত খাজনা প্রদান করা। জমি ক্রয়ের আগে অবশ্যই সর্বশেষ দাখিলা দেখে নিতে হবে। ৪. ৩টি "দ" যাচাই: দলিল, দাখিলা, দখল ক) দলিল যাচাই আসল দলিল হাতে দেখে যাচাই করতে হবে। শুধু ফটোকপি নয়। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সার্চ দিয়ে নিশ্চিত হতে হবে দলিলটি বৈধ কিনা। সাফ কবালা দলিলের বৈশিষ্ট্য: সরকার নির্ধারিত স্ট্যাম্পে লেখা। দলিল নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখিত। সাব-রেজিস্ট্রারের লালকালি মুসাবিধা। প্রতি পৃষ্ঠায় দাতার স্বাক্ষর ও টিপসই। দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর ও ঠিকানা। দলিলের ২২টি তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি—যেমন জমির তফসিল, চৌহদ্দি, দাতার-গ্রহীতার তথ্য, নকশা, মূল্য, সাক্ষর ইত্যাদি। পূর্ববর্তী ২৫ বছরের বায়া দলিল সংগ্রহ করা ভালো। খ) দাখিলা যাচাই তহশিল অফিসের রেজিস্টারে দাখিলা মিলিয়ে দেখতে হবে। ধারাবাহিক দাখিলা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা জরুরি। দাখিলার ঘাটতি থাকলে অন্য কারো মালিকানা আছে কিনা খুঁজে দেখতে হবে। গ) দখল যাচাই জমিতে বাস্তবে কার দখল আছে সেটিই অনেক সময় আসল মালিকানা প্রমাণ করে। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানা যায় কে চাষ করছে, বসবাস করছে বা জমি দেখাশুনা করছে। দাখিলার মালিকের সাথে বাস্তব দখলদারের সম্পর্ক মিলিয়ে দেখতে হবে। দলিল, দাখিলা ও দখল—এই তিনটি একসাথে না মিললে জমি কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। ৫. জমির পরিমাণ যাচাই সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করতে হবে। দলিল, দাখিলা ও নকশার পরিমাণ মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিক্রেতা তার প্রাপ্য হিস্যার চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করছে কিনা যাচাই করতে হবে। একই দাগে একাধিক বিক্রয় হলে অন্য ক্রেতাদের অংশ দেওয়ার পর বিক্রেতার কাছে জমি অবশিষ্ট আছে কিনা খুঁজে দেখতে হবে। ৬. জমিতে সরকারি স্বার্থ আছে কিনা যাচাই জমি কখনো সরকারের খাসে অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা খুঁজে দেখা জরুরি। এটি ভিপি, পরিত্যক্ত, কোর্ট অব ওয়ার্ড, বন বিভাগ, ওয়াকফ বা দেবোত্তর তালিকাভুক্ত কিনা জানতে হবে। সরকারি অধিগ্রহণ বা সিকস্তি জমি কিনা তাও খুঁজে দেখতে হবে। সরকারি স্বার্থযুক্ত জমি কখনো কেনা উচিত নয়। ৭. আমমোক্তারনামা (Power of Attorney) যাচাই জমি যদি আমমোক্তারনামা দিয়ে বিক্রি হয়, সেটি অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড হতে হবে। দাতা ও গ্রহীতা জীবিত আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আমমোক্তারনামা উত্তরাধিকার সূত্রে কার্যকর হয় না। হাউজিং প্রকল্পের কর্মকর্তাদের পুরনো আমমোক্তারনামা দিয়ে প্রতারণা করার নজির আছে, তাই সতর্ক থাকতে হবে। ৮. বায়নার পর সাইনবোর্ড টানানো জমি কেনার আগে বায়না করলে সেখানে সাইনবোর্ড দিলে অনেক সময় আপত্তিকারি বের হয়ে আসে। এতে ঝুঁকি কমে যায় এবং যাচাইয়ের জন্য সময় পাওয়া যায়। ৯. তথ্য সংগ্রহের উপায় জমির সব কাগজপত্র বিক্রেতা সরবরাহ করবেন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ফি দিয়ে সার্চ করা যায়। অনলাইনে নকশা ও পর্চা পাওয়া সম্ভব। জেলা রেকর্ড রুম থেকেও নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তথ্য জানা যায়। মনে রাখতে হবে, আইনত ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সব তথ্য দিতে বাধ্য নন। তবে ভালো ব্যবহার করলে সহযোগিতা পাওয়া যায়। ১০. সাধারণ প্রতারণার কৌশল ও প্রতিরোধ আসল দলিল না দেখিয়ে ফটোকপি দেখানো। ব্যাংকে বন্ধক রাখা দলিলের কপি দিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা। মৃত ব্যক্তির নামে জমি বিক্রি। নকল দাখিলা তৈরি করে মালিকানা প্রমাণের চেষ্টা। জমি সরকারি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি। এসব এড়াতে সব কাগজপত্র যাচাই, স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা এবং অফিসিয়াল সার্চ করা অত্যাবশ্যক। প্রতিটি ক্রেতার উচিত— ✅ দলিল, দাখিলা ও দখল যাচাই করা। ✅ মিউটেশন ও দাখিলা হালনাগাদ নিশ্চিত করা। ✅ সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমির পরিমাণ মাপা। ✅ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিস থেকে সার্চ করা। ✅ সরকারি স্বার্থ আছে কিনা যাচাই করা। আলোচকঃ মোঃ হান্নান মিয়া, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। উপস্থাপনায়ঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার। পরবর্তী পর্ব-২১: "কখন জমি খাস হয় এবং খাসকরণ পদ্ধতি" –