Перейти к содержимому

কারা আসবে? পাত্রপক্ষ?' 'হবে হয়তো!' 'তোমার ভাই কি ভুলে গেছে তার বোন বিবাহিত?' 'ভাইয়া ধরে নিয়েছে তার

Amader Golpo

0:00 / 0:00

কারা আসবে? পাত্রপক্ষ?' 'হবে হয়তো!' 'তোমার ভাই কি ভুলে গেছে তার বোন বিবাহিত?' 'ভাইয়া ধরে নিয়েছে তার

1 629 просмотров · 17 часов назад
Amader Golpo
2,73 тыс. подписчиков
1 629 просмотров · 17 часов назад
শ্রাবণের কান পর্যন্ত কথাটা পৌঁছাতেই তার চোখ-মুখের ভাব বদলে গেল। সে রাগত স্বরে বলল, 'এই, ওয়েট! কারা আসবে? পাত্রপক্ষ?' 'হবে হয়তো!' 'তোমার ভাই কি ভুলে গেছে তার বোন বিবাহিত?' 'ভাইয়া ধরে নিয়েছে তার বোনের হাজব্যান্ড মরে গেছে। আর আমিও...' 'তুমিও?' কথাটা বলতে মেঘের মুখে বাঁধছিল। কিন্তু শ্রাবণকে বোঝানো উচিত মেঘের মনে তার জন্য আর কোনো জায়গা নেই। যে পুরুষ বিয়ের আসরে বউকে ফেলে চলে যায় এবং টানা চারটা বছর খোঁজ নেয় না, তাকে আর যাই হোক ক্ষমা করা যায় না। মেঘও শ্রাবণকে ক্ষমা করবে না। সে বলল, 'আমিও ধরে নিয়েছি আমি বিধবা!' শ্রাবণ বড়সড় একটা ধাক্কা খেল। মেঘ এতটা কঠোর হতে পারে, তা শ্রাবণের জানা ছিল না। শ্রাবণ নিজেকে সামলে নিয়ে মেঘকে বলল, 'এমন ভাবার কারণ?' 'একপাক্ষিকভাবে সম্পর্ক টেনে যেতে যেতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমার হাজব্যান্ড মারা গেছেন, উনি আমার কাছে মৃত। আর বিয়েটাও আমার জীবনের সবথেকে বড় অভিশাপ। গত চারটা বছর ধরে সেই অভিশাপ বইছি। তবে এবার সময় এসেছে সব ঠিক করে নেওয়ার। আমি ডিভোর্স চাই।' শ্রাবণ স্পষ্ট বলল, 'চেয়ে লাভ নেই। আমি তোমাকে ডিভোর্স দেব না। কখনোই না। তুমি আমার ছিলে, আছ আর থাকবে।' শ্রাবণ রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। অতিরিক্ত অহংকারের জন্য মুখ ফুটে বলতেও পারছে না— সেদিন সে ভুল করেছিল! শ্রাবণ মেঘের দিকে তাকিয়ে কানের পাশে এলোমেলো চুল গুঁজে দিয়ে বলল, 'সুইটহার্ট! আমি এমনি এমনি ফিরে আসিনি। এসেছি তোমাকে জ্বালাতে। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে শেষ করে দিতে। ডিভোর্স দিলে তা হবে কী করে? তোমার অনেক কিছু জানার আর দেখার বাকি আছে।' মেঘ বলল, 'আরও জ্বালাবেন? জ্বালাচ্ছেন তো সেই চার বছর ধরে। আমি আর নিতে পারছি না, বিশ্বাস করুন।আমাকে এবার মুক্তি দিন।' শ্রাবণ কোনো উত্তর না দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দোতলায় দাঁড়িয়ে সব দেখেছে মিহাদ। সৌমির সাথে তার মনোমালিন্য বেশ কিছুদিন ধরেই। বিয়ের এত বছর হয়ে গেল, অথচ তাদের কোনো সন্তান নেই। ডাক্তাররা বলেছেন কারোরই কোনো সমস্যা নেই, তাও আল্লাহ সন্তান দিচ্ছেন না। মিহাদ এ নিয়ে কিছু না বললেও সৌমির ভয় হয়। তার মনে হয়, এই একটা কারণেই তাদের সুন্দর সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মিহাদের এই অবহেলা সৌমি সহ্য করতে পারছে না। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দূরে চলে গিয়ে মিহাদকে বোঝাবে তার জীবনে সৌমির গুরুত্ব কতটা। সৌমি গৃহকর্মীকে শ্বশুরের ওষুধের নিয়ম বুঝিয়ে দিয়ে মাহবুব হাসানের রুমে গেল। ভদ্রলোক চার বছর ধরে বিছানায় অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। সৌমি উনার পাশে বসে বলল, 'আব্বু... আমি চলে যাচ্ছি। কবে ফিরব জানি না। আপনার ছেলে আর আমার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। যদি ঠিক হয়, আপনার এই মেয়েটা আবার ফিরে আসবে। ততদিন ভালো থাকবেন।' মাহবুব হাসান কথা বলতে পারলেন না, কিন্তু স্পষ্ট শুনলেন। মেয়েটা চলে যাচ্ছে দেখে উনার খুব কষ্ট হলো। বলতে ইচ্ছে করল, 'বউমা, তুমি যেও না!' অথচ মুখ ফুটে বলতে পারলেন না। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল বিছানায়। সৌমি গাড়িতে শ্রাবণের পাশে বসে আছে। মেঘ বারবার ফোন করলেও সৌমি ফোন বন্ধ করে রেখে চুপচাপ বসে রইল। শ্রাবণ ড্রাইভ করতে করতে বলল, 'মিহাদ তোকে অনেক ভালোবাসে সৌমি। এভাবে চলে আসলি কেন? তোর বর কষ্ট পাবে।' সৌমি বলল, 'পাক। আমি বুঝেশুনেই এসেছি ভাইয়া। এ নিয়ে আর কথা বোলো না। তুমি গাড়ি তাড়াতাড়ি চালাও।' মিহাদ ঘরে বসে সিগারেট টানছে আর ফোনে কার উপর যেন রাগ ঝাড়ছে। মেঘ ঘরে ঢুকে বউমনির কথা বলতেই মিহাদ চেঁচিয়ে উঠল, 'চলে গেছে! ওই কাপুরুষটার সাথে চলে গেছে, যার জন্য আমাদের আব্বুর এই অবস্থা!' মেঘ বলল, 'সব কথায় ওনাকে টানা কি দরকার?' মিহাদ রাগে চিৎকার করে বলল, 'তুই কার সাথে কথা বলছিস ভুলে যাচ্ছিস? বরের জন্য ভালোবাসা উথলে উঠছে? তাকে নিয়ে কিছু বলা যাবে না? যা, তুইও চলে যা! তোদের কাউকেই আমার দরকার নেই!' মিহাদ রেগেমেগে মেঘকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। মিহাদের সব রাগ গিয়ে পড়ে শ্রাবণের উপর। সিকদার বাড়িতে গাড়ি এসে থামল। শ্রাবণ পুলিশ স্টেশন থেকে একটা দরকারি কাজ সেরে মাত্র বাড়ি ফিরল। সদর দরজায় পা রাখতেই সায়মন সিকদার