ছিয়াকৃত প্লাট গো হত্যা উৎসব । ম্রো উৎসব । লাগপাই পাড়া । সাংগু রিজার্ভ ফরেস্ট । বান্দরবান ।
imran khan ozil
0:00 / 0:00
ছিয়াকৃত প্লাট গো হত্যা উৎসব । ম্রো উৎসব । লাগপাই পাড়া । সাংগু রিজার্ভ ফরেস্ট । বান্দরবান ।
6 665 просмотров · 5 лет назад
imran khan ozil
929 подписчиков
6 665 просмотров · 5 лет назад
ছিয়াকৃত প্লাট গো হত্যা উৎসব । ম্রো উৎসব । লাগপাই পাড়া । সাংগু রিজার্ভ ফরেস্ট । বান্দরবান ।
ছিয়াকৃত প্লাট (গো হত্যা ) উৎসব
লাগপাই পাড়া । সাংগু রিজার্ভ ফরেস্ট
ম্রো বন্ধু মেনিই এর আমন্ত্রণে তার পাড়াতে তার সাথে বিশেষ এই উৎসবে উপস্থিত হয়েছিলাম ।
গো হত্যার বার্ষিক উৎসবকে ছিয়াকৃত প্লাট বলে। ম্রো ভাষাতে একে চিয়াসদ পয় / ছিয়াছত-প্লাই ও বলে থাকে। ছিয়া অর্থ গরু ,কৃত অর্থ বধ করা আর প্লাট অর্থ নাচ। গরুকে কেন্দ্র করেই মূলত উৎসবটি হয়।
ম্রো দের বিশ্বাস দেবতা কলাপাতায় ধর্মগ্রন্থ লিখে পরনের কাপড়সহ গরুর পিঠে চাপিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পথের মাঝে ক্ষুধার্ত গরু সেসব খেয়ে ফেলায় কোনো ধর্মগন্থ নেই ম্রোদের। ধর্মহীনতা,স্বল্পবাসন ,দুঃখ ,কষ্ট ,অভাবের জন্য গরুকে দায়ী করা হয়। গরুকে শাস্তি দেয়ার জন্য গো হত্যা করা হয় উৎসবে।
জুমচাষ শেষে ফসল তোলার পর অবস্থাপন্ন ম্রো পরিবার ছিয়াকৃত প্লাট উৎসবের আয়োজন করে থাকে। ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে কোনো পুরোহিত থাকে না। বছরে দুবার ম্রোরা পূজা করে। পূজাকে ম্রো ভাষায় খাং বলে।
উৎসবের সাজসজ্জাতে প্রধান রসদ পাহাড়ি বাশ। ম্রোদের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কাজে দা ব্যবহার করে। যেটাকে ওরা দহল বলে। বাঁশের গা চেছে বানানো হয় চিকন সিলকা। এইটা দিয়েই বানানো হবে ফুল। যেগুলো উৎসবের মঞ্চ সাজাতে ব্যবহার করা হবে। উৎসবের মঞ্চ বানানো হয় পাড়া প্রধানের ঘরের সামনে। বাঁশের এই মঞ্চের ভিতরেই গরুকে বেঁধে রাখা হয়। আর এই মঞ্চকে লিম্পুং বলে।
ম্রো যুবক-যুবতীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে প্লুং বাঁশির তালে তালে গরুকে ঘিরে নৃত্য পরিবেশন করে। মেয়েদের পোশাকের নাম ওয়াঙলাই। তারা মূলত উৎসবে এই পোশাক পরিধান করে। ম্রোরা তাদের শরীর বিভিন্ন রং দিয়ে সাজাতে পছন্দ করে। ছেলে এবং মেয়ে উভয়েই তাদের ঠোঁটে রং লাগায়। নৃত্যের সময় তারা তাদের গাল, ঠোঁট এবং কপাল লাল রঙে রঞ্জিত করতে পছন্দ করে। মেয়েরা মাথায় ও কানে ফুল পরে এবং গলায় পুঁতির মালা পরতে ভালবাসে যেটিকে ম্রো ভাষায় বলা হয় কেংঙঅর। মেয়েদের কানে রূপার বিশেষ অংলংকার (রামচেং) এবং বাহুতে ধাতুনির্মিত বালা পরে। মেয়ে-পুরুষ উভয়ই কানে রিং ব্যবহার করে।
ম্রোদের নিজস্ব এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র আছে। ম্রো ভাষায় যার নাম প্লুং। প্লুং অর্থ বাঁশি। প্লুং বানানোর পিছনে মজার একটি ইতিহাস আছে। কোনো এক সময় কলেরা আক্রান্ত এক যুবক নাকি স্বপ্নে দেখেছিলো অসংখ্য নর-নারী ৯টি নলযুক্ত প্লুং বাজিয়ে প্রদক্ষিণ করছে গ্রাম। প্লুং এর সুরে সুরে দূর হচ্ছে কলেরার মহামারী। স্বপ্ন দেখে বানানো সেই প্লুং এখন মুরংদের প্রধান বাদ্যযন্ত্র।
পাহাড়ি লাউয়ের খোল আর বাঁশ দিয়ে বানানো হয় এই প্লুং। পাহাড়ি লাউয়ের খোলে ৩ থেকে ৯ টি বাঁশের সরু নল লাগিয়ে তৈরী হয় বিভিন্ন রকমের প্লুং। বাঁশের নলের সংখ্যার ভিত্তিতে মুরংরা ৪ ধরণের প্লুং বানায়। তিন টেং প্লুং , প্লুং কে , প্লুং মা , রিনা প্লুং। একই কারিগরি কৌশলে মুরংরা যেমন বড় আকারের প্লুং বানায় তেমনি ছোট আকারের প্লুং বানায়। লম্বা নলের মাথায় লাগানো বাঁশের চোঙ্গায় প্রতিফলিত হয়েই ছড়িয়ে পরে প্লুং এর সুর।
এই বাদ্যযন্ত্রের সুরেই সবাই গরুকে কেন্দ্র করে নাচে। নাচের সময় পুরুষরা লাল কাপড় এবং মাথায় পালক ও পুঁতিসজ্জিত পাগড়ি পরে আর মেয়েরা ফুল, পুঁতি আর মুদ্রা দিয়ে নিজেদের সাজায়। নাচি মেয়েরা নাচে পেছনমুখী হয়ে আর এগিয়ে চলে বাদকদল, অনুসরণ করে অন্যরা। নাচে সামিল না হলেও প্রদক্ষিনে সামিল হয় বয়স্ক ম্রোরা।
প্লুং এর সুরে গরুকে কেন্দ্র করে যুবতীরা নাচে অংশ নেয়। আসতে আসতে পাড়ার বয়স্ক থেকে শুরু করে শিশু সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়। উৎসবও তখন জমে উঠে। উৎসবে ম্রোরা এক ধরণের পানীয় পান করে। একে আরাক বলে। এই পানীয় হলো এই উৎসবের অপরিহার্য অনুসর্গ। সারারাত ধরে আরাক পানের সাথে সাথে চলে বাঁশির সুরের সাথে সাথে নাচ। পরদিন দুপুর পর্যন্ত এইভাবেই চলতে থাকে। অবশেষে গরুকে হত্যা করা হয়। এবং গরুর মাংস একত্রে রান্না হয়। সবাই একসাথে বসে আয়োজকের ঘরে খাওয়াদাওয়া করে । আর এইভাবেই উৎসব শেষ হয়।
Instagram Id: / imran_khan_ozil
Facebook Id: / travelwithozil7
#imrankhanozil #bandarban #festival #mro #বান্দরবান