Перейти к содержимому

DESHI DHOL SIKKHA - 1/ দেশীঢোল শিক্ষা - ১/ বর্ণ ও বাণী/ ভাওয়াইয়া/ Bhawaiya musical instruments/URHF

URHF PRODUCTION

0:00 / 0:00

DESHI DHOL SIKKHA - 1/ দেশীঢোল শিক্ষা - ১/ বর্ণ ও বাণী/ ভাওয়াইয়া/ Bhawaiya musical instruments/URHF

92 просмотра · 2 недели назад
URHF PRODUCTION
5,25 тыс. подписчиков
92 просмотра · 2 недели назад
DESHI DHOL SIKKHA-1/ দেশীঢোল শিক্ষা ২/ বর্ণ ও বাণী/ ভাওয়াইয়া/ Bhawaiya musical instruments/URHF Concept : Dr. Jayanta Kumar Barman Artist : Minati Rava Camera : Shibani Barman Book Author: Dr. Jayanta Kumar Barman & Dhananjay Roy Production : Rural Craft & Cultural Hub, Bhawaiya, Cooch Behar, India Objective: Educational Video, To save the Bhawaiya Culture & History আমার কথা ড. জয়ন্ত কুমার বর্মণ ‘দেশীঢোল’ এর লোকশাস্ত্র বা সম-ব্যকরণ ভিত্তিক ‘বর্ণ’, ‘বোল’ এবং ‘বাণী’ এর ধারণার উৎপত্তি সম্বন্ধে ধারণা পেতে অসমের কিংবদন্তী কুশান শিল্পী শ্রী ভুবন চন্দ্র রায় এর সৃজনমূলক ভাবনার কথা স্বীকার করা খুব জরুরী। তিনি বোলগুলিকে মহাকাব্য রামায়ণ প্রভাবিত কুশান নৃত্যে ‘খোলবাদ্য’ এর সাহায্যে ব্যবহার করতেন। কখনও আবার ঘরোয়া অনুশীলনকালে ‘দেশীঢোল’ এর সাহায্যেও ‘নৃত্য-সহযোগী’ বোল ও বাণী হিসাবে সেই বোলগুলি ব্যবহার করতেন। ভুবন কুশানী-র পরম হিতাকাঙ্খী তবলায় জ্ঞ্যানী ব্যক্তি স্বর্গীয় পঞ্চানন বিশ্বাসের সহযোগিতায় তৈরি তার ব্যবহৃত কিছু অধিক প্রচলিত কুশান তাল/ বোল এর উদাহরণ – ছুকুরি প্রবেশ তাল - । তা ক তা তা । ক তা ক ক । সরস্বতী বন্ধনার তাল - । ধিন - না ধিন। - ধি না - । কত - না ধিন । - ধি না - । গাও হালানি তাল- । কতেটে কতেটে ক। কতেটে কতেটে ক। কতেটে কতেটে ক। তাক তা ক। ধিনা ধিধিন -। ধিনা ধিধিন -। ধিনা ধিধিন নাক। নাক ধিনা ধিনা। ধা গিরগির গিরা। না খিরখির খিরা। ইত্যাদি। বোলগুলি পর্যবেক্ষণ করার পর আজ থেকে প্রায় ৯ বছর পূর্বে ‘দেশীঢোল’ এর বর্ণ ও বাণী, বোল ও তাল এর প্রস্তুতকরণ এবং নামকরণ করে লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রাথমিক ধারণা আমার মাথায় আসে। কারণ এই বোলগুলি কুশান নৃত্যের জন্যই তৈরি সাবলীল ও সুন্দর। সেগুলোর দ্বারা দেশীঢোলের বর্ণ বাণী ও বোল বানাতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। উদাহরণস্বরূপ – কত্থক নৃত্যের নিজস্ব বোলঃ তা থেই তত থেই আ থেই তত থেই, তিগ ধা দিগদিগ থেই ইত্যাদি নৃত্যের বোল। ‘দেশীঢোল’ এ গাব নেই, তাই উল্লিখিত তবলার ন্যায় ধিন, তুন, তিন, থুন, দিন ইত্যাদি শব্দ উৎপাদনের কোন সম্ভাবনা নেই। ‘দেশীঢোল’ এর নিজস্ব নির্দিষ্ট বর্ণ এর লিখিত রূপ না থাকায় ‘তবলার’ শাস্ত্রীয় বর্ণ, বোল ও তালগুলো ‘দেশীঢোল’ বাদ্যে বাজানোর প্রচলন আছে, এই বিষয়টির যৌক্তিকতা সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞরা বলবেন। আমার মতে তবলার তাল দাদরা, কাহারবা, তেওড়া ইত্যাদি ব্যবহার করে সেই তালগুলিকে ‘‘দেশীঢোল’’ এর তাল হিসাবে জনসমক্ষে, সভাস্থলে, অনুষ্ঠানমঞ্চে বা শিক্ষার অঙ্গনে করানোর চর্চা সঠিক নয়। কারণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকবাদ্যের নিজস্ব তাল রয়েছে। যেমন – খোল, মাদল, বিহু ঢোল, আদিবাসী মাদল ইত্যাদি লোকবাদ্য শেখা বা বাজানোর জন্যে নির্দিষ্ট বর্ণ, বোল ও তাল রয়েছে, তাই এই যন্ত্রগুলো বাজাতে তবলার বা অন্য যন্ত্রের তাল বা বর্ণের সাহায্য নেবার প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও গঠন, অঞ্চলগত, ব্যাবহারগত এর দিক থেকেও তবলা এবং ‘দেশীঢোল’ দুটি পুরোপুরি ভিন্ন। দেশীঢোল এর ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে আঘাত করলে তার ভিন্ন আওয়াজ শুনতে পাই যা এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের ভিন্ন ভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চল এর লোকশিল্পীদের থেকে সংগ্রহ করা ‘ডাইল খিচড়ি শৈলের পোনা ঘিত্তি কুমড়া’, ‘থাক থাক নাগে দেঙ ব্যাল্লেশ’ ইত্যাদি জাতীয় প্রাচীন এই লোক-শ্লোকগুলি থেকে ধারণাপ্রসূত কিছু ‘বর্ণ’ সহযোগে ‘বাণী’ ‘বোল’ এবং ছন্দ, বিভাগ, মাত্রা, তালি খালি সম্বলিত ‘তাল’ প্রবর্তন এর সামগ্রিক একটা গঠনমূলক নতুন আঙ্গিক সৃজন এর চিন্তাভাবনার প্রচেষ্টা নিয়েছি যা বর্তমান সংগীত শিক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজন এবং যার ফলশ্রুতি এই সাংগীতিক গবেষণাধর্মী ঐতিহাসিক গ্রন্থ । ‘‘দেশীঢোল’’ যেহেতু ‘ভুঁইমালী’, ‘দেশীবাইজন’ বা ‘দেশীবাজনার’ একটি অন্যতম লোকবাদ্য এবং শুধু ‘ঢোল’ নাম এ সবাই এই বাদ্যটিকে সাধারণভাবে জানে। ‘ঢোল’ অর্থে সারা ভারতের ঢোলকেই বোঝায়। শুধুমাত্র ‘ঢোল’ বললে নির্দিষ্ট করে উত্তরপূর্ব ভারতের এবং উত্তরবঙ্গের ভুঁইমালী থেকে নিঃসৃত বরণ গান এবং ভাওয়াইয়া গানে বাদ্য এই পারম্পরিক ঢোলকেই বোঝায় না। তাই এই ঢোল এর নাম প্রবর্তন করার ভাবনা আমার মাথায় আসে এবং এই ‘ঢোল’ এর নাম ‘দেশীঢোল’ হতে পারে, এই ভাবনা নিয়ে নবীন এই নামকরণের প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম কুশান শিল্পী শ্রী ভুবন চন্দ্র রায় এবং আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা গবেষণার ছাত্র তথা কুশান ও ‘দেশীঢোল’ শিল্পী শ্রী ধনঞ্জয় রায়দ্বয়ের এর কাছে রাখি। তাদের সমর্থন পেয়ে এগিয়ে যাই এবং এরপর আরও বেশ কিছু গবেষক, সঙ্গীতগুণীদের কাছে থেকেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর স্বপক্ষে মতামত নেওয়ার কাজটি চলতে থাকে - “ডাইল খিচিরি শৈলের পোনা” প্রভৃতি জাতীয় উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক প্রবীণ শিল্পীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাচীন শ্লোকগুলি একটি পাঠক্রমের মধ্য দিয়ে লিখিত আকারে রেখে তা ডিপ্লোমাকোর্স এর মধ্য দিয়ে নিজের মূল্যায়ন এবং কর্মজীবন শুরু করতে এই গ্রন্থ ভীষণভাবে সহযোগিতা করবে।এই গ্রন্থ প্রবীণ, নবীন শিল্পী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা সাংস্কৃতিক সেতু বন্ধন তৈরি করবে যা একে অপরকে সাঙ্গীতিকভাবে চিনতে এবং জানতে সাহায্য করবে। উত্তরবঙ্গ, অসম এবং বাংলাদেশের পারম্পরিক শিল্পীদের ‘দেশীঢোল’ এর বাজনা নিরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ এর পর তা থেকে ছোট ছোট বাজনার অংশগুলি অনুসরণ করে সেগুলো এই পুস্তকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে লিখিত আকারে স্থান পেয়েছে যাতে করে পুরনো শিল্পীদের পারম্পরিক বাজনার শৈলীগুলি হারিয়ে না যায় এবং নতুন সৃজনমূলক বাজনার কিছু উপকরণ তৈরি হয়। পারম্পরিক শিক্ষণপদ্ধতি এবং নতুন পদ্ধতির মধ্যে একটা মেলবন্ধন বা সংমিশ্রণ সহ একটা নির্দিষ্ট গঠনমূলক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গ্রন্থে লিপিবদ্ধ এই শিক্ষাপদ্ধতি ভারত তথা সারাবিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম এর উপকরণ হিসাবে আগামী দিনে একটি মহামূল্যবান শিক্ষামূলক তথ্যসম্ভার হতে পারে বলে দৃঢ় বিশ্বাস।