গান, জীবন ও বিতর্ক-আসিফ আকবরের খোলামেলা গল্প | The Untold Story of Asif Akbar
Drishti 24 Podcast
0:00 / 0:00
গান, জীবন ও বিতর্ক-আসিফ আকবরের খোলামেলা গল্প | The Untold Story of Asif Akbar
16 830 просмотров · 3 месяца назад
Drishti 24 Podcast
1,22 тыс. подписчиков
16 830 просмотров · 3 месяца назад
About Asif Akbar:
বাংলাদেশের আধুনিক সংগীতের ইতিহাসে যে কজন শিল্পী নিজেদের কণ্ঠ, ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয়তা দিয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় তৈরি করেছেন, তাদের মধ্যে আসিফ আকবর অন্যতম। ১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করা এই জনপ্রিয় শিল্পীর শৈশব ও বেড়ে ওঠা কেটেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশে। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সংগীতের পাশাপাশি খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেটের প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।
১৯৯৮ সালে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের হাত ধরে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে তাঁর পেশাদার সংগীতজীবনের সূচনা হয়। তবে ২০০১ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম "ও প্রিয়া তুমি কোথায়" বাংলাদেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করে। অ্যালবামটি শুধু বাণিজ্যিকভাবেই সফল হয়নি, বরং বাংলা আধুনিক গানের ধারা ও বাজারকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল। সেই একটি অ্যালবামই আসিফ আকবরকে রাতারাতি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত করে।
এরপর টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একের পর এক সফল একক, দ্বৈত, মিক্সড অ্যালবাম এবং চলচ্চিত্রের গান প্রকাশ করেছেন। তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যা হাজারেরও বেশি এবং অ্যালবামের সংখ্যাও শতাধিক। কুমার শানু, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, বাপ্পা মজুমদার, ডলি সায়ন্তনী, দিনাত জাহান মুন্নী, কণিজ সুবর্ণাসহ দেশ-বিদেশের বহু শিল্পীর সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। রোমান্টিক, আধুনিক, ফোক, ব্যান্ডধর্মী এবং চলচ্চিত্রের গান—প্রায় সব ধারাতেই তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য আসিফ আকবর ছয়বার Meril-Prothom Alo Award অর্জন করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পীর সম্মান লাভ করেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা কেবল অডিও অ্যালবামেই সীমাবদ্ধ নয়; ডিজিটাল যুগেও তিনি ধারাবাহিকভাবে নতুন গান প্রকাশ করে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
সংগীতের বাইরে আসিফ আকবরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে। ছাত্রজীবনে তিনি স্কুল ও কলেজ ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং Age Group Tournament Committee-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের তৃণমূল ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করেন। পরে তিনি Game Development Committee-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও গ্রহণ করেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো ও গ্রাসরুট উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
সংগীত ও ক্রিকেটের পাশাপাশি সামাজিক ও সমসাময়িক নানা বিষয়েও তিনি সবসময় সরব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্পষ্টভাষী অবস্থান, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে খোলামেলা মতামত এবং নির্ভীক ব্যক্তিত্ব তাঁকে একজন আলোচিত জনমুখী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। একসময় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং পরে সংগীত ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করেন। জীবনের বিভিন্ন সময়ে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্ক, আইনি জটিলতা ও ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই তিনি নতুন উদ্যমে ফিরে এসেছেন তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়—সংগীতশিল্পী হিসেবে।
আজকের আসিফ আকবর শুধুই একজন গায়ক নন; তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাঁর গান যেমন কোটি মানুষের আবেগের অংশ, তেমনি তাঁর সংগ্রাম, স্পষ্টবাদিতা, নেতৃত্বগুণ এবং বহুমাত্রিক কর্মজীবন তাঁকে সমকালীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সংগীত, সমাজ, ক্রিকেট প্রশাসন এবং জনজীবন—সব মিলিয়ে আসিফ আকবরের যাত্রা এখনও চলমান, আর সেই যাত্রার অজানা গল্প, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিই তাঁকে নতুন করে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে।