ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও আমাদের স্বপ্ন । বিসিএস ভাইভা। বিসিএস লিখিত। ব্যাংক লিখিত প্রস্তুতি
READERS Bank-BCS Guideline
0:00 / 0:00
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও আমাদের স্বপ্ন । বিসিএস ভাইভা। বিসিএস লিখিত। ব্যাংক লিখিত প্রস্তুতি
224 просмотра · 13 дней назад
READERS Bank-BCS Guideline
115 подписчиков
224 просмотра · 13 дней назад
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড : ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপির স্বপ্ন
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতি লভ্যাংশ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায়, যখন কোনো দেশের নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস পায় এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বলতে সেই শ্রেণির মানুষকে বোঝায়, যাদের বয়স ১ থেকে ১৫ বছর এবং ৬৫ বছর থেকে ঊর্ধ্বে। এ বয়সি মানুষ সাধারণত কর্মক্ষম থাকেন না। তারা চাইলেই নিজের শ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন না। আর কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বলতে সেই শ্রেণির মানুষকে বোঝায়, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। এ বয়সে একজন মানুষ পূর্ণ কর্মক্ষম থাকে। পপুলেশন সাইন্সের ভাষায় একটি দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ যখন কর্মক্ষম পর্যায়ে থাকে, তখন তাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা বলা হয়। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি দেশে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একবারই সৃষ্টি হয়। আবার কারও কারও মতে, হাজার বছরে একবার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। কোনো দেশ যদি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, তাহলে দেশটি দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারে; আর যদি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশটি সাধারণত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জন করতে সক্ষম হয় না।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড যুগে প্রবেশ করে এবং ২০০৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণমাত্রায় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সূচনা হয়। কারণ সেই সময় বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে গেলেও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন কোনো সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম গতানুগতিক ধারাতেই চলছে। ফলে আমরা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারছি না। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অভিজ্ঞজনদের মতে, বাংলাদেশ ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুবিধা ভোগ করতে পারবে।