প্রাচীন গৌড় ইতিহাস ও ঐতিহাসিক তাহাখানা এবং শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ ওয়ালী মাজার ও মসজিদ• Tahkhana
Ah Ornob 25
0:00 / 0:00
প্রাচীন গৌড় ইতিহাস ও ঐতিহাসিক তাহাখানা এবং শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ ওয়ালী মাজার ও মসজিদ• Tahkhana
129 просмотров · 2 г. назад
Ah Ornob 25
1,15 тыс. подписчиков
129 просмотров · 2 г. назад
Featured Location:- তাহখানা, মাজার ও মসজিদ || শাহ নেয়ামত উল্লাহ মসজিদ || হযরত শাহ নেয়ামতুল্লার তহাখানা মাজার
Chapter's:
0:00 তাহখানা
3:29 ঐতিহাসিক তোহখানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
6:48 তোহাখানা মাজার (শাহ নেয়ামত উল্লাহ মাজার)
ইতিহাস:-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক তোহাখানা কমপ্লেক্সটি মূলত মুঘল সুবাদার শাহ সুজা কর্তৃক তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহ ওয়ালী (রহঃ)-এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের নিদর্শন। এটি গৌড়-লখনৌতি অঞ্চলের মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য উদাহরণ, যা তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: তাহখানা প্রাসাদ, তোহাখানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং শাহ নেয়ামতউল্লাহর মাজার।
১. তাহখানা (Tahkhana) প্রাসাদ
তোহাখানা কমপ্লেক্সের মূল আকর্ষণ হলো এই তাপ-নিয়ন্ত্রিত প্রাসাদটি।
ক. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
নামের অর্থ: ফার্সি শব্দ 'তোহাখানা' (Tahkhana) বা 'তাহখানা'-এর আভিধানিক অর্থ হলো ঠান্ডা ভবন বা প্রাসাদ। এটি গ্রীষ্মকালে আরামদায়ক থাকার জন্য নির্মিত হয়েছিল।
নির্মাণকাল: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র ও বাংলার সুবাদার শাহ সুজা-এর শাসনামলে (১৬৩৯-১৬৫৮ বা ১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দ) এটি নির্মিত হয়।
উদ্দেশ্য: শাহ সুজা তাঁর মুরশিদ বা আধ্যাত্মিক গুরু হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহ ওয়ালী (রহঃ)-এর শীতকালীন বাসের জন্য ফিরোজপুরে এই তাপনিয়ন্ত্রিত ইমারতটি নির্মাণ করেন।
ব্যবহার: জনশ্রুতি আছে, শাহ সুজা তাঁর মুর্শিদের সাথে দেখা করতে এলে ভবনের মধ্যবর্তী সুপ্রশস্ত কক্ষটিতে অবস্থান করতেন।
জলাশয় সংযোগ: তোহাখানাটি 'দাফে-উল-বালাহ' নামক একটি বিশাল জলাধারের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। প্রাসাদের নিচতলার কক্ষগুলো থেকে সৃষ্ট সুড়ঙ্গপথ জলাধারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করত, যা ভেতরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করত।
খ. স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
গঠন: এটি একটি দ্বিতল বিশিষ্ট (পশ্চিমে একতলা, পূর্বে দ্বিতল অবয়ব) ভবন। এর পরিমাপ প্রায় ৩৫.৩৫ মি. x ১১.৫৮ মি.।
কক্ষ: উপরতলায় মোট ১৭টি কক্ষ ছিল। উত্তর পাশের কক্ষটি ছিল নামাজ কক্ষ এবং অন্যান্য কক্ষগুলো বিশ্রাম, আপ্যায়ন, ভোজনালয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হতো।
হাম্মামখানা (গোসলখানা): ভবনের দক্ষিণ পাশে একটি গম্বুজ আকৃতির হাম্মামখানা বা গোসলখানা রয়েছে। এখানে মাটির পাইপের সাহায্যে জলাশয় থেকে গরম এবং ঠান্ডা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল।
নির্মাণ উপাদান: এটি মূলত ইট দ্বারা নির্মিত। তবে দরজার চৌকাঠের জন্য কালো পাথর এবং ছাদের জন্য কাঠের বিম ব্যবহার করা হয়েছে।
অলঙ্করণ: প্রাসাদটি মুঘল স্থাপত্যের কারুকার্যের আদলে প্লাস্টার ও সৌন্দর্যমণ্ডিত।
২. তোহাখানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (শাহ নেয়ামত উল্লাহ মসজিদ)
তোহাখানা কমপ্লেক্সের উত্তর-পশ্চিম দিকে এই মসজিদটি অবস্থিত।
ক. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
নির্মাণ: এটি সুবাহদার শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০ খ্রি.) সুফি-সাধক শাহ নেয়ামতউল্লাহ ওয়ালী (রহঃ)-এর সম্মানে নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
সময়কাল: এটিও তোহাখানা প্রাসাদের সমসাময়িক (১৬ শতকের মাঝামাঝি) মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন।
গুরুত্ব: মসজিদটি তোহাখানা কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বাংলার স্থাপত্য শিল্পে এর কন্দাকার গম্বুজ ও অপূর্ব মুকারনা শৈলী-র জন্য বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে।
খ. স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
গঠন: এটি একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। ইটের তৈরি এই মসজিদটি একটি নিচু খিলানকৃত প্রাচীর ঘেরা প্রাঙ্গণের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত।
অভ্যন্তর: দুটি আড়াআড়ি খিলান আয়তাকার মসজিদের অভ্যন্তরকে তিনটি সমান বর্গাকার অংশে (Bay) বিভক্ত করেছে, যার উপরে তিনটি গম্বুজ অবস্থিত।
মিহরাব ও অলঙ্করণ: কিবলা দেওয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পার্শ্ববর্তী মিহরাবদ্বয় অপেক্ষা বড়। পূর্ব ফাসাদটি খিলান কুলুঙ্গি প্যানেল দ্বারা জাঁকজমকভাবে সজ্জিত। গম্বুজের অভ্যন্তরে মুকারনা শৈলী-র (Stalactite vaulting) অলঙ্করণ দেখা যায়, যা ফার্সি স্থাপত্যের একটি বৈশিষ্ট্য।
৩. তোহাখানা মাজার (শাহ নেয়ামত উল্লাহর মাজার)
মসজিদটির সামান্য উত্তরেই এই মাজার অবস্থিত।
ক. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
সমাহিত ব্যক্তিত্ব: এখানে বিখ্যাত সাধক হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহ ওয়ালী (রহঃ) শায়িত আছেন। তিনি দিল্লী প্রদেশের করোনিয়ার নামক স্থান থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গৌড়ের উপকণ্ঠে (ফিরোজপুরে) স্থায়ীভাবে আস্তানা গড়ে তোলেন।
মৃত্যু: তিনি ১০৭৫ হিজরি (১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দ) মতান্তরে ১০৮০ হিজরিতে (১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে) ফিরোজপুরেই সমাধিস্থ হন।
স্থাপত্যিক গুরুত্ব: শাহ নিয়ামতউল্লাহর সমাধি হলো বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম মুঘল সমাধিস্থাপত্য নিদর্শন।
অন্যান্য সমাধি: মাজারের অভ্যন্তরে শাহ নেয়ামতউল্লাহর পরিবারের সদস্য ও সহচরদের আরও নাম না জানা অনেক সমাধি দেখা যায়। দক্ষিণ-পূর্বে তাঁর সহধর্মিণীদের দুটি কবরও রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ঐতিহ্য: প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবারে শাহ সাহেবের ইসালে সওয়াব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং প্রতিদিন বহু ভক্ত ও দর্শনার্থী মাজার জিয়ারত করতে আসেন।
খ. স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
গঠন: এটি উঁচু ভিত্তিবেদির উপর দণ্ডায়মান বর্গাকৃতির এক গম্বুজবিশিষ্ট ইমারত।
বারদুয়ারী: সমাধিসৌধটির প্রত্যেক দেওয়ালে তিনটি করে প্রবেশপথ থাকায় এটি 'বারদুয়ারী' ইমারত হিসেবে পরিচিত।
মুঘল প্রভাব: সমাধিটির ভূমি-নকশার বিন্যাসে দিল্লির হুমায়ুনের সমাধি ও আগ্রার তাজমহলের মুঘল স্থাপত্যের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এটি কেন্দ্রীয় বর্গাকৃতির কক্ষ এবং চারপাশে ভল্টনির্ভর টানা বারান্দা দ্বারা গঠিত।
অলঙ্করণ: কার্নিসে পদ্মপাপড়ির মোটিফ এবং বুরুজশীর্ষে কলস ব্যবহার বাংলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলেছে।
#historical #history #chapainawabgang #malda #gour #mosque #mosjid #মসজিদ #মসজিদে #মসজিদুল #আল্লাহ #আল্লাহু_আকবার #আলহামদুলিল্লাহ #দোয়া #দোয়া_ও_আমল #মাজার #যাত্রাপালা #মাজার_শরীফ #জালসা #জালসা_ওয়াজ_বায়ান #চাপাই