ব্ল্যাঙ্ক চেকে ইচ্ছেমতো টাকা বসিয়ে মামলা? বাঁচার উপায় ও হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়! Law tips bd
LAW TIPS BD
0:00 / 0:00
ব্ল্যাঙ্ক চেকে ইচ্ছেমতো টাকা বসিয়ে মামলা? বাঁচার উপায় ও হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়! Law tips bd
2 050 просмотров · 3 недели назад
LAW TIPS BD
122 тыс. подписчиков
2 050 просмотров · 3 недели назад
ব্ল্যাঙ্ক চেকে ইচ্ছেমতো টাকা বসিয়ে মামলা? বাঁচার উপায় ও হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়! Law tips bd
কয়েক বছর আগে ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার সময় জামানত হিসেবে একটি ফাঁকা বা ব্ল্যাঙ্ক চেক জমা দিয়েছিলেন? কিংবা কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনে কেবল সই করে সিকিউরিটি চেক দিয়েছিলেন। আজ হঠাৎ আদালতে গিয়ে দেখলেন, সেই ফাঁকা চেকে ইচ্ছেমতো কয়েক গুণ বড় অঙ্ক আর নতুন তারিখ বসিয়ে আপনার নামে এন.আই এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনারের মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে! মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা, তাই তো? মনে হচ্ছে চেকে যেহেতু আপনারই সই, তাই আপনার আর কিছুই করার নেই? ভয় পাবেন না! আজকের ভিডিওটি আপনার মনে সাহস জোগাতে এবং আইনিভাবে নিজেকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা বিস্তারিত জানবো ব্যাংক বা পাওনাদারের এই মনগড়া অঙ্ক বসিয়ে মামলা করার বিষয়টি আইনের চোখে কতটুকু বৈধ এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট এ বিষয়ে আসামি বা ভুক্তভোগীদের পক্ষে কী যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সেসব বিষয়ে---।
আমাদের দেশে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সময়একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয়। আর পাওনা আদায়ের জন্য আমাদের দেশে ২০০৩ সালের 'অর্থঋণ আদালত আইন' রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় কিছু অসাধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি অর্থঋণ আদালতে না গিয়ে দ্রুত চাপ সৃষ্টি করে জেলে পাঠানোর ভীতি দেখানোর জন্য এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এবং বিভিন্ন রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে ঋণের বিপরীতে নেওয়া চেক মূলত একটি 'নিরাপত্তা জামানত' এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত দেনা পরিশোধের জন্য ইস্যুকৃত চেক নয়। কিন্তু বাদীপক্ষ আদালতে সুবিধা পায় এনআই অ্যাক্টের ১১৮ ও ১৩৯ ধারার কারণে, যেখানে বলা আছে চেকে সই থাকলে প্রাথমিকভাবে ধওে নেওয়া হবে চেকটি বৈধ। প্রশ্ন হলো এই আইনি অনুমান কি আপনার আত্মপক্ষ সমর্থনের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে? উত্তর হলো: 'না, কখনোই নয়।'
চেকে আপনার সইটি সঠিক হলেও যদি তারিখ, নাম এবং টাকার অঙ্ক অন্য কারও হাতের লেখায় বা ভিন্ন কালিতে লেখা হয়ে থাকে, তবে তা স্বাভাবিক নিয়মে ইস্যুকৃত চেক নয়। এম. এ মজিদ বনাম মোঃ আব্দুল মোতালেব (৫৬ ডিএলআর, পৃষ্ঠা ৬৩৬) মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে, আসামির স্বাক্ষর, টাকার অঙ্ক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখায় থাকলে এন.আই অ্যাক্টের ৩(ই) ধারা অনুসারে উহাকে ইসুয়েন্স অব চেক' বলা যাবে না এবং অনুরূপ চেক আইনানুগভাবে বৈধ নয়। আপনার সম্মতি বা অনুমতি ছাড়া পরবর্তীতে যদি চেকে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বাড়ানো হয় বা বহু আগের পুরনো চেকে নতুন তারিখ বসানো হয়, তবে এন.আই অ্যাক্টের ৮৭ ধারা অনুযায়ী তা অবৈধ বস্তুগত পরিবর্তন।
এমন চেক আইনত সরাসরি বাতিল! এ.এইচ. এরশাদুল হক বনাম রাষ্ট্র (৭৫ ডিএলআর, পৃষ্ঠা ৪৪৭) মামলায় হাইকোর্ট বলেছেন যদি মূল ড্রয়ার নিজে পুরো চেক পূরণ না করে অন্য কেউ পরে অঙ্ক বা তারিখ লেখে এবং হস্তাক্ষরে অসঙ্গতি থাকে, তবে বাদীকে আদালতে দাড়িয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন এবং কার সম্মতিতে তা লেখা হলো। বাদী যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আসামি সরাসরি খালাস পাবেন! পাওনাদার হয়তো ৫ বা ১০ বছর আগের সিকিউরিটি চেক নিজের কাছে রেখে সুবিধাজনক সময়ে ইচ্ছেমতো বড় অঙ্ক বসিয়ে মামলা করেছে। আপনি কীভাবে প্রমাণ করবেন যে সই এবং ভেতরের লেখা একই সময়ে করা হয়নি? এখানেই কাজ করবে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৪৫ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৩(২) ধারা। আদালতের কাছে চেকটি হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ বা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর আবেদন করা আসামির একটি সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার। এটি 'ফেয়ার ট্রায়াল' বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির ন্যায্য বিচার পাওয়ার মূল ভিত্তি।
ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বহুল আলোচিত মামলা (টি. নাগাপ্পা বনাম ওয়াই.আর. মুরলিধর) এবং আমাদের আপিল বিভাগের (হুমায়ুন রশিদ বনাম শাহিন আকন্দ ৭১ ডিএলআর) নীতি অনুযায়ী, চেকে ভিন্ন হাতের লেখা ও কালি দৃশ্যমান হলে প্রমাণের দায় বাদীর ওপর বর্তায়। আসামি যদি হস্তাক্ষর ও কালির বয়স পরীক্ষার আবেদন জানান, আদালত তা খারিজ করলে তা ফেয়ার ট্রায়ালের লঙ্ঘন হবে। াদীর অসংলগ্ন ব্যাখ্যার কারণে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মূল নীতি অনুযায়ী "সন্দেহের সমস্ত সুবিধা পাবেন আসামি।"তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি আপনার জামানতের ফাঁকা চেকের অপব্যবহার করে মামলা ঠুকে দেয়, তবে হতাশ হয়ে ভেঙে পড়বেন না। মনে রাখবেন সই থাকলেই অপরাধী হেেয় গেলেন না। আইনজীবীর মাধ্যমে শুরুতেই চেকের ভিন্ন হাতের লেখা, ভিন্ন কালি এবং বস্তুগত পরিবর্তনের আইনি পয়েন্ট উত্থাপন করুন। প্রয়োজনে সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারায় চেক ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর আবেদন করুন।
উচ্চ আদালতের নজিরগুলো আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের সামনে উপস্থাপন করুন। আইনের অনুমানের ঢাল ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানি করার সুযোগ নেই।
আপনার ব্যাংক বা এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে জমা দেওয়া ব্ল্যাঙ্ক চেকে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক ও নতুন তারিখ বসিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে? ভাবছেন চেকে সই আপনার, তাই আর কিছুই করার নেই? একদম ভয় পাবেন না! চেকে কেবল সই থাকলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না।
এই ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে:
ব্ল্যাঙ্ক বা সিকিউরিটি চেক কীভাবে আইনিভাবে অবৈধ হতে পারে।
হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ (৫৬ DLR ৬৩৬, ৭৫ DLR ৪৪৭, ৭১ DLR)।
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারায় হস্তাক্ষর ও কালির বয়স পরীক্ষার ফরেনসিক আবেদনের নিয়ম।
এনআই অ্যাক্টের (NI Act 138) মিথ্যা মামলা থেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায়।
আইন জানুন, সচেতন থাকুন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বিরুদ্ধে সাহসী হন।
📌 ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার করুন এবং নতুন নতুন আইনি আপডেট পেতে LawTipsBD চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন!
#LawTipsBD #CheckDishonourCase #NIAct138 #BlankCheckCase #LegalRightsBD #LawyerAdviceBD #SecurityCheckCase