ঢাকুরিয়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬-এর শারদোৎসবের ভাবনা হিসেবে উপস্থাপন করছে ‘অভ্যুদয়’
Dhakuria Sarbojanin Durgotsab
0:00 / 0:00
ঢাকুরিয়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬-এর শারদোৎসবের ভাবনা হিসেবে উপস্থাপন করছে ‘অভ্যুদয়’
227 просмотров · 12 дн. назад
Dhakuria Sarbojanin Durgotsab
106 подписчиков
227 просмотров · 12 дн. назад
ঢাকুরিয়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি ২০২৬-এর শারদোৎসবের ভাবনা হিসেবে উপস্থাপন করছে ‘অভ্যুদয়’ (The Emergence)—বিভিন্ন রূপ ও অস্তিত্বের মধ্য দিয়ে মা দুর্গার চিরন্তন আবির্ভাবের এক অনুসন্ধান।
মায়ের সর্বজনীন ও মহিমান্বিত উপস্থিতি তাঁকে কেবল পুরাণের সীমায় আবদ্ধ রাখে না; বরং জন্ম, মৃত্যু ও পার্থিব অস্তিত্বের গভীরে তাঁকে অনুভব করার পথ দেখায়। আমাদের শিল্প-স্থাপনা সেই যাত্রাকে অনুসরণ করে—পার্থিব সত্তা থেকে দিব্যতার দিকে।
সূচনা হয় মায়ের মহাজাগতিক অস্তিত্বে—কাল, স্থান ও বস্তুজগতের ঊর্ধ্বে এক অনাদি, অনন্ত সত্তা, যাঁর নেই শুরু, নেই শেষ। তিনি সকল মতবাদ ও গণ্ডির ঊর্ধ্বে।
সেই অসীম সত্তাই ক্রমে গ্রহণ করেন মানবিক রূপ—নারী, শক্তি ও চিরন্তন নারীসত্তা হিসেবে। তিনি হয়ে ওঠেন উমা, বাঙালির ঘরের মেয়ে—দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে ফিরে আসা আপনজন। অলংকার, শাড়ি, শিল্প ও ভক্তির স্পর্শে নির্মিত তাঁর এই মানবিক রূপে দেবী ও মানুষের দূরত্ব মুছে যায়।
এরপর আমরা পৌঁছাই মায়ের পৌরাণিক অস্তিত্বে—অকালবোধন-এর সেই মহাজাগরণের কাহিনিতে, যেখানে সীতাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে শ্রীরাম ১০৮টি পদ্মে মায়ের আরাধনা করেন এবং একটি পদ্ম কম পড়ায় নিজের চোখ উৎসর্গের সংকল্প করেন। তাঁর ভক্তি ও আত্মসমর্পণের সেই স্মরণ ক্রমে বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনায় প্রোথিত হয়।
বাংলার শিল্প, সাহিত্য, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিসরে মা দুর্গা তাই কেবল আরাধ্য নন, সৃষ্টিরও অনুপ্রেরণা। পাঁচ দিনের উৎসব থেকে বিজয়া দশমীর বিদায়, প্রতিমা থেকে ধারণাভিত্তিক প্যান্ডেল—প্রতিটি শিল্পভাষায় মা নতুনভাবে আবির্ভূত হন।
‘অভ্যুদয়’ সেই অনন্ত যাত্রারই অনুসন্ধান—মহাজাগতিক থেকে মানবিক, পৌরাণিক থেকে সাংস্কৃতিক, আর ভক্তি থেকে শিল্পে। রূপ ও প্রেক্ষিত বদলালেও মা আবির্ভূত হন বারবার—নিত্যনতুন রূপে, অথচ তাঁর চিরন্তন সত্তাকে সঙ্গে নিয়ে।