সুলতান আহমেদের কবর | sultan ahmet shrine | ইস্তাম্বুল
Creature Entertainment BD
0:00 / 0:00
সুলতান আহমেদের কবর | sultan ahmet shrine | ইস্তাম্বুল
1 044 просмотра · 4 года назад
Creature Entertainment BD
20,3 тыс. подписчиков
1 044 просмотра · 4 года назад
sultan ahmet shrine
সুলতান আহমেদের কবর
ইস্তাম্বুল, ইউরোপ এশিয়া একত্রকারী শহর ইউরোশিয়ার বসফরাস প্রণালীর তীর ঘেঁষে মুসলিম ঐতিহ্যের নিদর্শন কোলে নিয়ে মাথা উঁচু দাঁড়িয়ে আছে ব্লু মসজিদ। আর এই মসজিদের পাশেই শায়িত আছেন এই বিখ্যাত ব্লু মসজিদের নির্মাতা সুলতান আহমেত খান যাকে নাকি তুর্কিশ ভাষায় বলে থাকে সুলতান আহমেত হান।
সুলতান আহমেদকে বলা হয় আহমেদ প্রথম। তিনি ১৬০৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান ছিলেন। সুলতান আহমেদের শাসনামল ঐতহাসিক ভ্রাতৃহত্যা আইন সমাপ্তির জন্য উল্লেখযোগ্য। তখন থেকে অটোমান শাসকরা সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর আর তাদের ভাইদের হত্যা না করার আইন চালু হয়। তূর্কিতে নির্মিত বিখ্যাত মসজিদগুলোর মধ্যে তার নির্মিত নীল মসজিদ ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত, যার ফলে তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিল। অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম ক্ষমতাসীন নারী কোসেম সুলতান তার স্ত্রী ছিলেন। সুলতান আহমেদ তার সমসাময়িক সুলতানদের মধ্যে অধিকতর যোগ্য ছিলেন। তিনি খুব অল্প বয়সে সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন এবং মাত্র ২৭ বয়সে মৃত্যুবরন করেন।
সুলতান আহমেদ ১৮ এপ্রিল ১৫৯০ সালে মানিসা প্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেন, তার পিতা শাহজাদ মেহমেদ ছিলেন একজন শাহজাদ এবং মানিসার গভর্নর ছিলেন। তার মা ছিলেন হানদান সুলতান। সুলতান আহমেদ খুবই মেধাবী ছিলেন এবং সু শিক্ষায় শিক্ষিত হন। তিনি আরবী এবং পারশিয়ান ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি অত্যান্ত দক্ষ সৈনিক ছিলেন এবং তীর চালনায় ছিলেন প্রচন্ড দক্ষ। ১৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তার পিতামহ তৃতীয় মুরাদের মৃত্যুর পর তার পিতা ইস্তাম্বুলে আসেন এবং সুলতান তৃতীয় মেহমেদ নামে সিংহাসন আরোহণ করেন।
সুলতান আহমেদ পরে তেরো বছর বয়সে ১৬০৩ সালে তার পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেন, তার ক্ষমতাধর দাদী সাফিয়া সুলতান তখনও জীবিত ছিল। সুলতান আহমেদ অত্যান্ত শালীন চলাফেরা করতেন এবং তার পোষাক পরিচ্ছদও ছিলো পরিমার্জিত। সুলতান সুলাইমানের পর তিনিই প্রথম সুলতান যিনি প্রাশাসনিক বিধিবিধান পরিমার্জিত করেন।তার রাজনৈতিক প্রতিভা ছিলো খুবই তীক্ষ্ণ এবং প্রবল। তিনি খুবই অল্প বয়সে সিংহাসনে আরওহন করলেও সম্রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন অত্যান্ত দক্ষতার সাথে। সুলতান আহমেদের জীবনে ১৪ নম্বরটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি ১৪ বছর বয়সে সিংহাসনে আসেন, তিনি ১৪ বছর রাজত্ব করেন এবং তিনি উসমানী সাম্রাজ্যের ১৪ তম সুলতান ছিলেন।
তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর ঐতিহ্যবাহী ফ্র্যাটিক্রিডের নিয়ম অর্থাৎ ভ্রাতৃহত্যা প্রথা ভেঙেছেন এবং তার ভাই মুস্তাফার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তার ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড রাজবংশকে বিপন্ন করে তুলতে পারে এজন্য তিনি এই প্রথা বিলুপ্ত করেন। তার সময়ে সুলতান আহমেদ ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। যদিও পরবর্তীতে ১৬০৬ সালে স্বাক্ষরিত জিসিটভোটারোকের চুক্তিতে তার প্রভাব প্রতিপত্তি কিছুটা কমে যায়।
পবিত্র কাবার প্রতি ছিলো সুলতান আহমেদের অভাবনীয় ভালোবাসা। ১৬১২ সালে ইস্তাম্বুল থেকে দক্ষ কারিগর পাঠিয়ে সুলতান কাবার জরাজীর্ণ দেয়াল মেরামত করেছিলেন। তিনি কাবার জন্য একটি সোনার
ঝর্না এবং জমজম কূপের চারপাশে একটি লোহার খাঁচা তৈরি করেছিলেন যাতে লোকজনের ভীড়ে এটি পড়ে না যায়। তিনি মসজিদ আল-হারাম এবং মসজিদে নববীতে হীরা-বোঝাই দুটি বাতি পাঠিয়েছিলেন, সাথে একটি মার্বেল এর মিম্বার। তিনি মসজিদগুলোতে প্রিয় নবীর জন্ম বার্ষিকীতে মওলিদে কান্দিল অর্থাৎ বাতি জ্বালাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সুলতান আহমেদ ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদে ১৬১৭ সালের ২২ নভেম্বর টাইফাস এবং গ্যাস্ট্রিক জনিত কারনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। সুলতান আহমেদ মসজিদের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয় যেটাকে সবাই ব্লু মসজিদ হিসাবে চিনে থাকে। তাঁর পরে তাঁর ছোট ভাই শাহজাদা মোস্তফা সুলতান হিসাবে পদে অধিষ্ঠিত হন। পরে আহমেদের তিন পুত্র সিংহাসনে আরোহণ করেন: দ্বিতীয় উসমান, চতুর্থ মুরাদ এবং ইব্রাহিম
সুলতান আহমেদ খানের কবরের জায়গাটা পুরোটাই বিশাল এক গম্বুজে ঘেরা। পুরো গম্বুজটাই ভেতর থেকে নানান ক্যালিওগ্রাফি এবং কারোকার্যে সজ্জিত। কবরের উপড়ের গিলাফগুলোও কোরআনের আয়াত খচিত কারুকার্য করা। তার কবরের পাশেই শায়িত আছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তার ছেলে উসমান দ্বিতীয়, মেয়ে আইশে, তার স্ত্রী কোসেম সহ তার পরিবারের সদস্যরা শায়িত আছেন তার পাশেই।
সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েকদিন সুলতান আহমেদের কবরটি দর্শনার্থীদের যিয়ারতের জন্য উন্মোক্ত থাকে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ যিয়ারত করেন প্রখ্যাত এই সুলতানের কবর। তার নামানুসারেই ইস্তাম্বুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রি জায়গাটির নামকরণ করা হয় সুলতান আহমেদ হিসাবে। যার পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া এবং তোপাকপি প্রাসাদ।