Перейти к содержимому

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আমি ১২৭ কোটি টাকারও বেশি জিতেছি।আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম—

Bengali audio story

0:00 / 0:00

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আমি ১২৭ কোটি টাকারও বেশি জিতেছি।আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম—

1 341 просмотр · 7 ч назад
Bengali audio story
4,34 тыс. подписчиков
1 341 просмотр · 7 ч назад
মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আমি ১২৭ কোটি টাকারও বেশি জিতেছি।আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম—আর সেই রাতেই আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, “আমার চাকরিটা চলে গেছে…”আমি ভেবেছিলাম, এটাই হয়তো একমাত্র উপায়— জানার, ও সত্যি আমাকে ভালোবাসে কিনা… নাকি ওর পরিবার টাকার গন্ধ পেলেই আমাদের গিলে খাবে।আর যখন সৌমিক আমাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেছিল, আমি নিঃশব্দে কেঁদেছিলাম।কারণ আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তখন এমন একটা অঙ্ক পড়ে ছিল, যেটার কাছাকাছি সংখ্যাও ওর বোন রিমি কোনোদিন জীবনে দেখেনি… তবুও সেই পরিবারের চোখে আমি তখনও শুধু “বোঝা”— যে নাকি স্বামীর টাকায় বেঁচে আছে। 💔 লটারির টিকিটটা আমি কিনেছিলাম আমাদের এলাকার ছোট্ট একটা দোকান থেকে। যে দোকানে মোবাইল রিচার্জ হয়, সিগারেট খোলা বিক্রি হয়, আর সারাদিন পোড়া কফির গন্ধ ভাসে সংখ্যাগুলো আমি খুব ভেবেচিন্তে দিইনি।আম্মুর জন্মদিন। আব্বু যেদিন মারা গিয়েছিলেন সেই তারিখ। আর ছোটবেলা থেকে যেই দুইটা সংখ্যা আমাকে অকারণে ভয় দেখাতো।তারপর…ফলাফল যখন ফোনের স্ক্রিনে উঠলো, আমি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়েই জমে গিয়েছিলাম।চারপাশ দিয়ে বাস যাচ্ছে। রিকশার বেল বাজছে। মানুষ হাঁটছে।কিন্তু আমার কাছে সব শব্দ যেন দূরে সরে গিয়েছিল। ৯৭ মিলিয়ন ডলার।সব কেটে হাতে রইলো প্রায় ৭৮ মিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশি টাকায়… একশ সাতাশ কোটিরও বেশি।আমি চিৎকার করিনি। লাফাইনি। কাঁদিনিও না।আমার মাথায় প্রথম যে মানুষটার কথা এসেছিল, সে হলো—রিমি। সৌমিকের বড় বোন।কারণ সৌমিক যদি জানতো… তাহলে রাতের খাবারের আগেই রিমি জেনে যেত।আর রিমি জানলে, তার স্বামী রাজীব সেই চেনা মিথ্যা হাসিটা নিয়ে হাজির হতো। কখনো বিউটি পার্লারের জন্য টাকা, কখনো নতুন ব্যবসার জন্য, কখনো ধার শোধের জন্য।ওদের জীবনটা সবসময় এমন ছিল— ভাড়া বাসায় থেকেও এমন ভাব, যেন গুলশানের বড়লোক।তাই আমি সোজা বাসায় ফিরিনি।প্রথমে ব্যাংকে গিয়েছিলাম।নতুন অ্যাকাউন্ট খুললাম। নতুন সিম কিনলাম। টাকাগুলো ধাপে ধাপে ট্রান্সফার করলাম।সবকিছু নিঃশব্দে।তারপর রাতে বাসায় ফিরলাম।দরজা খুলতেই দেখি সৌমিক রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে। পুরোনো একটা এপ্রোন পরে ডাল নাড়ছে।আমাকে দেখে হাসলো।— “এই তো? আজ না ওভারটাইম ছিল?”আমি ব্যাগটা সোফায় ছুঁড়ে রেখে ধীরে বললাম, — “সৌমিক… আমার চাকরিটা চলে গেছে।”ওর হাত থেমে গেল। চুলার আগুন বন্ধ করে ধীরে ধীরে আমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসলো “কখন?”— “আজ। কোম্পানি নাকি লোক কমাচ্ছে।”আমি ওর চোখের দিকে তাকাতে পারছিলাম না।অপরাধবোধে না…ভয় হচ্ছিল। যদি হতাশা দেখি? কিন্তু সৌমিক শুধু আমার হাতটা ধরে বললো, — “আরে… সমস্যা নাই। আমি আছি না?”শেষের কথাগুলো বলতে গিয়ে ওর গলা কেঁপে উঠেছিল।আর সেই মুহূর্তটাই আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। সৌমিকের মাসিক বেতন ছিল মোটামুটি পঞ্চাশ হাজারের মতো। আমি একটু বেশি পেতাম। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাজার, ইন্টারনেট, ওষুধ— সব মিলিয়ে মাস শেষ হওয়ার আগেই আমাদের হিসাব এলোমেলো হয়ে যেত।সেই রাতে সৌমিক আমার প্লেটে বাড়তি ভাত তুলে দিলো।ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা সফট ড্রিংক বের করে হেসে বললো, — “এটাকে জোর করে ছুটি পাওয়া ভাবো।”আমিও হাসলাম।আর আমার পাশের ড্রয়ারে তখন একটা ফোন রাখা… যার ভেতরে ১২৭ কোটি টাকা ঘুমিয়ে আছে।পরদিন সকালে সৌমিকের মেসেজ এলো।“রিমির জন্য যে গোল্ড সেট বুক করছিলাম, সেটা ক্যানসেল করছি। চার লাখ বিশ হাজার ফেরত পাইছি। টাকাগুলো তুই রাখ। বাকিটা আমি ম্যানেজ করবো।”আমি অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।ওই সেটটা ছিল রিমির বিবাহবার্ষিকীর গিফট।রিমিই জোর করে সৌমিককে কিনতে বাধ্য করেছিল।তার সেই পুরোনো কথা— “তুই আমার একমাত্র ভাই। নাকি তোর বউয়ের কথায় চলিস এখন?”সেই টাকা নিয়ে আমাদের ঝগড়াও হয়েছিল।কিন্তু আজ… আমার জন্য সৌমিক সব বাতিল করে দিয়েছে।আমার মিথ্যার জন্য।দুপুরেই রিমির ফোন এলো।সৌমিক বারান্দায় গিয়ে কথা বলছিল, কিন্তু আমি সব শুনতে পাচ্ছিলাম।— “কি ব্যাপার সৌমিক? সেটটা ক্যানসেল করছিস কেন?”— “মেহরিনের চাকরি চলে গেছে… একটু হিসাব করে চলতে হবে। “তো? আমার কী দোষ? তোমার বউয়ের দুর্ভাগ্যের জন্য আমি কেন ভুগবো?”আমার মুখ গরম হয়ে উঠলো।সৌমিক গম্ভীর গলায় বললো, — “ওকে এভাবে বলবি না।”কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। রিমি সম্ভবত ভাবতেই পারেনি, সৌমিক ওকে থামাবে।