ভাবি আপনার চুল তো অনেক সুন্দর।কথাটা বলা মাত্রই লুবনার আনন্দ হবার কথা ছিল।মেয়েরা নিজের প্রশংসা,,,
Bengali audio story
0:00 / 0:00
ভাবি আপনার চুল তো অনেক সুন্দর।কথাটা বলা মাত্রই লুবনার আনন্দ হবার কথা ছিল।মেয়েরা নিজের প্রশংসা,,,
2 498 просмотров · 1 дн. назад
Bengali audio story
4,33 тыс. подписчиков
2 498 просмотров · 1 дн. назад
ভাবি আপনার চুল তো অনেক সুন্দর।কথাটা বলা মাত্রই লুবনার আনন্দ হবার কথা ছিল।মেয়েরা নিজের প্রশংসা অন্যের মুখে শুনতে ভালোবাসে কিন্তু লুবনার মুখটা মলীন হয়ে গেল।লুবনার পিছনেই দাড়িয়ে আছে ইকবাল।রনি হেসে ইকবাল এর দিকে তাকিয়ে বলছে কি ভাই বউয়ের প্রশংসা করছি বলে রাগ হচ্ছেন নাতো।ইকবাল কোন কথাই বলছেনা।লুবনা মাথা নিচু করে চলে গেল।লুবনা রান্না ঘরে রান্না করছে।ইকবাল সিগারেট মুখে নিয়ে বলছে ছাদ এ কাপড় শুকাতে যাও নাকি চুল দেখাতে?লুবনা: মানে?ইকবাল সিগারেট মেঝেতে ফেলে চলে গেল।সারাদিন ইকবাল মুড অফ করে আছে।এরকম টা নতুন না।লুবনার রূপের প্রশংসা যদি কোন ছেলে করে তাহলে এমন করেই থাকে।বিয়ের পর এমন অনেক ঘটেছে।লুবনা ইকবালের মন রক্ষার জন্য নিজেকে গুটিয়ে রাখার ট্রাই করে কিন্তু তাও পারেনা।এইতো কয়েক বছর আগে ইকবালের বন্ধু বলেছিল নীল শাড়িতে ভাবিকে বেশ মানায়।ইকবাল রেগে সব নীল শাড়ি পুড়িয়ে দেয়।আজ চুলের প্রশংসা করেছে তাই বলে তো আর চুল পুড়িয়ে দিতে পারেনা।ইকবাল ভাত খেতে আসো।এই বলে দরজার পাশে দাড়িয়ে আছে লুবনাইকবাল: ভাত খাব না।লুবনা: ভাত না খাবার কি আছে?আমি যে কষ্ট করে রান্না করলাম।ইকবাল চেঁচিয়ে বলে বললাম তো খাবনা।লুবনা কাঁদতে কাঁদতে ড্রয়িং রুমে চলে গেল।
রাত ২:৪৫ ইকবাল কেঁচি নিয়ে ঘুরছে।লুবনা ঘুমিয়ে আছে।চাঁদের আলো ওর মুখে পরেছে।মেঘ কালো চুল লুবনার মুখ প্রায় ঢেকে ফেলেছে।ইকবাল মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে লুবনার দিকে।এই চাঁদ মুখ টা দেখে কেবল ইকবাল ই মুগ্ধ হতে চায়।দুনিয়ার আড়াল এ রাখতে পারতাম যদি এই ভেবে ইকবাল এর চোখ পানি ভর্তি হয়ে গেল।কেঁচি নিয়ে লুবনার চুল এর কাছে গিয়েও সরে এলো।এতো বড় বাজে কাজটা করা যায়না এই ভেবে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করছে।কিন্তু কারো কু নজর ওই চুলে যে আছে।ওই চুল দেখলেই তা মনে পরে যাবে আমার এই ভেবে রাগে মাথায় ঘাম জমেছে।হাত থেকে কেঁচি ছুড়ে মেঝেতে ফেলে ইকবাল চলে গেল।শব্দ শুনেই ঘুম ভেঙে গেল লুবনার।রুমে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই।আলো জ্বালিয়ে মেঝেতে তাকিয়ে দেখে কেঁচি পরে আছে।লুবনার বুঝতে আর বাকি নেই ইকবাল ই এসেছিল অন্ধকারে।কেঁচি হাতে নিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে লুবনা।এ কেমন মানুষ জুটলো আমার কপালে!ভালোবাসার চিটে ফোঁটা অভাব নেই কিন্তু ভালোবাসার চেয়েও সন্দেহ,হিংসায় ভরে গেছে মন।এভাবে একদিন হয়তো ও আমায় ই খুন করে ফেলবে।হয়তো মেরে ফেলে নিজেই পাগল হয়ে যাবে।এ থেকে মুক্তি হয়তো মিলবেনা কোন কালে।হাতে কেঁচি নিয়ে লুবনা আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে।চুল থাকবে যতদিন হয়তো ইকবাল এভাবেই রাতের ঘুম হারাম করবে নিজের।নারীদের যে সৌন্দর্য তার স্বামীকে ঘুমোতে দেয়না সেই রূপ রেখে কি লাভ!এই ভেবে লুবনা নিজের এক গোছা চুল হাতে নিল।চুলগুলি হাতে নিয়ে কাঁদছে লুবনা।কত সখের চুল ছিল।এমন কি ইকবালের ও খুব পছন্দের ছিল এই চুল।সেবার যখন ইকবাল প্রথম লুবনাকে দেখতে গেল লুবনা হালকা সবুজ শাড়ি আর চুল গুলি এক পাশে ছেড়ে দিয়ে ইকবালের সামনে এসেছিল।আলাদা করে কথা বলতে যখন দিল ইকবাল এর মাঝে এমন কোন মানুষিক সমস্যা লুবনা খেয়াল করেনি।বেশ শান্ত একজন মানুষ। লজ্জায় লুবনার দিকে তাকিয়েও কথা বলতে পারেনি।শুধু বলেছিল আপনার চুল গুলি কি আসল?লুবনা হেসে দিয়ে বলে আসল মানে?ইকবাল লুবনার দিকে তাকিয়ে বলে হুম নকল চুল হয় তো।একবার কি হল জানেন?আমার ছোট মামার জন্য মেয়ে ঠিক করা হল। মেয়ে অসম্ভব সুন্দরী। মামা একবার দেখেই প্রেমে পরে যায় তবে আমার মামার মাথায় চুল ছিলনা বললেই চলে।এখন ওই মেয়ে তো আর টাকু ছেলে কে বিয়ে করবেনা।তারপর বুদ্ধি করে নকল চুল লাগিয়ে গেলেন।বিয়েও সেই নকল চুলেই হয়েছিল।বাসর রাতে নাকি মামি তার মাথার চুল খুলে দিয়ে বলেছিল আমি আগেই জানতাম আপনে টাকু হা হা হা।লুবনা হাসলো না।মৃদ্যু স্বরে বললো মামার বাসর ঘরে কি হল তা আপনে কি করে জানলেন?ইকবাল চোখের চশমা খুলে বললো আরে মামা অনেক টা ফ্রি।আজ ও এসেছেন।ওই যে আমার বাম পাশের এক ভদ্রলোক বার বার মিষ্টি খাচ্ছিলেন উনি।লুবনা মাথার ঘোমটা সরিয়ে দিয়ে বললো দেখে নিন চুল আসল না নকল।ইকবাল ইতস্তত হয়ে চশমা চোখে দিয়ে বললো এ মা ছিঃ ছিঃ কি করছেন?আমি শুধুই মজা করলাম।ভাবতে ভাবতেই কেঁচি হাতে লুবনা ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।এক সময় আসল চুল গুলি আজ ভালোবাসায় ভাঙন ধরাচ্ছে। নাকি এ ভালোবাসা শুরুতেই ফাটল ছিল!ঘছ ঘছ করে চুল কেটে ফেললো লুবনা।মনে হচ্ছে নিজের কলিজা নিজের হাতে কুচি কুচি করছে আর তার শব্দ নিজেই শুনছে।ইকবালের প্রথম অস্বাভাবিক আচরণ নজরে পরে গায়ে হলুদ এর দিনে।সবাই লুবনার মুখে হলুদ মাখাচ্ছে।বন্ধুর একে অন্যকে কাঁদা ছেটাচ্ছে।লুবনা মুখ নিচু করে বসে আছে।হঠাৎ লুবনার মামাতো বোন চেঁচিয়ে উঠলো কে কোথায় আছো এখানে ঘাপটি মেরে দুলাভাই বসে আছে।দেখে যাও সবাই।লুবনার বুকে ধক করে উঠলো।ইকবাল নাতো!আর কাকেই বা দুলাভাই বলবে?কিন্তু ও আজ কেন আসবে?আজ তো গায়ে হলুদ?লুবনার বাবার মুখ মলীন হয়ে গেল।মেয়ের বাবারা বিয়ের আগে পাত্রকে আশা করেননা।কারন বিয়ের আগে পাত্র আগমনকে তারা ভাবে বিয়ে ভাঙার জন্য এসেছে।আর বিয়ের দিন পাত্রের দেরি সইতে পারেনা।তাও তাদের বুকে বিপদের আশংকা তৈরী করে দেয়।মেয়ের বাবা বলে কথা।লুবনার বাবা ইকবালের সামনে গিয়ে শান্ত চোখে বললো বাবা তুমি এখানে?সব ঠিক আছে তো?ইকবাল থতমত খেয়ে বললো আংকেল চিন্তা করবেন না।আসলে আমি এদিকে দেখতে এসেছিলাম যে সব ঠিক আছে কিনাএরই মাঝে মামাতো বোন রুবি ইকবালের হাত ধরে টানতে টানতে লুবনার সামনে নিয়ে আসলোআসলে দুলাভাই আপনি আপাকে দেখার জন্য এসেছেন তাইনা?ইকবাল মাথা নিচু করে আছে