Перейти к содержимому

ক্ষুধার বর্ণমালা /কলমে ও কণ্ঠে:জাকারিয়া আহমেদ -Zakaria Ahmed

জাকারিয়া আহমেদ-এর কবিতা

0:00 / 0:00

ক্ষুধার বর্ণমালা /কলমে ও কণ্ঠে:জাকারিয়া আহমেদ -Zakaria Ahmed

19 просмотров · 2 нед. назад
জাকারিয়া আহমেদ-এর কবিতা
162 подписчика
19 просмотров · 2 нед. назад
ক্ষুধার বর্ণমালা কলমে:জাকারিয়া আহমেদ এক ক্ষুধার্তকে জিজ্ঞেস করেছিলাম— “আপনি কী চান?” সে বলল— “ভাত।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম— “ভাত চাওয়ার এই পাঠ আপনাকে কে পড়িয়েছে?” সে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইল; তারপর মাথা নেড়ে বলল— “জানি না।” আমি আর কিছু বলিনি। শুধু দেখলাম— তার চোখের গভীরে একটি খালি থালা নিঃশব্দে পড়ে আছে। বললাম— “আর কী চান?” সে বলল— “পোশাক।” তখন বুঝলাম— মানুষের প্রথম পাঠশালা কোনো বিদ্যালয় নয়; তার পাকস্থলী। ক্ষুধা তাকে শেখায় ভাতের বর্ণমালা, শীত শেখায় কাপড়ের ভাষা, রাত্রি শেখায় একটি ছাদের প্রয়োজন। ভাত এলে পাকস্থলীর আগুন কিছুক্ষণের জন্য নেভে; কিন্তু মানুষের ভিতর তখন আরেকটি আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। পেট ভরলে মগজ জেগে ওঠে। সে তখন প্রশ্ন করে— “আমার ঘর কোথায়?” “আমার কণ্ঠ কোথায়?” “আমি কথা বললে দেয়ালগুলো এত উঁচু হয় কেন?” পোশাকের পর সে ঘর চায়; ঘরের পর একটি জানালা। জানালার পর সে শুধু আকাশ দেখতে চায় না— আকাশের দিকে তাকানোর অধিকার চায়। তারপর— একটি কণ্ঠ। নিজের নামে নিজের কথা বলার অবকাশ। যে হাত একদিন ভাতের জন্য উঠেছিল, সেই হাতই একদিন দরজায় কড়া নাড়ে। তারপর জানালায়। তারপর প্রাচীরে। একদিন সেই হাত প্রাচীরের ওপারে আকাশ মাপতে শেখে। তখন ক্ষুধা আর শুধু পাকস্থলীতে থাকে না। সে ঢুকে পড়ে চোখের ভিতর, কণ্ঠের ভিতর, স্বপ্নের ভিতর। মানুষ তখন কীভাবে বাঁচবে-   তা নয়,   সে কেন বাঁচবে-   তাও জানতে চায়। একটি রুটি পেটের আগুন নেভায়; একটি প্রশ্ন আগুন জ্বালায় আরও গভীরে। এইভাবেই— ভাত থেকে পোশাক, পোশাক থেকে ঘর, ঘর থেকে জানালা, জানালা থেকে কণ্ঠ, কণ্ঠ থেকে স্বাধীনতা— তারপর দর্শন, শিল্প, সভ্যতার দীর্ঘ পথ। শেষে দেখি— যে মানুষটি একদিন এক মুঠো ভাত চেয়েছিল, তার চোখে তখন পুরো আকাশের ক্ষুধা। খায় ত সব প্রাণী সবাই কিন্তু মানুষ হয়নি। পাকস্থলীর ক্ষুধা অন্নে থামে; মানুষের ক্ষুধা কখনো থামে না। একটি ক্ষুধার্ত পাকস্থলী ধীরে ধীরে একটি জাগ্রত মানুষ হয়ে ওঠে। আর সেই জাগরণ ঘটে মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ পাঠে অন্নহীন এক অজৈব ক্ষুধার বর্ণমালা থেকে।