Перейти к содержимому

ঢাকার এক অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের ঘটনা। আমার পুত্রবধূ আমাকে সবার সামনে "পুরানো কাজের বেটি" বলে অপমান,

Bengali audio story

0:00 / 0:00

ঢাকার এক অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের ঘটনা। আমার পুত্রবধূ আমাকে সবার সামনে "পুরানো কাজের বেটি" বলে অপমান,

1 470 просмотров · 4 дн. назад
Bengali audio story
4,33 тыс. подписчиков
1 470 просмотров · 4 дн. назад
ঢাকার এক অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের ঘটনা। আমার পুত্রবধূ আমাকে সবার সামনে "পুরানো কাজের বেটি" বলে অপমান করেছিল। কিন্তু আমি যখন শুধু একটি চাবি রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম, তখন আমার ছেলে জানতে পারল—যে বাড়িতে তারা রাজত্ব করছিল, সেটির আসল মালিক আসলে আমিই। ভোর ৬টা। রান্নাঘর থেকে চায়ের কোনো সুবাস আসছে না। বাড়ির সবাই হঠাৎ এমন কিছু উপলব্ধি করল যা তারা আগে কখনো ভাবেনি: যে মহিলাকে তারা "বার্ধক্যের বোঝা" মনে করত, আসলে তিনিই ছিলেন এই সংসারের মেরুদণ্ড।রান্নাঘর একদম পরিষ্কার। গ্যাসের চুলা বন্ধ। বাচ্চাদের টিফিন বক্স খালি পড়ে আছে। স্কুলের ইউনিফর্ম ইস্ত্রি করা হয়নি। আর ডাইনিং টেবিলে পড়ে আছে শুধু একটি চাবি।তার নিচে হাতে লেখা একটি ছোট্ট চিরকুট:"এখন থেকে আমার আত্মসম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমার নিজেরই।"প্রতিদিন ভোর ৫টায় শান্তা বেগম (৬৭) সেই চার বেডরুমের ফ্ল্যাটে ঘুম থেকে উঠতেন। জায়নামাজে বসে তসবিহ পাঠ শেষে তিনি আদা চা বানাতেন। এরপর নাতি আয়ান আর নাতনি আরিশার টিফিন গুছিয়ে দিতেন, ছোট নাতি নীলকে দুধ খাওয়াতেন, আর বড় পুত্রবধূ নিশার জন্য ডায়েট রুটি ও ছেলে আরিশের জন্য হালকা নাস্তা তৈরি করতেন।পুরো সংসারের বোঝা তিনি নিজের বয়সের ভারে নুয়ে পড়া হাঁটুতে বহন করতেন। কিন্তু সেই একই বাড়িতে প্রায়ই শোনা যেত:"সারাদিন করোটা কী মা? তুমি তো শুধু বসেই থাকো।"নিশা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাজতে সাজতে প্রায়ই এই কথা বলত, যেন এই সংসারটা জাদুর ছোঁয়ায় নিজে নিজেই চলে। আরিশ চুপ করে থাকত। আর ছেলের এই নীরবতা শান্তা বেগমকে যে কোনো কটু কথার চেয়েও বেশি কষ্ট দিত।আগের রাতটি ছিল সহ্যক্ষমতার শেষ সীমা।নিশার বন্ধুরা এসেছে। দামী পোশাক, উচ্চস্বরে হাসি আর চারদিকে টিকটক-রিলসের ছড়াছড়ি। এর মধ্যেই শান্তা বেগম চায়ের ট্রে নিয়ে এদিক-সেদিক দৌড়াচ্ছেন। ছোট নীল তার শাড়ির আঁচল ধরে কাঁদছে, আরিশা জ্বরে ধুঁকছে, আর আয়ান হোমওয়ার্ক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।নিশা বন্ধুদের সামনে হেসেই বলল:"আসলে মা’কে আমরা এখানেই রাখি যাতে একটু সাহায্য হয়। এই বয়সে আর তাকে কে দেখবে? অন্তত কাজের মধ্যে থাকলে তার সময়টাও কাটে।"একজন বন্ধু ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করল, "উনি কি তোমার মা?"নিশা একটু বাঁকা হাসিতে উত্তর দিল:"না, শাশুড়ি। তবে ঘরের টুকটাক কাজে বেশ কাজের।"সেই কথাটি শুধু শান্তা বেগমের কানে ঢোকেনি, তা সরাসরি তার বুক ফুঁড়ে চলে গেল। আরিশ সব শুনল, দেখল। কিন্তু সে শুধু ফোনের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল, "নিশা... থাক না এখন এসব।"কোনো প্রতিবাদ নেই, মায়ের পক্ষ নিয়ে কোনো কথা নেই। এমনকি মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে একবারও তাকাল না সে।সেদিন রাতে শান্তা বেগম নিরবে কাঁদলেন এবং কিছুই খেলেন না। নাতিরা তার ঘরে এল।"দাদু, তোমার কি মন খারাপ?"তিনি আয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। "না রে দাদু ভাই, আমি শুধু একটু ক্লান্ত।"কিন্তু সেই ক্লান্তিটা সাধারণ শরীরের ক্লান্তি ছিল না, ছিল বছরের পর বছর জমে থাকা অবহেলার ক্লান্তি।স্বামী মারা যাওয়ার পর শান্তা বেগম তার পেনশনের টাকা দিয়ে এই ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। আরিশ তখন মাত্র চাকরি শুরু করেছে। তিনি ভেবেছিলেন ছেলে থিতু হবে, তার বউ ঘরে মায়া আনবে আর জীবনটা শান্তিতে কাটবে। তিনি ফ্ল্যাটটি নিজের নামেই রেখেছিলেন, তবে ছেলেকে থাকতে দিয়েছিলেন।সংসারের বাজার খরচ, বাচ্চাদের স্কুলের বেতন, আরিশার চিকিৎসার বিল, গাড়ির কিস্তি—এমনকি নিশার অনলাইন শপিংয়ের টাকাও শান্তা বেগম তার জমানো সঞ্চয় থেকে দিচ্ছিলেন। অথচ তাকেই বলা হতো "পুরানো সেকেলে মহিলা যে কিছুই করে না।"পরদিন সকালে নিশা রান্নাঘরে ঢুকে ফ্যাকাশে হয়ে গেল।"আরিশ! মা তো ঘরে নেই!"আরিশ সব রুম খুঁজল। আলমারি খালি। মায়ের সব ওষুধ নেই। তার ব্যবহারের ট্রাঙ্কটি নেই। এমনকি বিছানার পাশের তাসবিহ আর জায়নামাজটাও নেই।আঠারো বার ফোন দেওয়ার পর শান্তা বেগম ধরলেন না।তিনি তখন চট্টগ্রামের একটি শান্ত গেস্টহাউসের জানালার পাশে বসে নিরিবিলি চা খাচ্ছিলেন—বহু বছর পর কারো হুকুম ছাড়া, কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়া প্রথমবার নিজের জন্য বাঁচছেন।এদিকে ঢাকার ফ্ল্যাটে হাহাকার। আরিশার জ্বর ১০২ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। আয়ান স্কুল বাস মিস করেছে। ক্ষুধার জ্বালায় নীল কাঁদছে। নিশার অফিস থেকে ঘনঘন ফোন আসছে। ফ্রিজ খালি—দুধ নেই, সবজি নেই, আটাও নেই।নিশা যখন বাজার করার কার্ডটা খুঁজতে গেল, দেখল সেটি ব্লক করা। আরিশ ব্যাংকের অ্যাপ চেক করে দেখল, তাদের জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে রাত ২:১৭ মিনিটে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।নিশা কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, "আরিশ... মা কি সব টাকা নিয়ে গেল?"ঠিক তখনই আরিশের ফোনে শান্তা বেগমের একটা মেসেজ এল:"যখন সম্মানকে সহজলভ্য মনে করা হয়, তখন তার মূল্য বুঝতে দেরি হয়ে যায়।"পাঁচ মিনিট পর এক আইনজীবীর ফোন এল আরিশের কাছে"জনাব আরিশ, আপনার মা একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপনাদের এই ফ্ল্যাটটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" আইনজীবীর ফোনটা পাওয়ার পর আরিশের হাত থেকে ফোনটা কার্পেটের ওপর পড়ে গেল। তার কানের ভেতরে তখনো শব্দটা বাজছে— "৩০ দিনের মধ্যে ফ্ল্যাট খালি করার নির্দেশ।"নিশা ড্রয়িংরুমের সোফায় ধপ করে বসে পড়ল। তার সাজগোজ করা মুখটা এখন ফ্যাকাশে। সে অবিশ্বাসের সুরে বলল, "মা এটা করতে পারে না আরিশ! এই ঘর, এই আসবাবপত্র—সব আমাদের। উনি আমাদের বের করে দেবেন মানে? ওনার তো আমাদের ছাড়া আর কেউ নেই!"আরিশ তিক্ত হাসল। তার চোখের সামনে কাল রাতের দৃশ্যটা ভেসে উঠল। বন্ধুদের সামনে নিশাকে সে থামায়নি, উল্টো মায়ের